ভিয়েনায় আইএইএ মহাপরিচালকের সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
ক.বি.ডেস্ক: অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসির সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের এক দ্বিপাক্ষিক, বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্যে আইএইএ-এর মহাপরিচালকের সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আইএইএ এর সদরদপ্তরে এ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, ভিয়েনায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত তৌফিক হাসান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম. মঈনুল ইসলাম এবং যুগ্মসচিব শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ ও আইএইএ-এর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়। বৈঠকে মন্ত্রী ‘আশার আলো: সবার জন্য ক্যানসার সেবা’ উদ্যোগকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি এবং আইএইএ সচিবালয়ের নেতৃত্বের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘‘বাংলাদেশ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে আইএইএ-এর কারিগরি সহযোগিতায় স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, পানি ব্যবস্থাপনা, শিল্প ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে সুফল পেয়ে আসছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। ইউনিট-১-এ ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে, যা বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ, জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।’’

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘‘বাংলাদেশ পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পারমাণবিক বর্জ্য ও স্পেন্ট ফুয়েল ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত যৌথ কনভেনশনে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি এ অঙ্গীকারের প্রতিফলন। বাংলাদেশ ২০২৫ সালে ‘আশার আলো’ উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে এবং এর আওতায় আইএইএ-এর সঙ্গে কাজ করছে। সমন্বিত ওয়ান-স্টপ ক্যানসার কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা এ উদ্যোগের অন্যতম অগ্রাধিকার। সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্ঞান বিনিময় ও টেকসই ক্যানসার চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তুলতে আইএইএ-এর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।’’
তিনি বলেন, ‘‘নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য আইএইএ-ডব্লিউএইচও-ইমপ্যাক্ট পর্যালোচনা মিশন- এ বাংলাদেশের জাতীয় ক্যানসার নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতার প্রমাণভিত্তিক মূল্যায়ন এবং চিকিৎসাব্যবস্থার অগ্রাধিকার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে। পারমাণবিক প্রযুক্তির সুফল শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনে সীমাবদ্ধ না রেখে স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন, জলবায়ু সহনশীলতা এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। তরুণ বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ফেলোশিপ ও যৌথ গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণেও আইএইএ-এর সহযোগিতা প্রয়োজন।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আরও সমন্বিত, ন্যায়সংগত ও টেকসই ক্যানসার চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। ‘আশার আলো’ উদ্যোগের প্রতিশ্রুতিকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য বাস্তব ও দীর্ঘস্থায়ী সুফলে রূপ দিতে আইএইএ ও অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে সরকার। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির প্রসার, পারমাণবিক নিরাপত্তা জোরদার এবং টেকসই উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার আহ্বান জানাই।’’





