সম্ভাবনার বার্তা দিয়ে শেষ হলো ‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬’
ক.বি.ডেস্ক: ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্য নিয়ে ‘লিংকিং পিপল, লিংকিং ফিউচার’ স্লোগনে আয়োজিত ‘‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬’’ সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। আইএসপিএবি আয়োজিত তিন দিনব্যাপী (১৩-১৫ এপ্রিল) এই আয়োজন দেশের আইসিটি খাতে নতুন গতি সঞ্চারের পাশাপাশি ব্রডব্যান্ড সেবার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা ও সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
এবারের প্রদর্শনীতে ছিলো প্রযুক্তিপ্রেমী দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি। প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ ছিল নতুন প্রযুক্তির প্রদর্শনী, যেখানে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উদ্ভাবনী সমাধান তুলে ধরে। এ ছাড়া তরুণ উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপদের জন্য এটি ছিল অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। নানা উদ্ভাবনী প্রজেক্টের স্টল, প্রদর্শনী, আজীবন সদস্যদের সম্মাননা প্রদান, ব্যান্ড সঙ্গীত পরিবেশন, সমাপনী অনুষ্ঠান ও ঐতিহ্যবাহী মেজবান আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬’।
আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জহিরুল ইসলাম, আইসিটি সচিব কাজী আনোয়ার হোসেন, বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী ও ভাইস-চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিকী। সভাপতিত্ব করেন আইএসপিএবি-এর সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম ভূঁইয়া।

মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘‘সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে চায় এবং এ লক্ষ্যে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী। আপনারা আসুন, আমরা বসে কথা বলি। বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব। দেশের প্রতিটি জেলায় এআই ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।’’
প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ‘‘শহরের ওভারহেড ক্যাবল (ঝুলন্ত তার) অপসারণে সহযোগিতায় ডিএসসিসি পাশে থাকবে। এ সমস্যার টেকসই বিকল্প সমাধান খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্টদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’’
আইসিটি সচিব কাজী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘‘সরকার বর্তমানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। এগুলো হলো- কানেক্টিভিটি, ওয়ান সিটিজেন ওয়ান ডিজিটাল আইডেন্টিটি ও ডিজিটাল ওয়ালেট এবং এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) এনাবল বাংলাদেশ বিনির্মাণ।’’
আইএসপিএবির সভাপতি আমিনুল হাকিম দুটি দাবি তুলে ধরেন। তিনি বিভাগীয় আইএসপি লেয়ার অটুট রাখার পাশাপাশি আইএসপিকে ‘আইটি এনাবলড সার্ভিস হিসেবে ঘোষণা দেয়ার আহ্বান জানান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উত্থাপিত কিছু দাবি ইতিমধ্যে সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ডিজিটাল রুপান্তর গঠনের পরবর্তী ধাপে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী ব্রডব্যান্ড সেবা নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এবারের প্রদর্শনীতে ১০টি প্যাভিলিয়ন, ৩৫টি মিনি প্যাভিলিয়ন ও ২০টি স্টলে ইন্টারনেট সেবা সম্পর্কিত সেবা ও সলিউশন প্রদর্শীত হয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রোবটিকস, আইওটি ইত্যাদি ভিত্তিক ২৫টি উদ্ভাবনী প্রজেক্ট প্রদর্শন করে। প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আইএসপি, অবকাঠামো নির্মাতা এবং নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণ ছিলো চোখে পড়ার মতো। সর্বাধুনিক ব্রডব্যান্ড প্রযুক্তি, ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, ৫জি প্রস্তুতি, ক্লাউড সেবা এবং স্মার্ট সিটি উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয় প্রদর্শনীতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের আয়োজন শুধু প্রযুক্তি প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি নীতি, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করে। এর মাধ্যমে দেশের ব্রডব্যান্ড খাতে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং সেবার মানোন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। সব মিলিয়ে, ‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬’ দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আয়োজনটি শেষ হলেও এর প্রভাব এবং আলোচনার ধারাবাহিকতা আগামী দিনগুলোতে দেশের আইসিটিখাতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। এখন দেখার বিষয় এক্সপোতে উত্থাপিত পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতিগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়নের মুখ দেখে এবং কতটা কার্যকরভাবে তা দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে উচ্চগতির ইন্টারনেট তথা ব্রডব্যান্ড সেবা পৌঁছে দিতে পারে।





