সাম্প্রতিক সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তায় জোর বাংলাদেশের

ক.বি.ডেস্ক: শিশুদের ডিজিটাল জগতে নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক সহযোগিতা, অংশীজনদের যৌথ উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলন বিনিময়ের আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, অনলাইন ঝুঁকি থেকে শিশুদের সুরক্ষা দেয়া শুধু অভিভাবক বা শিক্ষকদের দায়িত্ব নয়; এ ক্ষেত্রে সরকার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় ‘সীমানাহীন ডিজিটাল শৈশব: অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলন’ শীর্ষক ব্যবসায়িক তথ্যপ্রযুক্তি প্রাতরাশ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বৈশ্বিক ডিজিটাল ফোরাম এবং ডিজিটাল পরিবেশে শিশু সুরক্ষা জোটকে সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানান। মস্কোয় অনুষ্ঠিত এ আন্তর্জাতিক ফোরামে বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘‘বাংলাদেশ দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে শিশুরা শিক্ষা, জ্ঞান অর্জন ও ব্যক্তিগত বিকাশের জন্য অনলাইন জগতের নানা সুযোগ গ্রহণ করতে পারছে। তবে এসব সুযোগের পাশাপাশি তারা নতুন ও পরিবর্তনশীল বিভিন্ন ধরনের অনলাইন ঝুঁকিরও মুখোমুখি হচ্ছে। শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়। এ জন্য কার্যকর নীতিমালা, প্রযুক্তিগত সমাধান, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’’

তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং অনলাইন শোষণ থেকে রক্ষায় সাইবার নিরাপত্তা আইনসহ সংশ্লিষ্ট আইন ও আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা, কার্যকর পদ্ধতি ও বাস্তবসম্মত সমাধান বিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’’

অনুষ্ঠানে ডিজিটাল পরিবেশে শিশু সুরক্ষাবিষয়ক বৈশ্বিক জোটের প্রস্তাবিত যৌথ বিবৃতি ও কার্যপরিধির খসড়া পর্যালোচনার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘‘প্রস্তাবিত দলিলটি জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের আলোকে শিশু অধিকারভিত্তিক একটি সমন্বিত কাঠামো উপস্থাপন করেছে। উদ্যোগটির তিনটি মূল নীতির প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থন জানান। নীতিগুলো হলো- শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া, শিশুদের সুরক্ষায় সব অংশীজনের যৌথ দায়িত্ব নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা ও সর্বোত্তম অনুশীলন বিনিময় করা।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘এ উদ্যোগে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। এতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিজস্ব বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও অভিজ্ঞতা বৈশ্বিক নীতি প্রণয়নে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে। এ সময় শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা পরিমাপের জন্য একটি বৈশ্বিক সূচক প্রণয়ন এবং গবেষণা ও কার্যকর পদ্ধতি বিনিময়ের জন্য বিশেষ মঞ্চ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ।’’

শিশুদের পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষকদের ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহ বিভিন্ন প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে অনলাইন ক্ষতি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। অনলাইন হয়রানি, যৌন হয়রানি, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি এবং অন্যান্য ডিজিটাল ক্ষতি থেকে শিশুদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক জোটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশ। জাতীয় নীতি ও বৈশ্বিক সহযোগিতার মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরিতে এ জোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’’

তিনি বলেন, ‘‘জাতীয়তা নির্বিশেষে প্রতিটি শিশু যেন নিরাপদে, সৃজনশীলভাবে ও নির্ভয়ে ডিজিটাল জগৎ অন্বেষণ করতে পারে, সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতে আজকের সম্মিলিত উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বিনিয়োগ। ডিজিটাল ভবিষ্যৎকে শুধু সংযুক্ত করলেই হবে না; সেটিকে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শিশুবান্ধব হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে।’’

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *