অন্যান্য মতামত

এআই উন্নয়নের পেছনের অন্ধকার, বিশ্বজুড়ে যেভাবে বই ধ্বংস করা হচ্ছে

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক মৃধা (সোহেল মৃধা): সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি তথ্য ব্যক্তিগতভাবে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে। নীলক্ষেতের পুরোনও বইয়ের গলি কিংবা পুরান ঢাকার বাংলাবাজারের মেহগনি কাঠের আলমারিগুলোর দিকে তাকালে আজকাল আমার বুকটা সত্যি কেঁপে ওঠে। ২০২৬ সালের এই আগস্টে দাঁড়িয়ে আমরা যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর বিস্ময়কর ক্ষমতা দেখে আশান্বিত হচ্ছি, ঠিক তখনই আন্তর্জাতিক মেধা সম্পদের জগতে এক নীরব কিন্তু ভয়াবহ ঘটনা ঘটে চলেছে।

যে সিলিকন চিপ আর হাই-টেক ডেটা সেন্টারের ওপর ভর করে ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিক, মেটা, গুগল কিংবা চীনা প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের মতো জায়ান্টরা তাদের এআই মডেলগুলোকে শিক্ষিত করছে, তার পেছনে লুকিয়ে আছে হাজার হাজার বিরল ও প্রাচীন কাগজের বই কেটে গুঁড়িয়ে ফেলার এক অমানবিক গল্প।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, ৪০৪ মিডিয়া এবং দ্য ডেইলি স্টার-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের নথি থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে এক শিউরে ওঠার মতো বাস্তবতা সামনে আসে। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি পুরোনও, বিরল ও আউট-অব-প্রিন্ট বই পাইকারি দরে কিনে নিচ্ছে এআই কোম্পানিগুলো। তারপর শিল্পকারখানার স্ক্যানারে ডিজিটাইজ করার পরেই সেই বইগুলোকে সরাসরি রিসাইকেলিং মেশিনে পাঠিয়ে মণ্ডে রূপান্তর করা হচ্ছে। প্রযুক্তির এই চরম উৎকর্ষের যুগে কেন কাগজের বই কেটে ধ্বংস করা হচ্ছে, তা বুঝতে হলে এর পেছনের আইনি ও বাণিজ্যিক অংকটি জানা জরুরি।

ফ্রি ফাইল ডাউনলোড থেকে বই কিনে কেটে ফেলার পেছনের ঘটনা
বই ধ্বংস করে এআই প্রশিক্ষণের এই সংস্কৃতি কিন্তু একদিনে গড়ে ওঠেনি। এর পেছনে আন্তর্জাতিক আইনি চাপ ও কৌশলগত পরিবর্তনের ইতিহাস জড়িত। ২০১০ থেকে ২০১৫ সালের দিকে গুগলের বিখ্যাত গুগল বুকস প্রকল্প-এর মাধ্যমে এর সূচনা হয়েছিল। তারা বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ বই ডিজিটাইজ করার উদ্যোগ নিয়েছিল বিশ্বব্যাপী জ্ঞানকে ডিজিটাল লাইব্রেরিতে নিরাপদে রক্ষা করার জন্য। সে সময় বিশেষ রোবোটিক স্ক্যানার ব্যবহার করে বইয়ের কোনও ক্ষতি না করেই স্ক্যান করা হতো।

সরকারের উচিত এখনই জাতীয় এআই নীতি ও দেশের কপিরাইট আইনে বই ধ্বংস করে ডেটা সংগ্রহকে আইনি অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা

কিন্তু ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে এআই প্রযুক্তিতে ট্রান্সফরমার আর্কিটেকচার উদ্ভাবনের পর ডেটা চাহিদা শতগুণ বেড়ে যায়। তখন এআই ডেভেলপাররা ইন্টারনেটের পাইরেটেড ডেটাবেজ (যেমন: বুকস৩, স্ম্যাশওয়ার্ডস, লাইব্রেরি জেনেসিস) থেকে বিনামূল্যে লাখ লাখ বইয়ের ফাইল নামিয়ে তাদের মডেল ট্রেইন করতে শুরু করে।

সংকট তৈরি হয় ২০২২ সালের শেষভাগে চ্যাটজিপিটি বাজারে আসার পর। বড় লেখক ও প্রকাশকরা এআই কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কোটি কোটি ডলারের কপিরাইট লঙ্ঘনের মামলা ঠুকে দেন। আইনি বিপদে পড়ে এআই জায়ান্টরা তখন নতুন কৌশল আঁটে। তারা বুঝতে পারে ইন্টারনেট থেকে চুরি করা বা পাইরেটেড বই ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু বাজার থেকে যদি সরাসরি শারীরিক বই কিনে নেয়া যায়, তবে আইনের ফাঁক গলে বাঁচা সম্ভব। এই চিন্তা থেকেই জন্ম নেয় আজকের বই কিনে কেটে ফেলার পাইকারি ইন্ডাস্ট্রি।

ইন্টারনেট ছেড়ে কেন পুরোনও বইয়ের ওপর এই নির্ভরতা
ইন্টারনেটে কোটি কোটি ওয়েবসাইটের লেখা থাকা সত্ত্বেও কাগজের বইয়ের প্রতি তাদের এত লোভের কারণ একটি বিশ্বমানের বৃহৎ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল তৈরি করতে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন টোকেন বা বিশুদ্ধ শব্দ লাগে। গড়ে একটি বই থেকে প্রায় ১ লাখ থেকে ১.৫ লাখ খাঁটি টোকেন পাওয়া যায়। বর্তমানে ইন্টারনেটের সিংহভাগ জায়গা ছেয়ে গেছে নিম্নমানের এআই-উৎপাদিত লেখায়, যাকে বলা হচ্ছে ‘এআই স্লপ’। কোনও এআই যদি অন্য এআই-এর তৈরি লেখা পড়ে আবার নিজেকে শিক্ষা দেয়, তবে তার মেধা ও যুক্তিবোধ পুরোপুরি ধসে পড়ে।

বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘মডেল কলাপ্স’। ঠিক এই জায়গাতেই পুরোনও বইয়ের আসল কদর। গবেষকদের মতে, ২০২২ সালের আগে ছাপা হওয়া যেকোনও বই সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত এবং ব্যাকরণগতভাবে সমৃদ্ধ। তাই এআই-এর ডেটা খরা কাটাতে এই পুরোনও বইগুলোই এখন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাছে খাঁটি ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ কাঁচামাল।

বাজার থেকে যদি সরাসরি শারীরিক বই কিনে নেয়া যায়, তবে আইনের ফাঁক গলে বাঁচা সম্ভব। এই চিন্তা থেকেই জন্ম নেয় আজকের বই কিনে কেটে ফেলার পাইকারি ইন্ডাস্ট্রি

সিলিকন ভ্যালির দৃষ্টিভঙ্গি ও তাদের অদ্ভুুত যুক্তি
সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি নির্বাহীদের মনস্তত্ত্ব ও আইনি যুক্তি বিশ্লেষণ করলে তাদের বিষাক্ত অহংকারের চিত্র পরিষ্কার হয়ে ওঠে। তারা মনে করে, সোশ্যাল মিডিয়া বা ব্লগের ভাষা কুযুক্তি ও ভুল বানানে ভরা, যার তুলনায় একটি বই হলো বছরের পর বছর ধরে চালানো গবেষণা ও সম্পাদনার ফসল। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক আইনের প্রথম-বিক্রয় নীতি তাদের এই আইনি সাহস জুগিয়েছে। তাদের হিসাব হলো, টাকা দিয়ে যখন বই কিনে নিয়েছি, তখন স্ক্যান করার পর সেই বই গুদামে রাখা মানে বাড়তি ভাড়া আর ঝামেলা। তাই স্পাইন কেটে স্ক্যান করে রিসাইকেলিংয়ে পাঠানোই সবচেয়ে সাশ্রয়ী।

সবচেয়ে ভয়ানক বিষয় হলো তাদের মানসিকতা। এআই প্রস্তুতকারকরা বিশ্বাস করে যে, পুরো বইটিকে স্ক্যান করে এআই-এর মেমরিতে ঢুকিয়ে নেয়া মানেই তো জ্ঞানকে রক্ষা করা, তাহলে আর কাগজের কী দরকার! কিন্তু তারা বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে যে, এআই কখনও বইয়ের বিকল্প হতে পারে না; এআই কেবল গাণিতিক ডেটা প্রসেস করে মাত্র।

আন্তর্জাতিক বাজার থেকে যেভাবে বই সংগ্রহ করা হয়
এটি কোনও একক দেশ বা কোম্পানির কাজ নয়, বরং বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত এক সুবিশাল সাপ্লাই চেইন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া এমনকি ভারতের পুরোনও বইয়ের পাইকারি বাজার, বন্ধ হয়ে যাওয়া লাইব্রেরি বা ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে এককালীন ৫০ হাজার থেকে ১০ লাখ পর্যন্ত বই কিনে নিচ্ছে বিশেষ ব্রোকার এজেন্সিগুলো (যেমন আইএসবিএনডিবি বা জুম বুকস)।

সংগ্রহের পর শুরু হয় ভারী কাটিং ও স্ক্যানিং। লাখ লাখ পৃষ্ঠার বই পাতা উল্টে স্ক্যান করা অসম্ভব। তাই কারখানায় ব্যবহৃত ভারী কাটিং মেশিন (গিলোটিন) দিয়ে বইয়ের বাঁধাই নিমিষে কেটে একদম আলগা করে দেয়া হয়। এরপর সেই আলগা পাতাগুলো হাই-স্পিড স্ক্যানারে দিলে মিনিটে হাজার হাজার পৃষ্ঠা ওসিআর প্রযুক্তিতে ডেটায় রূপান্তর হয়ে যায়। স্ক্যান শেষে সেই কাটা পাতাগুলো ট্রাকে করে সরাসরি পাঠিয়ে দেয়া হয় পেপার মিলে, মণ্ডে রূপান্তর করার জন্য।

এই ধ্বংস প্রক্রিয়া কেবল কাগজের বিনাশ নয়, এটি মানুষের মেধা ও স্মৃতির ওপর এক অপূরণীয় আঘাত

খরচ কমানো ও মামলা এড়ানোর অর্থনৈতিক হিসাব
এই ধ্বংসলীলার পেছনে রয়েছে বিশাল আর্থিক লাভ-ক্ষতির অঙ্ক। ইন্টারনেট থেকে বই পাইরেসি করলে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ ও মামলার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু বিক্রি হওয়া বই নগদ টাকায় কিনে নিলে আন্তর্জাতিক প্রথম-বিক্রয় নীতি ও ন্যায্য ব্যবহার নীতির কারণে কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আদালতে জয় পাওয়া কঠিন।

প্রকাশকদের সঙ্গে চুক্তি করে ডিজিটাল রয়্যালটি দিতে গেলে প্রতি বইয়ের জন্য বারবার মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে হতো। কিন্তু পাইকারি দরে পুরোনও বই কিনে নিলে এককালীন সামান্য খরচ হয়, যা তাদের পুরো প্রক্রিয়ার প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ খরচ বাঁচিয়ে দেয়। অর্থাৎ, প্রকাশকের পাওনা ও রয়্যালটির ঝামেলা এড়াতে বই কিনে কেটে ফেলাই সবচেয়ে নিরাপদ ও সস্তা পথ মনে হয়েছে।

ইতিহাস ও স্মৃতি চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি
এই ধ্বংস প্রক্রিয়া কেবল কাগজের বিনাশ নয়, এটি মানুষের মেধা ও স্মৃতির ওপর এক অপূরণীয় আঘাত। বিশ্বজুড়ে বহু ঐতিহাসিক, প্রাচীন সাহিত্য বা বিজ্ঞানবিষয়ক আউট-অব-প্রিন্ট বইয়ের হয়তো পৃথিবীতে মাত্র ২-৩টি কপিই অবশিষ্ট ছিল। এআই ব্রোকারদের হাতে পড়ে সেই শেষ অনুলিপিগুলোও যখন কাটা পড়ছে, তখন মানব সভ্যতার অনেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় চিরতরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে।

আমরা যদি সব বই কেটে এআই-এর পেটে ঢুকিয়ে দিয়ে ভৌত অস্তিত্ব ধ্বংস করে ফেলি, তবে ভবিষ্যতে কোনও বড় ধরনের সাইবার বিপর্যয় বা ডেটা সার্ভার ক্র্যাশ ঘটলে মানবজাতি তার ইতিহাস ও জ্ঞান আর কখনও উদ্ধার করতে পারবে না। অতীতে স্বৈরাচারী শাসকরা ইতিহাস মুছে ফেলার জন্য লাইব্রেরি পুড়িয়ে দিত, আজ প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক লাভের দোহাই দিয়ে আধুনিক উপায়ে সেই একই বুক-বার্নিং চালানো হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে শুরু হওয়া প্রতিরোধ ও নতুন প্রযুক্তি
তবে এই বাস্তবতা উন্মোচিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে আইনি ও প্রযুক্তিগত লড়াই শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অথরস গিল্ড এবং যুক্তরাজ্যের সোসাইটি অব অথরস দাবি তুলেছে, যেকোনও বই ডিজিটাইজ করার আগে লেখকের লিখিত অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং ভৌত বই ধ্বংসের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আনতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও তাদের টেক্সট ও ডেটা মাইনিং আইনের আওতায় অনিয়ন্ত্রিত বই কেনা ও স্ক্যান করার ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেছে।

পাশাপাশি গবেষকরা বইয়ের পাতায় এক ধরনের সূক্ষ্ম অদৃশ্য কেমিক্যাল ওয়াটারমার্ক বা ডিজিটাল ট্র্যাপ যুক্ত করছেন। এই বই স্ক্যানারে দিলে এআই-এর স্ক্যানিং সিস্টেম ভুল ও বিভ্রান্তিকর ডেটা রিড করবে, ফলে বইটি স্ক্যান করলেও ডেটা নষ্ট হয়ে যাবে।

প্রগতির দোহাই দিয়ে নতুন ‘ডিজিটাল এআই’ গড়ার জন্য পুরোনো ‘অ্যানালগ ইতিহাস’ ধ্বংস করার এই প্রবণতা মানব সভ্যতার এক বড় নীতিগত দেউলিয়াত্ব

বাংলাদেশের পরিস্থিতি ও আমাদের জরুরি করণীয়
আপাতদৃষ্টিতে এই আন্তর্জাতিক ডেটা সংগ্রহের বিষয়টি উন্নত বিশ্বের ঘটনা মনে হলেও, দক্ষিণ এশীয় অঞ্চল হিসেবে বাংলাদেশের সাহিত্য ও ইতিহাসের ওপর এর মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। আমাদের দেশে বর্তমানে এআই নিয়ে যে নীতি তৈরি হচ্ছে, তার প্রায় সবটুকুই কেন্দ্রীভূত রয়েছে ফ্রিল্যান্সিং, প্রযুক্তি খাত বা প্রবৃদ্ধির ওপর। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো যে ভৌত বই কেটে ধ্বংস করছে এবং আমাদের প্রাচীন সাহিত্য ও নথির দিকে নজর দিচ্ছে এই ‘ধ্বংসাত্মক ডেটা মাইনিং’ বা মেধা পাচারের বিষয়টি সরকারের নীতি-নির্ধারকদের ভাবনার বাইরে রয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক ব্রোকারদের নজর এখন বাংলা ভাষার প্রাক-ইন্টারনেট যুগের দুষ্প্রাপ্য সাহিত্য ও নথির দিকে। বিশেষ করে পুরান ঢাকার বাংলাবাজার কিংবা নীলক্ষেতের মতো দেশের বিশাল ও অনিয়ন্ত্রিত পুরোনো বইয়ের পাইকারি হাবগুলো তাদের জন্য সহজ লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। নামমাত্র মূল্যে এসব বাজার থেকে যদি আমাদের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ বা ভাষা আন্দোলনের বিরল বইগুলো কিনে কেটে স্ক্যান করা হয়, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমাদের নিজস্ব লিখিত ঐতিহ্য চিরতরে হারিয়ে যাবে।

তাই সরকারের উচিত এখনই জাতীয় এআই নীতি ও দেশের কপিরাইট আইনে বই ধ্বংস করে ডেটা সংগ্রহকে আইনি অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা। একই সঙ্গে জাতীয় লাইব্রেরি, বাংলা একাডেমি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচিত আমাদের বিরল বইগুলোকে অক্ষত রেখে নিজস্ব প্রযুক্তিতে দ্রুত ডিজিটাল নেটওয়ার্কে সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নেয়া।

যে বই শত শত বছর ধরে মানব সভ্যতার চিন্তা, সাহিত্য ও স্মৃতিকে ধরে রেখেছে, আজ সেই বই বলি হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গাণিতিক ক্ষুধা মেটাতে। প্রগতির দোহাই দিয়ে নতুন ‘ডিজিটাল এআই’ গড়ার জন্য পুরোনো ‘অ্যানালগ ইতিহাস’ ধ্বংস করার এই প্রবণতা মানব সভ্যতার এক বড় নীতিগত দেউলিয়াত্ব। প্রযুক্তি আমাদের সামনে নিয়ে যাক, কিন্তু সেই প্রযুক্তির ভিত যদি মানুষের শত বছরের অমূল্য বই কেটে তৈরি হয়, তবে যে নতুন পৃথিবী তৈরি হবে, তা হবে জ্ঞানহীন ও আত্মাহীন এক যান্ত্রিক সমাজ। সময় এসেছে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে এই সুক্ষ্ম ধ্বংসলীলার বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ার।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *