ঢাকার নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন সম্পন্ন, শক্তিশালী ৪জি-৫জি রেডি নেটওয়ার্কে রবি
ক.বি.ডেস্ক: রবি আজিয়াটা বৃহত্তর ঢাকাজুড়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের কাজ সম্পন্ন করেছে। নতুন প্রজন্মের গিগা গ্রিন ৪জি/৫জি রেডি প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে গ্রাহকরা এখন দ্রুতগতির ডেটা, পরিষ্কার ভয়েস কল এবং আরও শক্তিশালী ইনডোর কভারেজ পাচ্ছেন। গাজীপুর, সাভার, মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ সহ বৃহত্তর ঢাকায় ৪,৮০০টির বেশি সাইট আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহক অভিজ্ঞতা সর্বোচ্চ ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত হয়েছে এবং কল ড্রপ কমেছে ২০ শতাংশ।
রবির দাবি, বৃহত্তর ঢাকা ও গাজীপুরে ইনডোর কভারেজ আগের তুলনায় তিন গুণ উন্নত হয়েছে। পাশাপাশি নতুন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির কারণে প্রতি জিবি ডেটা ব্যবহারে বিদ্যুৎ খরচ কমেছে ২০ শতাংশ। এই আধুনিক নেটওয়ার্কের সুবিধায় ভিডিও স্ট্রিমিং, গেমিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য অভিজ্ঞতা পাবেন রবি ও এর ডিজিটাল লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড সার্কেলের গ্রাহকরা। এখন আধা-শহুরে এলাকাগুলোতে নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার কাজের দিকে নজর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ঢাকার তেজগাঁওয়ে রবির করপোরেট অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি) রেহান আসিফ আসাদ, বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী, রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াদ সাতারা এবং চিফ টেকনোলজি অফিসার পেরিহান এলহামে আহমেদ মেতাওয়েহ।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “আমাদের সরকার বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের মাধ্যমে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গ্রাহকদের আরও ভালো সেবা দিতে রবির নেটওয়ার্কে বড় বিনিয়োগ দেখে আমি উৎসাহিত। এই মাইলফলকের জন্য রবিকে অভিনন্দন জানাই। সব নাগরিকের কাছে ডিজিটাল সুবিধা পৌঁছে দিতে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা করতে প্রস্তুত। তবে মোবাইল অপারেটরদের তাদের নেটওয়ার্কে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে হবে।”
উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, “শিল্পখাত আরও পরিণত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেবার মানই এখন প্রতিযোগিতার প্রধান বিষয় হয়ে ওঠেছে। ঢাকার নেটওয়ার্ক নতুন করে সাজিয়ে রবি তার প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে দেখে আমি আনন্দিত। গ্রাহকরা ভালো মানের সেবা পেলে সেটি সবার জন্যই লাভজনক।”
এমদাদ উল বারী বলেন, “একজন প্রকৌশলী হিসেবে আমি বুঝতে পারি, মাত্র তিন মাসে প্রায় ৪,৮০০টি সাইটে কাজ সম্পন্ন করা একটি অবিশ্বাস্য ও বিস্ময়কর অর্জন। গ্রাহকদের জন্য মানসম্মত ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়ার কারণে রবি দ্বিগুণ অভিনন্দন প্রাপ্য। ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে এই মুহূর্তে আমাদের ঠিক এ ধরনের উদ্যোগই প্রয়োজন।”
জিয়াদ সাতারা বলেন, “ঢাকায় এখন রবির নেটওয়ার্ক সবচেয়ে শক্তিশালী। রবি শিগগিরই চট্টগ্রামের নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের কাজও শেষ করবে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের সেরা মানের নেটওয়ার্ক হিসেবে তার অবস্থান ধরে রাখবে। এই শ্রেষ্ঠত্ব শুধু বিজ্ঞাপনে নয়, বাস্তব নেটওয়ার্ক অভিজ্ঞতাতেও দেখা যাবে। ঢাকার প্রতিটি এলাকায় একই মানের সেবা পৌঁছে দিতে সাইট স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা পেতে মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির জরুরি সহযোগিতা চাই।”
রবি ধারাবাহিকভাবে নেটওয়ার্ক প্রযুক্তিতে নতুনত্ব এনেছে। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি দেশের ৬৪ জেলায় ৪জি সেবা চালু করে। বর্তমানে রবির ৪জি গ্রাহকের হার ৭২ শতাংশ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রবি নির্দিষ্ট উচ্চ-ট্রাফিক এলাকা ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে, বাণিজ্যিকভাবে ৫জি সেবা চালু করে।
২০২০ সাল রবি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ৯,৩৩১ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে রবি ৭২১.৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এর ফলে ৪জি সাইটের সংখ্যা ১৯,৬০০ ছাড়িয়েছে এবং দেশের জনসংখ্যার ৯৮.৯৮ শতাংশ এখন রবির ৪জি নেটওয়ার্ক কভারেজের আওতায়।





