এশিয়া-প্যাসিফিকে মোবাইল হুমকি বেড়েছে ৪৯%, বাংলাদেশে ১০৮%: ক্যাসপারস্কি
ক.বি.ডেস্ক: এশিয়া-প্যাসিফিক (এপিএসি) অঞ্চলের আটটি দেশে মোবাইল হুমকির শিকার প্রতি ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে শনাক্ত হুমকির গড় সংখ্যা এক বছরে ৪৯ শতাংশ বেড়েছে। গ্লোবাল সাইবার সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে আক্রান্ত প্রতি ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে গড়ে ৪ দশমিক ৯টি থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ৩টি মোবাইল হুমকি শনাক্ত হয়েছে।
আটটি দেশেই এই বৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে একই সময়ে মোবাইল হুমকির শিকার মোট ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমেছে। অর্থাৎ, আগের তুলনায় কমসংখ্যক ব্যবহারকারীকে লক্ষ্য করা হলেও তাদের ওপর হামলা হচ্ছে আরও বেশি এবং ধারাবাহিকভাবে।
বাংলাদেশে মোবাইল হুমকি শনাক্তের সংখ্যা এক বছরে ১০৮ শতাংশ বেড়ে ১,৮৫৯ টিতে পৌঁছেছে। থাইল্যান্ডে শনাক্ত হুমকির সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ২,৪৯৪ টিতে পৌঁছেছে। আক্রান্ত ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় দেশটিতে প্রতি ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে শনাক্ত হুমকির সংখ্যা ৩ থেকে বেড়ে ১১ দশমিক ৯টিতে দাঁড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কায় হুমকি শনাক্তের হার ১৩২ শতাংশ বেড়ে ৯২২ টিতে পৌঁছেছে। সেখানে প্রতি ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে শনাক্ত হুমকির সংখ্যা ৫ দশমিক ৫ থেকে বেড়ে ১৭ দশমিক ৪টিতে ওঠেছে।
ফিলিপাইনে শনাক্ত হুমকি ২৮ শতাংশ বেড়ে ২,০১১টিতে পৌঁছেছে। চীনে শনাক্ত হয়েছে ৬,৭৯৭টি হুমকি, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। চীন ও বাংলাদেশ ছিল একমাত্র দুটি বাজার, যেখানে একই সঙ্গে শনাক্ত হুমকি এবং আক্রান্ত ব্যবহারকারীর সংখ্যা দুটিই বেড়েছে। মোট শনাক্তকরণের হিসাবে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া এখনও এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় বাজার। দেশ দুটিতে যথাক্রমে ১৮,১৮৭টি ও ১৫,১৬৩টি মোবাইল হুমকি শনাক্ত হয়েছে।
গবেষণায় মোবাইলভিত্তিক প্রতারণার প্রবণতাও বাড়তে দেখা গেছে। ভুয়া অফার, ফিশিং পেজ, ক্ষতিকর বিজ্ঞাপন, প্রতারণামূলক জরিপ সহ বিভিন্ন স্যোসাল ইঞ্জিয়ারিং কৌশলের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর লগইন তথ্য ও ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করা হচ্ছে। মেসেজিং অ্যাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভুয়া চাকরির প্রস্তাব, ক্রিপ্টোকারেন্সি উপহার এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্রচারণার মাধ্যমে ফিশিং লিংক ছড়ানো হচ্ছে।
এ ছাড়া হ্যাক হওয়া মেসেজিং অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বিশ্বস্ত পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে এসেছে বলে মনে হয় এমন ক্ষতিকর লিংকও ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ও সরকারি সেবা পোর্টালের লগইন তথ্য এখন হামলাকারীদের কাছে মূল্যবান লক্ষ্য হয়ে ওঠেছে।
মোবাইল ম্যালওয়্যারও ক্রমে আরও অত্যাধুনিক হয়ে ওঠছে। কিছু ক্ষতিকর কনটেন্ট ব্যবহারকারীর খুব কম বা কোনও ধরনের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়াই কাজ করতে পারে। আবার একাধিক ধাপে পরিচালিত হামলার কারণে এগুলো শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। ভারতে রিওয়ার্ডস্টিল ও থামেরা-এর মতো ম্যালওয়্যার সক্রিয় রয়েছে। একই সঙ্গে এআই ব্যবহারের কারণে প্রতারণামূলক বার্তা আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠছে। এআই-নির্ভর বার্তা, নকল কণ্ঠস্বর এবং ডিপফেক কনটেন্ট ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
ক্যাসপারস্কির এপিএসি অঞ্চলের কনজ্যুমার চ্যানেল-এর প্রধান চুন হং চি বলেন, “এপিএসি অঞ্চলে মোবাইল হুমকি ক্রমেই আরও অত্যাধুনিক হয়ে ওঠছে। সাইবার অপরাধীরা গোপন হামলার কৌশল, দীর্ঘস্থায়ী ম্যালওয়্যার এবং এআই-নির্ভর কৌশল একসঙ্গে ব্যবহার করছে। প্রতারণা যখন আরও বিশ্বাসযোগ্য এবং শনাক্ত করা কঠিন হয়ে উঠছে, তখন এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন, যা ব্যবহারকারী হামলার শিকার হয়েছেন বুঝতে পারার আগেই সক্রিয়ভাবে হুমকি শনাক্ত করতে পারে।”
নিরাপদ থাকতে ক্যাসপারস্কি অ্যাপ ও লিংকে প্রবেশের আগে সেগুলোর সত্যতা যাচাই, পুরস্কার বা আকর্ষণীয় অফারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা, অ্যাপের অনুমতিগুলো নিয়মিত পর্যালোচনা করা, মাল্টি-ফ্যাক্টর অ্যাথেনটিকেশন (এমএফএ) চালু রাখা, সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট করা এবং বিশ্বস্ত মোবাইল সাইবার নিরাপত্তা সমাধান ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।





