সাম্প্রতিক সংবাদ

প্রথম এপিওএআই’তে বাংলাদেশ থেকে লড়ছে ৮ প্রতিযোগী

ক.বি.ডেস্ক: প্রথমবারের মতো আয়োজিত এশিয়া-প্যাসিফিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অলিম্পিয়াডে (এপিওএআই) অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের ৮ সদস্যের চূড়ান্ত দল। গতকাল শনিবার (১৩ জুন) অনুষ্ঠিত এই অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ দলের প্রতিযোগীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউট ভেন্যু থেকে সরাসরি অনলাইনে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় যুক্ত হয়েছেন। প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে তরুণদের এই অংশগ্রহণ দেশের এআই ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ৮ সদস্যের বাংলাদেশ দলে রয়েছেন হোমনা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের লাবিব শাহরিয়ার; নটর ডেম কলেজ ঢাকার ত্রিদিব রায় আর্য ও মোবতাসিম চৌধুরী প্রিয়ম; মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের মো. সাইদুজ্জামান আরাফ; দারুস সালাম সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাওফিল রহমান; ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের মুর্তজা আব্দুল্লাহ; মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অনন্য যারিফ আকন্দ এবং আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মতিঝিলের শিক্ষার্থী নাঈরা নাওয়ার আহমেদ।

দলের একমাত্র নারী প্রতিযোগী ঈরা নাওয়ার আহমেদ বলেন, “আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরতে পারাটা অত্যন্ত গর্বের। এই অলিম্পিয়াডের প্রস্তুতি আমাদের যেভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিংয়ের গভীরে নিয়ে গেছে, তা এক কথায় অসাধারণ। আমাদের এই অংশগ্রহণ দেশের আরও অনেক মেয়েকে ভবিষ্যতে এআই এবং প্রযুক্তির দুনিয়ায় আসতে অনুপ্রাণিত করবে। আমরা আমাদের সেরাটা দেয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।”

সর্বকনিষ্ঠ সদস্য, নাওফিল রহমান বলেন, “দলের সবচেয়ে ছোট সদস্য হিসেবে এত বড় একটা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের হয়ে লড়তে পারাটা আমার জন্য একটা স্বপ্নের মতো। সিলেকশন ক্যাম্পের মেশিন লার্নিং কনটেস্ট এবং পাইথন কোডিংয়ের অভিজ্ঞতা আজ আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। আমরা বিশ্বমঞ্চকে টেক্কা দিতে পারি, আজ আমরা সেটাই প্রমাণ করতে চাই।”

এবারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দলের জন্য অনসাইট পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ড. মো. আজম খান এবং তাসনিম মাহফুজ নাফিস। গত ২০ থেকে ২৩ মে অনুষ্ঠিত জাতীয় সিলেকশন ক্যাম্পের মূল্যায়নের পর এই দক্ষ দলটিকে নির্বাচন করেছে বাংলাদেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অলিম্পিয়াড (বিডিএআইও)-এর মূল আয়োজক বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)।

বাংলাদেশ দলের দলনেতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. বি এম মইনুল হোসেন বলেন, “এআই ও মেশিন লার্নিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে বিশ্বমঞ্চের সেরা তরুণদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার জন্য আমাদের এই ৮ জন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ভেন্যু থেকে শুরু হওয়া যাত্রা আগামী আগস্টে কাজাখস্তানের মূল আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াড পর্যন্ত আমাদের তরুণদের আত্মবিশ্বাসকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”

ড. মো. আজম খান বলেন, “প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের তরুণরা যেভাবে বিশ্বমানের প্রক্টরিং ও পরীক্ষা নিয়মের সঙ্গে খাপ খাইয়ে লড়ছে, তা দেশের এআই ইকোসিস্টেমের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক। আমরা অত্যন্ত কড়া ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে পরীক্ষাটি পরিচালনা করছি এবং প্রতিযোগীদের চোখে-মুখে দারুণ কিছু করার যে তাড়না দেখছি, তাতে আমি খুবই আশাবাদী।”

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *