এআই সেবায় নিরাপত্তা দুর্বলতা বেড়েছে ১০ গুণ: ক্যাসপারস্কি
ক.বি.ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার যত বাড়ছে, এসব প্রযুক্তিতে নিরাপত্তার সমস্যাও তত বাড়ছে। সাইবার সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকের তুলনায় ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এআই ও লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) সেবায় শনাক্ত নিরাপত্তা দুর্বলতার সংখ্যা ১০ গুণ বেড়ে ৯৩৫টিতে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ১১৯টি ছিল গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি, যা ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।
ক্যাসপারস্কির কোয়ার্টারলি এক্সপ্লোয়িটস অ্যান্ড ভালনারেবিলিটিস রিপোর্ট-এ এসব তথ্য ওঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআইভিত্তিক সফটওয়্যারে মূলত তিন ধরনের নিরাপত্তা সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সিস্টেমে কারা প্রবেশ করতে পারবে, তা নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা; ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাইয়ে ত্রুটি এবং সফটওয়্যারে ক্ষতিকর নির্দেশনা প্রবেশ করানোর সুযোগ। এসব দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধীরা কোনও সিস্টেমে অননুমোদিত প্রবেশ বা ক্ষতিকর কাজ করার সুযোগ পেতে পারে।
ক্যাসপারস্কির ম্যালওয়্যার বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার কোলেসনিকভ বলেন, “এআই প্রযুক্তি ও বিভিন্ন টুল অনেক কাজ সহজে এবং দ্রুত করতে সাহায্য করছে। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। সিস্টেমে প্রবেশের অনুমতি, ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই এবং সফটওয়্যারের দুর্বলতা এখন বড় উদ্বেগের বিষয়। নিরাপদ থাকতে শুধু সফটওয়্যার আপডেট করলেই হবে না, প্রতিষ্ঠানের পুরো প্রযুক্তি ব্যবস্থার ওপর নজর রাখতে হবে। এতে সময়মতো হুমকি শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।”
ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে চালানো হামলাতেও এআইয়ের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্যাসপারস্কির আরেকটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে এসব প্রতিষ্ঠানের কমপিউটারকে লক্ষ্য করে ৩৩ হাজার ৩০০টির বেশি সাইবার হামলা শনাক্ত করেছে ক্যাসপারস্কির নিরাপত্তা সফটওয়্যার। এসব হামলায় ক্ষতিকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত সফটওয়্যারকে জনপ্রিয় এআই সেবার সফটওয়্যার হিসেবে দেখানো হয়েছিল। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় এ ধরনের হামলার সংখ্যা প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে।
এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্যাসপারস্কি’র ক্যাসপারস্কি নেক্সট নিরাপত্তা সমাধানে সার্বক্ষণিক নজরদারি, আগাম সুরক্ষা এবং সাইবার হামলা শনাক্ত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুবিধা রয়েছে। এগুলো এআই ব্যবহার করা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রযুক্তিব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করতে পারে।





