প্রতিবেদন

ডিএসসিসির ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপে ২,৮১০ অভিযোগ, সমাধান ১,৯০৯টির

ক.বি.ডেস্ক: ঢাকার পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত সমস্যা জানাতে চালু হওয়া ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২ হাজার ৮১০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯০৯টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। একই সময়ে অ্যাপটিতে পাওয়া নাগরিকদের ৮৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ রিভিউ ছিল ইতিবাচক।

রাস্তার পাশে জমে থাকা ময়লা, নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণ না হওয়া কিংবা কোনও এলাকায় পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি হওয়া নগরবাসীর পরিচিত অভিজ্ঞতা। এসব সমস্যা জানাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা এবং অভিযোগের অগ্রগতি জানতে গিয়ে অনেক সময় বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হয় নাগরিকদের। এই প্রক্রিয়া সহজ করতে ডিজিটাল উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

সংস্থাটির চালু করা ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপের মাধ্যমে এখন পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত অভিযোগ সরাসরি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেয়ার সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের ৭ জুলাই অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে ১ আগস্ট থেকে শুরু হয় এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম।

২,৮১০ অভিযোগের মধ্যে নিষ্পত্তি ১,৯০৯টি
ডিএসসিসির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপের মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৮১০টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯০৯টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং ৬৫৫টি অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

অন্যদিকে, বাকি ২৪৬টি অভিযোগ ডিএসসিসির কার্যপরিধির বাইরে। এসব অভিযোগ ঢাকা ওয়াসা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), রেলওয়ে, ডিপিডিসি এবং আইন ও প্রশাসনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের নিজস্ব কার্যপরিধির বাইরে থাকা এসব অভিযোগ নিষ্পত্তির হার গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অভিযোগের এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে নাগরিকেরা পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত সমস্যা জানানোর একটি সরাসরি মাধ্যম পেয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগ গ্রহণের পর সেগুলোর নিষ্পত্তি ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছে।

নাগরিকদের ইতিবাচক সাড়া
অভিযোগ নিষ্পত্তির পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়াও ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপের কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপটিতে মোট ৪৩৩টি নাগরিক রিভিউ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩৬১টি ইতিবাচক, যা মোট রিভিউয়ের ৮৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। অ্যাপটির গড় রেটিং পাঁচের মধ্যে ৪ দশমিক ৫।

ডিজিটাল মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর এই ব্যবস্থায় নাগরিকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া নগরসেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে। তবে ব্যবহারকারীদের সন্তুষ্টির পাশাপাশি বাস্তবে কত দ্রুত সমস্যার সমাধান হচ্ছে, সেটিও সেবাটির কার্যকারিতা মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

অভিযোগ থেকে সমাধান, এক প্ল্যাটফর্মে যোগাযোগ
নগর পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। কোথাও ময়লা জমে থাকলে, বর্জ্য যথাসময়ে অপসারণ না হলে কিংবা পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানো প্রয়োজন। কিন্তু অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া জটিল হলে অনেকেই তা এড়িয়ে যান। ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে পৌঁছে দেয়ার সুযোগ থাকায় এই প্রক্রিয়া সহজ করার চেষ্টা করছে ডিএসসিসি। অ্যাপটির লক্ষ্য শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়; বরং সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে গতিশীল করা।

নাগরিকদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোথায় পরিচ্ছন্নতাসেবা প্রয়োজন, কোন সমস্যার দ্রুত সমাধান জরুরি এবং কোন অভিযোগের নিষ্পত্তি বাকি রয়েছে, তা চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি হয়। ফলে অ্যাপটি নাগরিক ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে যোগাযোগের একটি ডিজিটাল মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।

ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, “পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। ক্লিন কেয়ার অ্যাপসের মাধ্যমে নাগরিকদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করে একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও আধুনিক ঢাকা গড়ে তোলার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

অ্যাপটির প্রতি আস্থা রাখার জন্য নাগরিকদের ধন্যবাদ জানিয়েছে সিটি করপোরেশন। ভবিষ্যতে ডিএসসিসির অন্যান্য নাগরিক সেবাও এই অ্যাপের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি আরও কিছু সেবা একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে পারে। এতে বিভিন্ন সেবার জন্য পৃথক মাধ্যমে যোগাযোগের প্রয়োজন কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির অংশ হিসেবে জবাবদিহিমূলক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ক্লিন কেয়ার’ ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করে ডিএসসিসি। এই উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নাগরিকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

কার্যকারিতা নির্ভর করবে দ্রুত সমাধান ও জবাবদিহিতে
একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সাফল্য কেবল কতটি অভিযোগ জমা পড়েছে কিংবা কতজন ব্যবহারকারী ইতিবাচক রেটিং দিয়েছেন, তা দিয়ে পুরোপুরি নির্ধারণ করা যায় না। অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কত সময় লাগছে, একই সমস্যা বারবার দেখা দিচ্ছে কি না এবং নাগরিকেরা বাস্তবে কতটা উন্নত সেবা পাচ্ছেন, সেসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা ৬৫৫টি অভিযোগের সমাধান, অভিযোগের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং সেবার মান ধরে রাখা তাই উদ্যোগটির কার্যকারিতা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রশাসক আবদুস সালামের মতে, নগর পরিচ্ছন্নতা একটি ধারাবাহিক কার্যক্রম। শুধু নির্দিষ্ট সময়ের অভিযান কিংবা বর্জ্য অপসারণের মধ্যে এ দায়িত্ব সীমাবদ্ধ নয়; প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ ও কার্যকর সমাধান। নাগরিকদের তথ্য ও মতামত এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমকে আরও সুনির্দিষ্ট করতে পারে।

সব মিলিয়ে, ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির উদ্যোগ ঢাকার পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল সেবার সম্ভাবনা তুলে ধরেছে। অভিযোগের দ্রুত সমাধান, নিয়মিত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং ভবিষ্যতে আরও নাগরিক সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে অ্যাপটি নগরবাসী ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ করতে পারে। নাগরিক অংশগ্রহণের সঙ্গে প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগ একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও আধুনিক ঢাকা গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *