সাম্প্রতিক সংবাদ

৩৯ ব্যাংকের যৌথ ভেঞ্চার ফান্ড ‘অঙ্কুর বাংলাদেশ ফান্ড-১’র যাত্রা

ক.বি.ডেস্ক: দেশের স্টার্টআপ খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে প্রথমবারের মতো সংগঠিতভাবে যুক্ত হলো ব্যাংকিং খাত। ৩৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে চালু হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য তৈরি হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের নতুন পথ।

আজ মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ স্টার্ট আপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি পিএলসি (বিএসআইসি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘অঙ্কুর বাংলাদেশ ফান্ড-১’-এর উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মো. মোস্তাকুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএসআইসির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন সহ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ খাতের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ভেঞ্চারসুক, ওয়েভমেকার পার্টনার্স, ফাইভ হান্ড্রেড গ্লোবাল, প্লাগ অ্যান্ড প্লে, এডিবি ভেঞ্চারস, জিএফআর ফান্ড, স্টার্জন ক্যাপিটাল, কনজাংশন ক্যাপিটাল ও অরবিট স্টার্টআপসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রায় ৪২৫ কোটি টাকা বা ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুত মূলধন নিয়ে যাত্রা করেছে ‘অঙ্কুর বাংলাদেশ ফান্ড-১’। অংশীদার ব্যাংকগুলো প্রতি বছর তাদের নিট মুনাফার এক শতাংশ এই তহবিলে যুক্ত করবে। ফলে এটি শুধু এককালীন বিনিয়োগ তহবিল নয়, বরং ধারাবাহিক মূলধনভিত্তিক একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কাঠামো হিসেবে পরিচালিত হবে। ফান্ডটি মূলত সিড, লেট-সিড ও সিরিজ-এ পর্যায়ের স্টার্টআপে বিনিয়োগ করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত সহায়তায় বাস্তবায়িত এ উদ্যোগকে দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গঠনে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর আগে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে গত পাঁচ বছরের নিট মুনাফার এক শতাংশ স্টার্টআপ খাতে বিনিয়োগের অনুমতি দেয় এবং বিএসআইসির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নীতিমালাও প্রণয়ন করে।

মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘‘একাধিক ব্যাংকের যৌথ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোগ দেশে উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে দেশি-বিদেশি আরও বিনিয়োগকারী এ তহবিলে যুক্ত হবেন। তরুণ উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বড় বাধা ছিল জামানত ছাড়া অর্থায়নের সুযোগ না থাকা। নতুন এ প্ল্যাটফর্ম সেই সংকট দূর করে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের সামনে নতুন দরজা খুলে দেবে বলে আশা করি।’’

গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘‘স্টার্টআপ বিনিয়োগ কোম্পানি গঠন দেশের আর্থিক খাতের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। দেশ দ্রুত ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। আগামী ৩০ জুনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বি-কিউআর’ ছাড়া অন্য কোনও প্রোপ্রাইটারি কিউআর কোড ব্যবহার করা যাবে না। এর ফলে বিভিন্ন অপারেটরের গ্রাহকদের মধ্যে আরও সহজ ও সমন্বিত ডিজিটাল লেনদেন নিশ্চিত হবে।’’

বিএসআইসির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘‘বিএসআইসি শুধু একটি তহবিল নয়; এটি এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম, যা উদ্যোক্তাদের স্বপ্নের সঙ্গে পেশাদার বিনিয়োগকে যুক্ত করবে। ৩৯টি ব্যাংকের সম্মিলিত অংশগ্রহণ স্থানীয় আস্থা ও বৈশ্বিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল মানদণ্ডের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করবে।’’

বিএসআইসি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ হওয়ার আগেই প্রথম তিনটি বিনিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। এর আগে তৃতীয় প্রান্তিকের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা এবং পূর্ণাঙ্গ বিনিয়োগ কমিটি গঠন করা হবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *