বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৬, ডাক বিভাগ আধুনিকায়নে ৬ অগ্রাধিকার
ক.বি.ডেস্ক: প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, ই-কমার্সের প্রসার ও ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে ডাক বিভাগকে আধুনিক ও সমন্বিত নেটওয়ার্কে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ লক্ষ্যে ডিজিটাল ডাকঘর, সমন্বিত ডাক তথ্যভান্ডার, ই-কমার্স সরবরাহকেন্দ্র, ডিজিটাল আর্থিক সেবা, তথ্যনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব ডাকব্যবস্থাকে ছয়টি প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে ডাক অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’ প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশে ‘‘বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৬’’ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাক অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. সিরাজ উদ্দিন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং ই-কমার্সের বিস্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাক বিভাগকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিত সেবাব্যবস্থায় রূপান্তর করা জরুরি। দেশের বিস্তৃত ডাক নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে পণ্য পরিবহন, ই-কমার্সের সরবরাহব্যবস্থা, ডিজিটাল আর্থিক সেবা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সহজলভ্য সেবা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। ডাক বিভাগের বিদ্যমান অবকাঠামো ও দেশব্যাপী সেবাকেন্দ্রগুলোকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো গেলে অনলাইনভিত্তিক ব্যবসার প্রসার, পণ্য সরবরাহের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে বিভিন্ন সেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।
বক্তারা আরও বলেন, ডাক বিভাগের আধুনিকায়নে তথ্যনির্ভর ব্যবস্থাপনা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডাক বিভাগের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও সেবার মান বাড়াতে ছয়টি অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো-
১. ডিজিটাল ডাকঘর: প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ডাকঘরের সেবা সহজ, দ্রুত ও গ্রাহকবান্ধব করা।
২. সমন্বিত ডাক তথ্যভান্ডার: ডাক বিভাগের তথ্য ও কার্যক্রমকে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা।
৩. ই-কমার্স সরবরাহকেন্দ্র: অনলাইন ব্যবসার পণ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বাছাই ও সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকর করা।
৪. ডিজিটাল আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ: প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবার পরিধি বাড়িয়ে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো।
৫. তথ্যনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনা: তথ্য ও প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সেবার মান উন্নত করা।
৬. পরিবেশবান্ধব ডাকব্যবস্থা: ডাকসেবায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও কার্যক্রমের ব্যবহার বাড়ানো।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ডাক বিভাগের কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়বে এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি ও ই-কমার্স খাতে ডাক নেটওয়ার্কের অবদান আরও জোরদার হবে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাক বিভাগের সেবাব্যবস্থা আধুনিক করা গেলে দেশের ই-কমার্স, ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর ডাক নেটওয়ার্ক শুধু চিঠি ও পার্সেল পরিবহনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারবে।
বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী ডাকসেবা সপ্তাহ পালন করা হবে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি উৎসব, ডাকটিকিট সংগ্রহ ও প্রদর্শনী এবং ডাকসেবাবিষয়ক মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ১০ অক্টোবর সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম ছাড়া ডাক বিভাগের সব পর্যায়ের কার্যালয়ে ডাকসেবা প্রদানের ব্যবস্থা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।





