সাম্প্রতিক সংবাদ

এসসিও-এর সদস্যপদ ও ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট স্বীকৃতি পেল বিএসসিএল

ক.বি.ডেস্ক: বাংলাদেশের মহাকাশ ও জলবায়ু পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত হলো নতুন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) মহাকাশভিত্তিক আন্তর্জাতিক জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা স্পেস ফর ক্লাইমেট অবজারভেটরি (এসসিও)-এর সদস্যপদ অর্জনের পাশাপাশি বাংলাদেশের ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়েছে। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় স্যাটেলাইটভিত্তিক গবেষণা, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফরাসি মহাকাশ সংস্থা সেন্টার ন্যাশনাল ডি’এটুডেস স্প্যাটিলেস (সিএনইএস)-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এসসিও বিশ্বের বিভিন্ন মহাকাশ সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার একটি বৈশ্বিক জোট। ২০১৯ সালে ফ্রান্স সরকারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই প্ল্যাটফর্মটি পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী স্যাটেলাইটের তথ্য, মাঠপর্যায়ের (ইন-সিটু) তথ্য এবং স্থানীয় আর্থ-সামাজিক উপাত্ত সমন্বয় করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্লেষণ, পূর্বাভাস তৈরি এবং নীতিনির্ধারণে সহায়তা করে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অনুমোদনের পর গত বছরের ৮ ডিসেম্বর বিএসসিএল এসসিও-এর সদস্যপদ লাভে আগ্রহ প্রকাশ করে। পরবর্তীতে এসসিও পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশকে জোটটির সদস্য এবং ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়া হয়। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য একটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্মেলনের নির্ধারিত অধিবেশনে এসসিও-এর উদ্যোগে একটি সিগনেচার সেরিমনি অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে এ সদস্যপদ ও স্বীকৃতি-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।

এসসিও-এর অর্থায়নে ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জলবায়ু পর্যবেক্ষণ ও দুর্যোগ পূর্বাভাসসংক্রান্ত একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। বর্তমানে ফ্রান্স, চীন, হাইতি, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে এসব কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বাংলাদেশেও এসসিও-এর অর্থায়নে ব্যান্ড-এসওএস প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড়ের সময় রিয়েল-টাইম জলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাস, ঝুঁকির মানচিত্র প্রণয়ন এবং বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে আগাম তথ্য প্রদান করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সদস্যপদের ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্যাটেলাইটভিত্তিক জলবায়ু তথ্য, গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বিস্তৃত করবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহাকাশ সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে, যা দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ইমাদুল রহমান বলেন, “এসসিও-এর সদস্যপদ এবং বাংলাদেশের ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেশের জন্য একটি গৌরবজনক আন্তর্জাতিক অর্জন। এটি শুধু বিএসসিএলের নয়, বরং বাংলাদেশের মহাকাশ ও জলবায়ু কূটনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গবেষণা, প্রযুক্তি বিনিময়, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং স্যাটেলাইটভিত্তিক জলবায়ু তথ্য ব্যবহারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই ও সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এই স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *