সাম্প্রতিক সংবাদ

সাত জেলায় ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ক.বি.ডেস্ক: বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে এবং বিচার ব্যবস্থায় ডিজিটাল বিপ্লব ত্বরান্বিত করতে দেশের বগুড়াসহ সাত জেলায় ই-বেইলবন্ড (অনলাইনে জামিননামা দাখিল) কার্যক্রম চালু হয়েছে। বগুড়া, রাজশাহী, নাটোর, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা ও কুষ্টিয়ায় একযোগে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বিচার বিভাগের ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) বগুড়া জেলা ও দায়রা জজের সম্মেলনকক্ষে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জমান, আইন সচিব লিয়াকত আলী ভুঁইয়া, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানসহ বগুড়ার সংসদ সদস্যরা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘‘আদালত হয়রানির জায়গা নয়; বরং ন্যায়বিচার পাওয়ার নিরাপদ স্থল এমন বিশ্বাস দৃঢ় হলে সমাজ থেকে মব ভায়োলেন্স দূর হবে। দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়ায় জনগণের হয়রানি লাঘব করতে সরকার প্রশাসন ও বিচারপ্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণরূপে ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের অংশ হিসেবে বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে ই-বেইলবন্ড বাস্তবায়ন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। যার ফলে আজ সাতটি জেলায় ই–বেইলবন্ড পদ্ধতি চালু হলো।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘দেশের সব আদালতে ই–বেইলবন্ড পদ্ধতি চালু করা গেলে জনগণের বিচার প্রাপ্তিতে বিলম্ব ও বৈষম্য দূর করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সহায়ক হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। ই-বেইলবন্ড জনগণের অহেতুক হয়রানি ও দুর্ভোগের অবসান ঘটাবে। আগে একটি জামিননামা সম্পন্ন করতে আদালত থেকে জেলখানায় পৌঁছানো পর্যন্ত আইনজীবী, মহুরি, ম্যাজিস্ট্রেট, পিয়নসহ নানা পরিক্রমায় কমপক্ষে ১৩টি ধাপ পার হতে হতো। ই–বেইলবন্ড পদ্ধতি চালুর পর এখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে কিছু সময়ের মধ্যে জামিননামা পৌঁছে যাবে। এ কারণে বর্তমান সরকার সারা দেশে সব আদালতকে ই-বেইলবন্ড পদ্ধতির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’’

ই-বেইলবন্ড পদ্ধতিতে বিচারকের স্বাক্ষরের পর বেইল বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট কারাগারে পৌঁছে যাবে। ফলে আটক ব্যক্তি কয়েক ঘণ্টা অথবা সর্বোচ্চ এক দিনের মধ্যেই মুক্তি পাবেন। মধ্যবর্তী অপ্রয়োজনীয় ধাপগুলো বিলুপ্ত হবে। তা ছাড়া কে কখন স্বাক্ষর করছেন, তা ডেটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে। এতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। বিচারপ্রার্থীরা অপ্রয়োজনীয় সময়, অর্থ ও মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের যাতায়াত খরচ হ্রাসসহ সরকারের অপ্রয়োজনীয় কারা ব্যয় সাশ্রয় হবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *