প্রতিবেদন

প্রতিরক্ষা খাতে এজেন্টিক এআইয়ের উত্থান

ডেভ ওয়াজগ্রাস: বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের গতি দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে ‘এজেন্টিক এআই’- যে প্রযুক্তি নিজে থেকেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন সিস্টেমের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারে। যা সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপদ ও শক্তিশালী আইটি অবকাঠামো ছাড়া এই প্রযুক্তি বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের (Anthropic) উন্নত এআই মডেল ‘Claude Mythos’ সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এর কিছু সময়ের মধ্যেই একটি অননুমোদিত গোষ্ঠী দাবি করে, তারা মডেলটিতে প্রবেশাধিকার পেয়েছে। যদিও বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি, তবুও এটি প্রতিরক্ষা খাতে এআই নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত এআই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে পারে। যুদ্ধক্ষেত্র, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং কৌশলগত পরিকল্পনায় এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। তবে একই সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ছে, কারণ এজেন্টিক এআই এখন সংবেদনশীল নেটওয়ার্ক, গোপন তথ্যভান্ডার ও সামরিক কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা খাতে নিরাপদ এআই ব্যবহারের জন্য তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ…

১. এআই মডেলে কী ধরনের তথ্য প্রবেশ করছে?
এআইকে কার্যকর করতে বিপুল পরিমাণ তথ্য ও ডেটা প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেই তথ্য যদি ভুয়া, পুরোনো বা ‘পয়জনড’ হয়, তাহলে এআই ভুল বিশ্লেষণ বা বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্ত দিতে পারে। ফলে নিরাপদভাবে তথ্য যাচাই ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ডেটা সরবরাহ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২. কারা এআই ব্যবহারের অনুমতি পাবে?
প্রতিরক্ষা খাতে কাজ করেন সামরিক কর্মকর্তা, গোয়েন্দা বিশ্লেষক, মিত্র রাষ্ট্রের অংশীদার এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি দল। সবাইকে একই ধরনের প্রবেশাধিকার দিলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই কে কোন তথ্য বা সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারবে, তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

৩. এআই কোন সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে?
এআই যখন কোনও ডেটাবেজ, সামরিক নেটওয়ার্ক বা অংশীদার দেশের সিস্টেমে সংযোগ স্থাপন করবে, তখন তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় নিরাপত্তা স্তর ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

নিরাপদ অবকাঠামো ছাড়া এআই ঝুঁকিপূর্ণ
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এভারফক্স জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য নিরাপদ নেটওয়ার্ক অবকাঠামো এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে ওঠেছে। শুধু শক্তিশালী এআই মডেল তৈরি করলেই হবে না; বরং এর চারপাশে থাকতে হবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক এবং শক্তিশালী তথ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, ততই বাড়ছে সাইবার হামলা, তথ্য চুরি ও নিরাপত্তা ভঙ্গের আশঙ্কা। এজন্য শুরু থেকেই নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পরে প্রযুক্তির সঙ্গে নিরাপত্তা যোগ করার চেষ্টা করলে তা কার্যকর নাও হতে পারে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতের সামরিক সক্ষমতা নির্ধারণে এআই গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে ওঠবে। দ্রুত তথ্য বিশ্লেষণ, শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এআই বড় সুবিধা দেবে। তবে নিরাপদ নেটওয়ার্ক ও সুরক্ষিত অবকাঠামো ছাড়া এই প্রযুক্তিকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা সম্ভব নয়। তাই প্রতিরক্ষা খাতে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষাকে সমান গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

লেখক: ডেভ ওয়াজগ্রাস- চেয়ারম্যান এবং সিইও এভারফক্স (দ্য হ্যাকার নিউজ থেকে বাংলায় অনুবাদকৃত)

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *