সাম্প্রতিক সংবাদ

এশিয়া-প্যাসিফিকে ২.৫ লাখ র‍্যানসমওয়্যার হামলা ঠেকিয়েছে ক্যাসপারস্কি

ক.বি.ডেস্ক: ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে এশিয়া-প্যাসিফিক (এপিএসি) অঞ্চলে সাইবার হামলার তৎপরতা ছিল ব্যাপক। এ সময়ে অনলাইন রিসোর্স থেকে আসা ৭ কোটি ৫০ লাখ হামলা শনাক্ত ও প্রতিহত করেছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি। এর মধ্যে ছিল ৩৪ লাখ ব্যাকডোর হামলা, ২৪ লাখ পাসওয়ার্ড চুরির চেষ্টা এবং ২ লাখ ৫০ হাজার র‍্যানসমওয়্যার হামলা।

ক্যাসপারস্কি সিকিউরিটি নেটওয়ার্ক (কেএসএন)-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানিয়েছে ক্যাসপারস্কির গ্লোবাল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম (জিআরইএটি)।

ক্যাসপারস্কি জিআরইএটি-এর এপিএসি ও এমইটিএ গবেষণা ইউনিটের প্রধান সের্গেই লোজকিন বলেন, “২০২৬ সালের প্রথমার্ধে কিছু ধরনের হামলা সামান্য কমলেও এটিকে সাইবার হুমকি কমে যাওয়ার লক্ষণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং আমরা দেখছি, হামলাকারীরা রিকনেসান্স বা লক্ষ্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, ম্যালওয়্যার তৈরি এবং বড় পরিসরে হামলা চালানোর কাজে ক্রমেই এআই ব্যবহার করছে। এতে হামলাগুলো আরও দ্রুত এবং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মতো হয়ে উঠছে।”

২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ সাইবার নিরাপত্তা ঘটনার ২৪ শতাংশের পেছনে ছিল অ্যাডভান্সড পারসিস্টেন্ট থ্রেট (এপিটি)। এরপর ছিল সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ১৫ শতাংশ এবং ম্যালওয়্যার ১২ শতাংশ। ক্যাসপারস্কি জিআরইএটি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৯০০টিরও বেশি এপিটি গ্রুপ পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তু হওয়া ১২টি দেশের মধ্যে চীন, ভারত, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও ভিয়েতনাম এই পাঁচটি দেশই এপিএসি অঞ্চলের।

লোজকিন আরও বলেন, “ডিজিটাল রূপান্তর এবং এআই এজেন্ট ব্যবহারে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল বিশ্বে অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। সঙ্গে এই অঞ্চলের জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি যুক্ত হওয়ায় এটি অত্যাধুনিক ও দীর্ঘমেয়াদি সাইবার হামলাকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। তাই এ অঞ্চলে নিয়মিত থ্রেট ইন্টেলিজেন্স, শক্তিশালী সাইবার প্রতিরক্ষা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও গুরুত্বপূর্ণ।”

বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেইনে হামলাও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠছে। গত এক বছরে প্রায় প্রতি তিনটি প্রতিষ্ঠানের একটি সাপ্লাই চেইন-সংক্রান্ত সাইবার ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে। ইস্ক্যান, নোটপ্যাড++, ডেইমন টুলস ও অ্যাক্সিওস-কে ঘিরে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা দেখিয়েছে, কীভাবে সাইবার অপরাধীরা বিশ্বস্ত সফটওয়্যার ও ওপেন-সোর্স প্ল্যাটফর্মের ওপর আস্থা কাজে লাগিয়ে ম্যালওয়্যার ছড়াতে পারে এবং আক্রান্ত সিস্টেমে প্রবেশাধিকার ধরে রাখতে পারে। এর মধ্যে ডেইমন টুলস-কে ঘিরে একটি হামলায় ১০০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ২ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী আক্রান্ত হয়েছেন।

লোজকিন বলেন, “ওপেন-সোর্স সফটওয়্যারকে লক্ষ্য করে হামলার পরিমাণ বাড়ছে। ২০২৫ সালে আমরা ১৯,৪৮৪ টি ক্ষতিকর প্যাকেজ শনাক্ত করেছি, যা ২০২৪ সালের ১৪,১৯৭ টির তুলনায় ৩৭ শতাংশ বেশি। একই সময়ে হ্যাকটুল শনাক্তের সংখ্যাও ১১ শতাংশ বেড়ে ৩,৩০২ টিতে পৌঁছেছে। আধুনিক সফটওয়্যারে ওপেন-সোর্স উপাদানের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সফটওয়্যার সাপ্লাই চেইনের নিরাপত্তা জোরদার করাও জরুরি হয়ে পড়েছে।”

সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্যাসপারস্কি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এন্ডপয়েন্ট সিকিউরিটি, ইডিআর ও এক্সডিআর সমাধান ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি ম্যানেজড ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স (এমডিআর) এবং কার্যকর থ্রেট ইন্টেলিজেন্স ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবর্তনশীল সাইবার হুমকি দ্রুত শনাক্ত ও মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *