সফটওয়্যার

দেশের সফটওয়্যার খাত বড় হচ্ছে

দেশের সফটওয়্যার খাত বড় হচ্ছে।সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেশী সফটওয়্যার ব্যবহারের প্রবণতাও বাড়ছে। ব্যাংকিং খাতে দেখা গেছে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।বর্তমানে ৩১টি ব্যাংক আট ধরনের দেশি সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। দেশে অর্ধেকেরও বেশি ব্যাংক এখন চলছে দেশীয় সফটওয়্যারে। একসময় দেশীয় সফটওয়্যারেই পরিচালিত হবে ব্যাংকিং খাত বলে মনে করছেন ব্যাংকিং খাতে সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সুত্র মতে,দেশে ৫৯টি ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ৩১টি ব্যাংক কোর ব্যাংকিংসহ আট ধরনের দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহার করছে।

বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর

এ প্রসঙ্গে দেশের সফটওয়্যার খাতের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন,ব্যাংকগুলোতে দেশীয় সফটওয়্যারের ব্যবহার অন্যদেরও দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহার করতে আত্মবিশ্বাস জোগাবে। আর্থিকখাতে বিদেশী সফটওয়্যার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তথ্য পাচারের ঝুঁকি থেকে যায়। তারা কখনও ম্যালওয়্যার ঢুকিয়ে দিচ্ছে কি না, কিংবা তথ্য চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে না, সে নিশ্চয়তা নেই।

বেসিসের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারহানা এ রহমান

বেসিসের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারহানা এ রহমান বলেন, ব্যাংকিং খাতে দেশীয় সফটওয়্যারের ব্যবহার বৃদ্ধি শিল্পটির জন্য বড় একটি সুখবর। আর দেশে ব্যাংক খাত সফটওয়্যারের বড় একটি বাজার। ব্যাংকের মতো আর্থিক খাতে দেশীয় সফটওয়্যারে ব্যবহার বাড়লে অভ্যন্তরীণ বাজারের অন্য ক্রেতাদের কাছেও আস্থা বাড়বে। এখন যেসব ব্যাংক বিদেশী সফটওয়্যার ব্যবহার করছে, খরচ বাঁচাতে এক সময় তারাও দেশী সফটওয়্যার ব্যবহার করবে বলে আমরা আশাবাদী।

ব্যাংকিং খাতে ধীরে ধীরে দেশীয় সফটওয়্যারের ব্যবহার বাড়ছে। এর আগে আরও কমসংখ্যক ব্যাংকে দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহার হতো। দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নানামুখী উদ্যোগেই দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। প্রায় সব ব্যাংকই ছোট ছোট দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। দেশীয় কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ব্যবহারকারী ব্যাংকের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে।

বর্তমানে দেশেই সফটওয়্যারের চাহিদা প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের। সফটওয়্যার খাত থেকে রফতানি আয়ও প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের। সবমিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাংকসহ সরকারী কেনাকাটায় দেশীয় সফটওয়্যারের ব্যবহারকে আরও বেশি প্রাধান্য দিতে হবে। দেশীয় সফটওয়্যার দিয়েই এখন পুরো ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব। দেশীয় সফটওয়্যার খাতের অনেক সম্ভবনা রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও এখন সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে খাতটিতে এখনও সেভাবে উদ্যোক্তা গড়ে উঠেনি। বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে আইএসটেলার, এজেন্ট ব্যাংকিং, আরটিজিএসের মতো দেশী সফটওয়্যার ব্যবহৃত হচ্ছে। ব্যাংকে এখন দেশী সফটওয়্যারের ব্যবহার বাড়ছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *