সাম্প্রতিক সংবাদ

একটি ভুল ক্লিকেই বড় ক্ষতি, সাইবার নিরাপত্তায় তরুণদের সতর্ক করল সিআইডি

ক.বি.ডেস্ক: একটি ভুল ক্লিক কিংবা অসতর্কভাবে ওটিপি শেয়ার করার কারণেই মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের আর্থিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত ক্ষতি। তাই সাইবার অপরাধ থেকে নিরাপদ থাকতে তরুণদের সচেতন ও দায়িত্বশীলভাবে প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডি বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর অপব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষ করে নারী ও তরুণদের ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি ও পরিচয়কে কেন্দ্র করে হয়রানি, প্রতারণা ও সাইবার অপরাধের ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সচেতন ও দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তোলা জরুরি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল অডিটোরিয়ামে ‘চিন্তা করে ক্লিক করুন; সাইবার জ্ঞানই আপনার সেরা নিরাপত্তা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সাইবার সচেতনতাবিষয়ক কর্মশালায় এসব কথা বলেন বক্তারা। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) আয়োজনে এবং বিকাশের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় রোকেয়া হলের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিআইডির ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি মো. সাইফুদ্দিন শাহীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিকাশ লিমিটেডের এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান এ কে এম মনিরুল করিম। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাহিদুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন রোকেয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম।

মো. সাইফুদ্দিন শাহীন বলেন, ‘‘বর্তমান প্রজন্ম একই সঙ্গে বাস্তব ও ডিজিটাল জগতে বসবাস করছে। প্রযুক্তির বিস্তার যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি তৈরি করেছে নতুন ধরনের ঝুঁকিও। সচেতনতাই সাইবার নিরাপত্তার প্রথম ও প্রধান হাতিয়ার। শিক্ষার্থীদের শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, ওটিপি ও পিন নম্বর গোপন রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করা এবং কোনও ধরনের সাইবার অপরাধের শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেয়ার আহ্বান জানচ্ছি।’’

মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘‘সাইবার অপরাধীরা অনেক সময় প্রযুক্তির দুর্বলতার চেয়ে মানুষের অসতর্কতাকেই বেশি কাজে লাগায়। ফলে সাইবার নিরাপত্তা এখন শুধু প্রযুক্তিবিদদের বিষয় নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি জরুরি জীবনদক্ষতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনও তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে অপতথ্য বা গুজব শেয়ার করবেন না। দায়িত্বশীলভাবে তথ্য যাচাই করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা সাইবার ঝুঁকি কমানোর অন্যতম উপায়।’’

এ কে এম মনিরুল করিম বলেন, ‘‘ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনে সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রসারের সঙ্গে প্রতারণার নতুন নতুন কৌশলও দেখা দিচ্ছে। তবে সচেতনতা এবং সঠিক তথ্য জানার মাধ্যমে এসব প্রতারণার ঝুঁকির বড় অংশ মোকাবিলা করা সম্ভব।’’

অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম বলেন, ‘‘শিক্ষার্থীরা যাতে সাইবার জগতে নিরাপদে চলাচল করতে পারে এবং কোনও ধরনের হয়রানির শিকার হলে নির্দ্বিধায় প্রতিবাদ ও অভিযোগ জানাতে পারে, সে জন্য হল প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে থাকবে। এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি থেকে অর্জিত জ্ঞান শুধু নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যেও ছড়িয়ে দেয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাই।’’

কর্মশালায় বক্তারা ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, ওটিপি ও পিন নম্বর কারও সঙ্গে শেয়ার না করা এবং অপরিচিত লিংক ও সন্দেহজনক বার্তা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি অনলাইন পরিচিতির ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং সাইবার হয়রানি বা প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত সাইবার পুলিশ সেন্টার অথবা নিকটস্থ থানায় অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *