আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথ সরবরাহে কোনও ঘাটতি নেই: বিএসসিপিএলসি
ক.বি.ডেস্ক: বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংযোগ ও ব্যান্ডউইডথ সক্ষমতা নিয়ে সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি) প্রতিবাদলিপি প্রদান করেছে।
আজ মঙ্গলবার (১২ মে) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ জসীম উদ্দিন-এরস্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের আওতাধীন এবং পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি) দীর্ঘদিন ধরে দেশের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংযোগ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা, সক্ষমতা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের নির্ভরযোগ্য দুটি সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেম ‘এসইএ-এমই-উই-৪’ এবং ‘এসইএ-এমই-উই-৫’ পরিচালনা করছে।
বর্তমানে এই দুই ক্যাবল সিস্টেমের সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ৭,২০০ জিবিপিএস। এর মধ্যে প্রায় ৪,১০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে এবং আরও প্রায় ৩,১০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের সক্ষমতা বিএসসিপিএলসির হাতে রয়েছে। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব।
“হুতি বিদ্রোহী বা ইরানের আঘাতে বাংলাদেশ ডিজিটাল অন্ধকারে পড়তে পারে”- এ ধরনের প্রচারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও অযৌক্তিক
দুঃখজনকভাবে, সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যম বিএসসিপিএলসির মতামত গ্রহণ না করেই সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবস্থা, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য ব্যান্ডউইডথ ঘাটতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিএসসিপিএলসির তথ্য অনুযায়ী, মোট ৭,২০০ জিবিপিএস সক্ষমতার মধ্যে মাত্র ১০০ জিবিপিএস লোহিত সাগর হয়ে পরিচালিত হয়, যা মোট সক্ষমতার মাত্র ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে বর্তমানে কোনও ক্যাবল সংযোগ পরিচালিত হচ্ছে না। অবশিষ্ট ৭,১০০ জিবিপিএসের মধ্যে সিঙ্গাপুরে ৬,০০০ জিবিপিএস এবং চেন্নাইয়ে ১,১০০ জিবিপিএস সংযোগ রয়েছে, যা হরমুজ কিংবা বাব আল-মান্দেব প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল নয়। ফলে “হুতি বিদ্রোহী বা ইরানের আঘাতে বাংলাদেশ ডিজিটাল অন্ধকারে পড়তে পারে”— এ ধরনের প্রচারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও অযৌক্তিক।
একইসঙ্গে কিছু গণমাধ্যমে ‘এসইএ-এমই-উই-৫’ ক্যাবলের সক্ষমতা প্রায় শেষ হয়ে গেছে বলে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, সেটিও সঠিক নয়। বর্তমানে এ ক্যাবলের লিট-আপ ক্যাপাসিটি ২,২০০ জিবিপিএস, যার মধ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে ১,৪৮৮ জিবিপিএস। অর্থাৎ এখনও ৭১২ জিবিপিএস অব্যবহৃত সক্ষমতা বিদ্যমান রয়েছে। ক্যাবলটির কার্যকারিতা ও আয়ুষ্কাল ২০৩৭ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তা আরও বাড়ানো সম্ভব।
‘এসইএ-এমই-উই-৪’কে “জীবনকালের শেষ পর্যায়ে থাকা পুরোনো ক্যাবল” হিসেবে উপস্থাপন করে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে
অন্যদিকে ‘এসইএ-এমই-উই-৪’কে “জীবনকালের শেষ পর্যায়ে থাকা পুরোনো ক্যাবল” হিসেবে উপস্থাপন করে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। বাস্তবে বর্তমানে এই ক্যাবলের সক্ষমতা ৪,৬৫০ জিবিপিএস এবং এর মাধ্যমে প্রায় ২,৫৯৫ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করা হচ্ছে। কনসোর্টিয়াম কর্তৃক এর আয়ুষ্কাল ২০৩০ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
দেশের ভবিষ্যৎ ডিজিটাল চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে বিএসসিপিএলসি ইতোমধ্যে আরও একটি অত্যাধুনিক ও নির্ভরযোগ্য সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেম ‘এসইএ-এমই-উই-৬’ বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। ২০২৭ সালের শুরুতে এই ক্যাবল চালু হলে কক্সবাজার-সিঙ্গাপুর এবং কক্সবাজার-মুম্বাই প্রান্তে প্রায় ১৫,০০০ জিবিপিএস করে মোট ৩০,০০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের সক্ষমতা যুক্ত হবে। এর ফলে ২০২৭ সালের মধ্যে রাষ্ট্রীয় সাবমেরিন ক্যাবলগুলোর মোট সক্ষমতা দাঁড়াবে প্রায় ৩৮,০০০ জিবিপিএস।
‘এসইএ-এমই-উই-৫’ ক্যাবলের সক্ষমতা প্রায় শেষ হয়ে গেছে বলে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, সেটিও সঠিক নয়
বিএসসিপিএলসি দৃঢ়ভাবে জানাচ্ছে যে, দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইডথ চাহিদা পূরণে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথ সরবরাহে বর্তমানে কিংবা ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা নেই। একইসঙ্গে দেশের সকল অপারেটর, ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং সচেতন নাগরিকদের বিভ্রান্তিকর ও যাচাইবিহীন প্রতিবেদনে প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
বাংলাদেশের নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সার্বভৌম সাবমেরিন ক্যাবল অবকাঠামো ‘এসইএ-এমই-উই-৪’; ‘এসইএ-এমই-উই-৫’ এবং ‘এসইএ-এমই-উই-৬’ থেকে ব্যান্ডউইডথ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় অংশীদার হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। জাতীয় তথ্য অবকাঠামোর নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন আন্তর্জাতিক সংযোগ এবং দেশের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএসসিপিএলসি সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।





