সাম্প্রতিক সংবাদ

অর্ধেকের বেশি জেন জি ইতোমধ্যে সাইবার হামলার শিকার: ক্যাসপারস্কি

ক.বি.ডেস্ক: অনলাইনে সবচেয়ে বেশি সময় কাটালেও জেনারেশন জি এর অনেকেই এখনও প্রয়োজনীয় সাইবার নিরাপত্তা অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেননি বলে জানিয়েছে গ্লোবাল সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি। প্রতিষ্ঠানটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৫৭ শতাংশ জেন জি অনলাইনে অফলাইনের চেয়ে বেশি সময় কাটান এবং ৬৭ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য প্রধানত স্মার্টফোনের ওপর নির্ভর করেন।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ৫৯ শতাংশ জেন জি নিজেদের ডিজিটাল জগতে চলাফেরায় আত্মবিশ্বাসী মনে করলেও, মাত্র ২৮ শতাংশ মনে করেন তাদের ডিজিটাল দক্ষতা উন্নত পর্যায়ের। এই ব্যবধান তাদের সাইবার নিরাপত্তা চর্চাতেও প্রতিফলিত হয়েছে। মাত্র ২৭ শতাংশ নিয়মিত স্মার্টফোনে অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করেন, যা অন্যান্য প্রজন্মের তুলনায় কম। একইভাবে, নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও তারা তুলনামূলকভাবে কম সচেতন।

এর ফলাফলও ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। জরিপে অংশ নেয়া জেন জিদের ৫২ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে এমন সাইবার হামলার শিকার হয়েছেন, যা তাদের ডিভাইস, অনলাইন অ্যাকাউন্ট বা ব্যক্তিগত তথ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর মধ্যে ১৭ শতাংশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে এবং ১২ শতাংশ তাদের গেমিং অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, জেন জিদের স্মার্টফোনেই তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষিত থাকে। ৩৮ শতাংশ ব্যবহারকারীর ফোনে ছবি ও ব্যক্তিগত নথি রয়েছে এবং ৩০ শতাংশ তাদের পাসওয়ার্ড ও লগইন তথ্যও স্মার্টফোনে সংরক্ষণ করেন। তবে মাত্র ২৮ শতাংশ নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ব্যাকআপ নেন। ফলে ফোন হারিয়ে গেলে, নষ্ট হলে বা হ্যাকের শিকার হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারানোর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

ব্যবহারকারীদের জন্য ক্যাসপারস্কির পরামর্শ হলো সাইবার নিরাপত্তাকে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করা। এজন্য নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা সফটওয়্যার, পাসওয়ার্ড ম্যানেজার, কলার শনাক্তকরণ টুল এবং পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় ভিপিএন ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি তরুণদের সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করতে ‘কেস ৪০৪’ নামে একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ অনলাইন গেম চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণায় তৈরি এই গেমের মাধ্যমে প্রতারণা, ফিশিং এবং অ্যাকাউন্ট দখলের কৌশল চেনার অনুশীলন করা যায়।

ক্যাসপারস্কির কনজ্যুমার প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইরিনা ইয়ারমিলোভা বলেন, “জেন জি ডিজিটাল পরিবেশে বেড়ে ওঠেছে, তাই প্রযুক্তি ব্যবহার তাদের কাছে খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য মানেই সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষতা নয়। বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করতে পারা আর প্রতারণা শনাক্ত করা, নিরাপদভাবে পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা করা বা ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা এগুলো এক বিষয় নয়। আমাদের গবেষণা বলছে, মেসেজিং, গেমিং বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের মতোই সাইবার নিরাপত্তার অভ্যাসও দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অংশ হয়ে ওঠতে হবে।”

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *