অফিসের জন্য সঠিক মেকানিক্যাল কিবোর্ড বাছাই করবেন যেভাবে
ক.বি.ডেস্ক: অফিসে দীর্ঘ সময় কমপিউটারে কাজ করার ক্ষেত্রে কিবোর্ডের ধরন বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মেকানিক্যাল কিবোর্ড ব্যবহারে লেখার গতি, নির্ভুলতা ও স্বাচ্ছন্দ্যে পার্থক্য তৈরি হতে পারে। তবে বাজারে বিভিন্ন ধরনের মেকানিক্যাল কিবোর্ড ও সুইচ থাকায় নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিকটি বেছে নেয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। মেকানিক্যাল কিবোর্ড কেনার আগে তাই কিবোর্ডের আকার, বোতাম চাপার অনুভূতি, শব্দের মাত্রা এবং কোথায় এটি ব্যবহার করা হবে এসব বিষয় বিবেচনা করা জরুরি।
সুইচই নির্ধারণ করে কিবোর্ডের অনুভূতি
প্রচলিত কিবোর্ডে পুরো কিবোর্ডের জন্য একটি ঝিল্লিভিত্তিক ব্যবস্থা থাকে। অন্যদিকে মেকানিক্যাল কিবোর্ডে প্রতিটি বোতামের নিচে আলাদা সুইচ থাকে। ফলে প্রতিটি বোতাম চাপার সময় নির্দিষ্ট অনুভূতি ও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। এ ধরনের কিবোর্ড সাধারণত বেশি নির্ভুল, দীর্ঘস্থায়ী এবং ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করার সুযোগ দেয়। মেকানিক্যাল কিবোর্ডের সুইচ মূলত সরল, স্পর্শ-প্রতিক্রিয়াশীল, ক্লিকধর্মী, আলোকভিত্তিক ও চৌম্বকভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে।
অফিসের জন্য কোন সুইচ ভালো?
যারা অফিসে কিবোর্ড ব্যবহার করবেন, তাদের জন্য শব্দের মাত্রা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ক্লিকধর্মী সুইচ চাপলে স্পষ্ট শব্দ ও শক্তিশালী স্পর্শ-প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। অনেকটা পুরোনো টাইপরাইটারে লেখার মতো অনুভূতি দেয় এটি। মেকানিক্যাল কিবোর্ডপ্রেমীদের কাছে এই ধরনের সুইচ জনপ্রিয় হলেও অফিসের নীরব পরিবেশে এর শব্দ সহকর্মীদের বিরক্ত করতে পারে।
এ ক্ষেত্রে সরল ধরনের সুইচ ভালো বিকল্প হতে পারে। এগুলো চাপলে তুলনামূলক কম শব্দ হয় এবং বোতাম চাপার সময় বাড়তি বাধা বা স্পর্শ-প্রতিক্রিয়া প্রায় থাকে না। ফলে দ্রুত টাইপ করার পাশাপাশি আশপাশের মানুষের কাজে কম বিঘ্ন ঘটে।
যারা শব্দ কম রাখতে চান, কিন্তু বোতাম চাপার সময় সামান্য স্পর্শ-প্রতিক্রিয়াও পছন্দ করেন, তারা স্পর্শ-প্রতিক্রিয়াশীল সুইচ বেছে নিতে পারেন। এতে বোতাম চাপার সময় একটি হালকা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়, যা দীর্ঘ নথি লেখা, তথ্য প্রতিলিপি করা কিংবা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে টাইপ করার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে ক্লিকধর্মী সুইচের তুলনায় শব্দও কম হয়।
আলোক ও চৌম্বকভিত্তিক সুইচ
আলোকভিত্তিক সুইচে প্রচলিত যান্ত্রিক সংযোগের পরিবর্তে আলো ব্যবহার করে বোতাম চাপার ঘটনা শনাক্ত করা হয়। এতে যান্ত্রিক অংশ তুলনামূলক কম থাকায় নষ্ট হওয়ার সম্ভাব্য জায়গাও কম থাকে। এগুলো সরল বা স্পর্শ-প্রতিক্রিয়াশীল অনুভূতি দিতে পারে।
চৌম্বকভিত্তিক সুইচেও একই ধরনের সুবিধা রয়েছে। তবে এখানে বোতাম চাপার ঘটনা শনাক্ত করতে চুম্বক ব্যবহার করা হয়। যান্ত্রিক অংশ কম থাকায় এগুলোও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। আলোক ও চৌম্বকভিত্তিক সুইচের অনেক মডেলেই ব্যবহারকারী অনুযায়ী চাপার অনুভূতি পরিবর্তনের সুযোগ থাকে।
কিবোর্ডের আকারও গুরুত্বপূর্ণ
সুইচের পাশাপাশি কিবোর্ডের আকারও বিবেচনা করতে হবে। পূর্ণ আকারের কিবোর্ডে আলাদা সংখ্যার বোতাম থাকে। যারা নিয়মিত হিসাব, তথ্য বা সংখ্যাভিত্তিক কাজ করেন, তাদের জন্য এটি বেশ সুবিধাজনক। অন্যদিকে ছোট আকারের কিবোর্ডে অতিরিক্ত সংখ্যার অংশ বাদ দেয়া হয়। এতে ডেস্কে কম জায়গা লাগে এবং সহজে বহন করা যায়। তবে কিছু অতিরিক্ত কাজের জন্য একই সঙ্গে একাধিক বোতাম চাপতে হতে পারে। তাই সংখ্যার বোতাম নিয়মিত প্রয়োজন হলে পূর্ণ আকারের কিবোর্ডই ভালো।
কেনার আগে ব্যবহার করে দেখা সবচেয়ে ভালো
মেকানিক্যাল কিবোর্ডের ক্ষেত্রে কোন সুইচ কার জন্য সবচেয়ে ভালো এর নির্দিষ্ট উত্তর নেই। একই সুইচ একজনের কাছে আরামদায়ক হলেও অন্যের কাছে তা পছন্দ নাও হতে পারে। তাই সম্ভব হলে কেনার আগে বিভিন্ন ধরনের সুইচ ব্যবহার করে দেখা ভালো।
অফিসের জন্য কিবোর্ড বাছাইয়ের সময় শব্দ, বোতাম চাপার অনুভূতি, কাজের ধরন ও ডেস্কের জায়গা এই চারটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত। সঠিক কিবোর্ড বেছে নিতে পারলে দীর্ঘ সময় কমপিউটারে কাজ করলেও টাইপিং আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও নির্ভুল হতে পারে। মেকানিক্যাল কিবোর্ডের আরেকটি বড় সুবিধা হলো, ভালো মানের মডেল দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়।





