ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে অনিয়মের অভিযোগ, স্বচ্ছ তদন্ত চায় বেসিস
ক.বি.ডেস্ক: আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত পরিচয় ও তথ্যের ব্যবহার, অর্ডার ও রিভিউ ব্যবস্থাপনা, কর্মী ও ফ্রিল্যান্সারদের অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কেটপ্লেসের নীতিমালা লঙ্ঘন সহ বিটোপিয়া গ্রুপ ও এর সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বেসিস কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বেসিস সহায়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জি. মোহাম্মদ জুয়েল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহায়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জি. আব্দুল্লাহ ইবনে নূরুল ইসলাম, মো. আহসান হাবিব, ইঞ্জি. ফেরদৌস আলম, মো. ফুয়াদ হাসান এবং মো. রাশেদ উল হক সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে ইঞ্জি. মোহাম্মদ জুয়েল বলেন, “বিটোপিয়া গ্রুপের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যথাযথ তদন্ত ছাড়া চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। অভিযোগগুলোর ধরন ও সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের সামগ্রিক ফ্রিল্যান্সিং কমিউনিটির সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হোক, বেসিস তা চায় না।”
তিনি বলেন, “সরকারের যেকোনও বৈধ তদন্ত বা অনুসন্ধানে বেসিস সহযোগিতা করবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা অন্য কোনও কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় তথ্য কিংবা সহযোগিতা চাইলে সংগঠনটি তার আইনগত এখতিয়ার ও সীমার মধ্যে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।”
বেসিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাসঙ্গিক তথ্য, সদস্যসংক্রান্ত রেকর্ড বা প্রাতিষ্ঠানিক নথি থাকলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সরবরাহ করা হবে। একই সঙ্গে বিষয়টিকে শুধু কোনও একটি প্রতিষ্ঠান বা নির্দিষ্ট ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতের কাঠামোগত বিষয়গুলোও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্টের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরা হয়। একজন ফ্রিল্যান্সারের নামে তৈরি মার্কেটপ্লেস অ্যাকাউন্টের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার কাছে থাকবে, কোনও প্রতিষ্ঠান কর্মী বা ফ্রিল্যান্সারের এনআইডি, পাসপোর্ট ও ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে ব্যবহার করতে পারবে, কর্মসংস্থান শেষ হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল পরিচয়ের নিয়ন্ত্রণ বা মালিকানা কীভাবে নির্ধারিত হবে এবং কোনও কোম্পানি বা এজেন্সি কতগুলো ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারবে এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দিয়েছে বেসিস।
সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে, প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, ভুয়া অর্ডার, কৃত্রিম রিভিউ, মার্কেটপ্লেস ম্যানিপুলেশন কিংবা কোনও আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা লঙ্ঘনকে বেসিস সমর্থন করে না। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করে ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বেসিসের সদস্য হলে সংগঠনের গঠনতন্ত্র, সদস্য আচরণবিধি ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি যাচাই করা হবে বলে জানানো হয়। প্রাথমিকভাবে গুরুতর অনিয়মের বিশ্বাসযোগ্য উপাদান পাওয়া গেলে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সদস্য বা প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া এবং তাদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অভিযোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ফ্রিল্যান্সার, সাবেক কর্মী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানিয়েছে বেসিস। কারও এনআইডি, পাসপোর্ট, ব্যক্তিগত তথ্য বা আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস অ্যাকাউন্ট অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা হয়ে থাকলে কিংবা অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ অন্য কোনও পক্ষের হাতে চলে গিয়ে থাকলে, তা জানানোর জন্য অভিযোগ ও প্রমাণ সংগ্রহের ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে তথ্যদাতাদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেয়া হবে।
বেসিসের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি জাতীয় ফ্রিল্যান্সিং ও মার্কেটপ্লেস পরিচালনা কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেয়ার প্রস্তাব করা হবে। এর পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সারদের পেমেন্ট গ্রহণের জটিলতা, আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ের সীমাবদ্ধতা, ব্যাংকিং সমস্যা, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, করসংক্রান্ত অস্পষ্টতা এবং ডিজিটাল পরিচয় সুরক্ষার মতো দীর্ঘমেয়াদি বিষয়গুলোর সমাধানের প্রয়োজন রয়েছে।
বক্তব্যে বলা হয়, একজন বা কয়েকজনের অনিয়মের দায় দেশের লাখও সৎ ফ্রিল্যান্সারের ওপর বর্তানো উচিত নয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সার দক্ষতা, সততা ও আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে কাজ করছেন এই বার্তাটি আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস ও বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছেও পৌঁছে দেয়া প্রয়োজন।
বেসিস জানায়, বিটোপিয়া গ্রুপকে ঘিরে অভিযোগের বিষয়ে সংগঠনটির অবস্থান স্পষ্ট কোনও পক্ষ নেয়া নয়, কোনও অভিযোগ ধামাচাপা দেয়া নয় এবং তদন্তের আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে ঘোষণা না করা। স্বচ্ছ তদন্ত, ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া, ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষা এবং বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং খাতের আন্তর্জাতিক সুনাম রক্ষার লক্ষ্যেই সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস, গণমাধ্যম এবং ফ্রিল্যান্সিং কমিউনিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে চায় বেসিস।





