ঢাকায় নাসা অ্যাস্ট্রো ক্যাম্প, হাতে-কলমে মহাকাশবিজ্ঞান শিখল খুদে শিক্ষার্থীরা
ক.বি.ডেস্ক: শিশুদের মধ্যে মহাকাশবিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরির লক্ষ্যে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে নাসা অ্যাস্ট্রো ক্যাম্প স্পেস সায়েন্স প্রোগ্রাম। গত ৫ নভেম্বর ইউনিভার্সেল টিউটোরিয়ালে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ৭ থেকে ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে মহাকাশবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় শেখার সুযোগ পায়।
বাংলাদেশে নাসা অ্যাস্ট্রো ক্যাম্পের কমিউনিটি পার্টনার স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্প এ আয়োজন করে। স্কুল পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা করে ইউনিভার্সেল টিউটোরিয়াল। এ কর্মসূচিতে নাসার উন্নয়নকৃত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক (স্টেম) কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সৌরজগৎ, রকেট প্রযুক্তি, মঙ্গলগ্রহের রোভার, চাঁদে বসতি স্থাপন এবং মহাকাশবিজ্ঞানের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করে।
বিশেষ করে রকেটের কার্যপদ্ধতি, মঙ্গলগ্রহে রোবটের ব্যবহার এবং মহাকাশে মানুষের বসবাসের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম শিশুদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। হাতে-কলমে এসব কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা, সৃজনশীলতা, দলগত কাজ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পায়।
স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের প্রেসিডেন্ট আরিফুল হাসান অপু বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শিশুদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করা। নাসা অ্যাস্ট্রো ক্যাম্পের মতো আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষামূলক কার্যক্রম শিশুদের মধ্যে নতুন কিছু জানার আগ্রহ, গবেষণার মানসিকতা এবং বড় স্বপ্ন দেখার সাহস তৈরি করে। ২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অন্তত ৫০টি স্কুলে নাসা অ্যাস্ট্রো ক্যাম্পের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজারো শিক্ষার্থীকে মহাকাশবিজ্ঞান শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।”
ইউনিভার্সেল টিউটোরিয়ালের প্রিন্সিপাল তাবিতা জহুর ইকবাল বলেন, “প্রকৃত শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিশুদের কৌতূহল, সৃজনশীলতা ও অনুসন্ধিৎসু মনোভাব বিকাশে হাতে-কলমে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। নাসা অ্যাস্ট্রো ক্যাম্পের মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের মহাকাশবিজ্ঞান সম্পর্কে নতুন জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে।”
আয়োজকরা জানান, শিশুদের মধ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক অনুসন্ধান, সৃজনশীল চিন্তা, নেতৃত্ব ও দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা গড়ে তুলতে এ ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে দেশের আরও বেশি শিক্ষার্থীর কাছে এ উদ্যোগ পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকে স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্প বাংলাদেশে শিশু-কিশোরদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, রোবোটিক্স, কোডিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশবিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, ৫০০টির বেশি শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছে তারা। শিশুদের কাছে মহাকাশবিজ্ঞানকে আরও সহজ, আনন্দময় ও বাস্তবভিত্তিক করে তোলার পাশাপাশি স্কুল পর্যায়ে আধুনিক বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে নাসা অ্যাস্ট্রো ক্যাম্প একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।





