সাম্প্রতিক সংবাদ

শুধু প্রযুক্তি নয়, নাগরিক সেবার রূপান্তরই ডিজিটাল সরকারের লক্ষ্য: বাকুতে আইসিটিমন্ত্রী

ক.বি.ডেস্ক: শুধু সরকারি সেবা অনলাইনে নিয়ে আসাই ডিজিটাল রূপান্তর নয়; বরং নাগরিকের জন্য সেবা কতটা সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও সহজলভ্য হলো, তার ওপরই নির্ভর করে এই রূপান্তরের সাফল্য। প্রযুক্তির ব্যবহার বা সংখ্যা দিয়ে নয়, নাগরিকের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ডিজিটাল সরকারের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত ‘জাতিসংঘ প্রশাসনিক উদ্ভাবন সম্মেলন: ভবিষ্যৎ উপযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অষ্টম অধিবেশনে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘প্রশাসনিক উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎমুখী শাসনব্যবস্থায় প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা’।

অধিবেশনে লেসোথোর মন্ত্রী মোয়েকেতসি মোৎসোয়ানে, মৌরিতানিয়ার ব্রাহিম বুলখেইর এবং মেক্সিকোর ক্যারোলিনা প্লাটা লোপেজ অংশ নেন। সঞ্চালনা করেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের অধীন জনসেবা ও সামাজিক উদ্ভাবনবিষয়ক রাষ্ট্রীয় সংস্থার (এসএপিএসএসআই) উপপ্রধান জেহুন সালমানভ। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ভবিষ্যৎ উপযোগী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, প্রশাসনিক উদ্ভাবন এবং জনসেবায় প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিয়ে মতবিনিময় করেন।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি প্রশাসনের পরিবর্তন সম্ভব নয়। প্রযুক্তিগত সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলেও সেটিকে জনকল্যাণে রূপ দিতে প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি। নতুন প্রযুক্তি চালুর আগে সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা, বিদ্যমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়া পর্যালোচনা, অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমানো, প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নির্ধারণ এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি।”

তিনি বলেন, “ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতার ওপর জোর দিতে হবে। এগুলো হলো সক্ষম প্রতিষ্ঠান, দক্ষ জনবল এবং জনগণের আস্থা। সক্ষম প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে স্পষ্ট জবাবদিহি, আন্তসংযোগযোগ্য তথ্যব্যবস্থা ও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক মানসিকতাসম্পন্ন জনবল তৈরি করতে হবে। অন্যদিকে, তথ্যের সুশাসন, সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষা এবং সহজ অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রযুক্তি নাগরিককে সরকারি ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বাধ্য করবে না; বরং সরকারি ব্যবস্থাই নাগরিকের সঙ্গে খাপ খাওয়াবে। প্রযুক্তি শুধু সেবা প্রদানের মাধ্যম নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে সংস্কার ত্বরান্বিত করারও একটি কার্যকর উপায়। এ কারণে বাংলাদেশে প্রশাসনিক সংস্কার ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন পাশাপাশি এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের প্রশাসনকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে পারে। সরকার এই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই কাজ করছে।”

আলোচনা শেষে মন্ত্রী বলেন, কাগজভিত্তিক পদ্ধতিকে শুধু অনলাইনে স্থানান্তরের প্রচলিত ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে নাগরিকের প্রয়োজন অনুযায়ী পুরো সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া নতুন করে সাজানো হচ্ছে। এর ফলে অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ধাপ কমছে এবং সরকারি সেবা আরও দ্রুত, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক হয়ে ওঠছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *