সাম্প্রতিক সংবাদ

প্রতিটি উদ্ভাবন শুরু হয় একটি ছোট প্রশ্ন থেকে: মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম

ক.বি.ডেস্ক: বিশ্ব এখন এআইয়ের যুগে প্রবেশ করেছে এবং মেধাবীদের জন্য বিশ্বব্যাপী সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত। প্রতিযোগিতামূলক এই বিশ্বে টিকে থাকতে হলে আধুনিক প্রযুক্তি, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের সঙ্গে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। প্রতিটি উদ্ভাবন শুরু হয় একটি ছোট প্রশ্ন থেকে। তাই প্রশ্ন করতে শিখো, পর্যবেক্ষণ করতে শিখো, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে শিখো এবং ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবনের সাহস অর্জন করো।

আজ শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওস্থ জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এসব কথা বলেন।

আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ কমপিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)-এর আয়োজনে জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা-২০২৬ এ জাতীয় পর্যায়ে প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতা বিভাগের বিভিন্ন গ্রুপে অনুষ্ঠিত হয় এবং বিজয়ীদের মধ্যে ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, স্মার্টফোন সহ বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ সাইবার সিকিউরিটি অলিম্পিয়াড ২০২৬ এর বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইসিটি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া। বিসিসির নির্বাহী পরিচালক এ টি এম জিয়াউল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান সহ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, বিচারক, শিক্ষক, অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “ভবিষ্যতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সফল হতে প্রযুক্তিগত দক্ষতার কোনও বিকল্প নেই। প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়বে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে প্রোগ্রামিং, এআই এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। দেশের তরুণ শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতার মাধ্যমে যে সম্ভাবনার পরিচয় দিয়েছে, তা বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।”

তিনি আরও বলেন, “জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা লক্ষ্য অর্জনের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। এই প্রতিযোগিতা থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে প্রযুক্তি উদ্ভাবন, গবেষণা এবং বিশ্বমানের সফটওয়্যার উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের সুনাম বিশ্বদরবারে আরও উজ্জ্বল করবে। তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে সংযুক্তকরণ এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।”

ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া বলেন, “দেশের তরুণরাই আগামী দিনের প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তাদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে বিকশিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রতিটি শিক্ষার্থীই অর্জন করেছে মূল্যবান অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের তরুণরা প্রোগ্রামিং, রোবটিক্স ও সাইবার সিকিউরিটিতে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে, যা দেশের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। আইসিটি বিভাগ ভবিষ্যতেও তরুণদের প্রযুক্তি দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।”

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *