স্মার্ট বাংলাদেশের পথে ব্রডব্যান্ডই প্রধান শক্তি: মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম
ক.বি.ডেস্ক: ব্রডব্যান্ড এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ই-গভর্নেন্স ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অপরিহার্য। স্মার্ট বাংলাদেশের পথে ব্রডব্যান্ডই প্রধান শক্তি। ব্রডব্যান্ড এক্সপোটি দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ, যেখানে ফাইবার অপটিক, ক্লাউড, আইওটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ তুলে ধরা হয়েছে।
আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আইএসপিএবি- এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬’- এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম একথা বলেন।
‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬’- এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জহিরুল ইসলাম, আইসিটি সচিব কাজী আনোয়ার হোসেন, বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী ও ভাইস-চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিকী। সভাপতিত্ব করেন আইএসপিএবি-এর সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম ভূঁইয়া।

মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘‘সরকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়া, ব্রডব্যান্ড সাশ্রয়ী করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় এআই ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বয় জোরদার করে দেশের ডিজিটাল উন্নয়নে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই।’’
আইসিটি সচিব কাজী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘‘স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য কানেক্টিভিটি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। সরকারের বর্তমান তিনটি প্রধান লক্ষ্য কানেক্টিভিটি, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’ এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পাবলিক সেক্টরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের মূল ভিত্তিই হলো নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্পন্ন ইন্টারনেট সংযোগ। এই কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আইএসপি উদ্যোক্তারা আমাদের ফোকাল পয়েন্ট। একটি নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ছাড়া ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।’’

অনুষ্ঠানে বক্তারা ব্রডব্যান্ড অবকাঠামো উন্নয়ন, নীতিগত সহায়তা এবং সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন দেশের আইসিটি খাতকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করবে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, আইএসপিএবির নেতৃবৃন্দ, আইএসপি উদ্যোক্তা, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, তরুণ উদ্ভাবক এবং দেশি-বিদেশি অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬-এ দেশের বিভিন্ন ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা অংশগ্রহণ করেন এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও সেবার প্রদর্শনী উপস্থাপন করেন।





