স্ন্যাপড্রাগন এক্স২ এলিট প্রসেসরে হরাইজন আল্ট্রা এআই কমপিউটার
ক.বি.ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ব্যক্তিগত কমপিউটিংয়ের নতুন অভিজ্ঞতা দিতে ‘হরাইজন আল্ট্রা’ নামের এআই কমপিউটার উন্মোচন করেছে কোয়ালকম টেকনোলজিস ও হিউমেইন। ২০২৬ সালের লিপ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত এই কমপিউটারে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন এক্স২ এলিট প্ল্যাটফর্ম।
কোয়ালকমের সহযোগিতায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে নকশা ও উন্নয়নের পর তৈরি হয়েছে হরাইজন আল্ট্রা। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, উন্নত এআই প্রক্রিয়াকরণের বড় একটি অংশ সরাসরি কমপিউটারেই সম্পন্ন করা যাবে। ফলে প্রতিটি কাজের জন্য তথ্য দূরের সার্ভারে পাঠানোর প্রয়োজন হবে না।
হরাইজন আল্ট্রার প্রথম সংস্করণে থাকবে মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ পরিচালন ব্যবস্থা। তবে ২০২৭ সালে পরবর্তী সংস্করণে যুক্ত হবে হিউমেইনের নিজস্ব ‘হিউমেইন ওএস’। এর মাধ্যমে কমপিউটারের পরিচালন ব্যবস্থার আরও গভীরে এআই সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
হরাইজন আল্ট্রার মূল শক্তি স্ন্যাপড্রাগন এক্স২ এলিট। এতে রয়েছে ১৮ কোরের কোয়ালকম ওরিয়ন প্রসেসর, কোয়ালকম অ্যাড্রেনো গ্রাফিকস এবং কোয়ালকম হেক্সাগন নিউরাল প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট। এসব ব্যবস্থা নির্দিষ্ট কাজ অনুযায়ী আলাদাভাবে বা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে। ফলে উন্নত এআই মডেল, তথ্য বিশ্লেষণ, সৃজনশীল কাজ ও বুদ্ধিমান সহকারীর মতো সুবিধা স্থানীয়ভাবে চালানো সম্ভব হবে। বাড়তি গণনাশক্তি প্রয়োজন হলে কমপিউটারটি মেঘভিত্তিক ব্যবস্থার সহায়তা নিতে পারবে।
স্থানীয়ভাবে এআই প্রক্রিয়াকরণের ফলে দ্রুত সাড়া পাওয়ার পাশাপাশি সংবেদনশীল তথ্য কমপিউটারেই রাখা সম্ভব হবে। বিশেষ করে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও দ্রুত ফল পাওয়ার জন্য এই সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
হরাইজন আল্ট্রা হিউমেইনের বৃহত্তর পূর্ণাঙ্গ এআই পরিকল্পনার অংশ। এর আওতায় অবকাঠামো, মেঘভিত্তিক গণনাব্যবস্থা, তথ্য, এআই মডেল ও বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনকে সমন্বিত করার লক্ষ্য রয়েছে। ব্যক্তিগত কমপিউটারে এআই যুক্ত করে ব্যবহারকারীর কাজের আরও কাছে এই প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি।
হরাইজন আল্ট্রার বিক্রি ও সরবরাহে সহযোগিতা করবে আলফালাক। লিপ ২০২৬ সম্মেলনে উন্মোচনের পর উইন্ডোজ পরিচালন ব্যবস্থাসহ কমপিউটারটি ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য কেনা যাবে।
হরাইজন আল্ট্রার আত্মপ্রকাশ দেখাচ্ছে, এআই এখন আর শুধু সফটওয়্যারের একটি সুবিধা নয়; বরং প্রসেসর, গ্রাফিকস ও বিশেষায়িত প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে এটি কমপিউটারের মূল কাঠামোর অংশ হয়ে ওঠছে।





