সাম্প্রতিক সংবাদ

১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে চালু হতে পারে বাংলাদেশের ডিজিটাল আইডি

ক.বি.ডেস্ক: বাংলাদেশে সরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণের প্রধান মাধ্যম হিসেবে একটি একক ডিজিটাল পরিচয় বা ডিজিটাল আইডি চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে এআই-নির্ভর ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) গড়ে তোলার কাজ চলছে। আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে এই ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি) রেহান আসিফ আসাদ।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে রেহান আসিফ আসাদ বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য বিশ্বের নিরাপদ ও কার্যকর ডিপিআই এবং ডিজিটাল আইডি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের মহাসচিবের প্রযুক্তিবিষয়ক দূতের কার্যালয় ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) যৌথভাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেন। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে প্যানেলে একমাত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিনিধিত্ব করে।

উপদেষ্টা রেহান আসাদ বলেন, বিভিন্ন দেশের সর্বোত্তম চর্চা ও অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ ডিজিটাল আইডি এবং বৃহত্তর ডিপিআই অবকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছে। এ প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে এবং কোনও শর্টকাট নেই। দেশের ভবিষ্যৎ ডিজিটাল সেবার ভিত্তি তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। ভবিষ্যতে সরকারি সেবা প্রদানে ডিপিআই ও ডিজিটাল আইডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল ব্যবস্থা যাতে নিরাপদে পরস্পরের সঙ্গে কাজ করতে পারে, সে জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

রেহান আসাদ বলেন, নিজস্ব ডিপিআই অবকাঠামো তৈরির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ এস্তোনিয়ার এক্স-রোড মডেল নিয়ে কাজ করছে। সরকারি বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে নিরাপদে তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে এক্স-রোড গুরুত্বপূর্ণ একটি মডেল। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্যব্যবস্থাকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে তথ্য বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের ডিপিআইকে পরস্পরের সঙ্গে ইন্টারঅপারেবল বা সামঞ্জস্যপূর্ণ করার বিষয়েও আলোচনা হয়। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে সীমান্তপারের ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে যৌথভাবে কাজ করছে। রুয়ান্ডা সরকারি সেবা গ্রহণ ও পূর্ব আফ্রিকায় সীমান্তপারের পরিচয় যাচাইয়ে ডিজিটাল আইডি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল ব্যবস্থা যাতে পরস্পরের সঙ্গে নিরাপদে কাজ করতে পারে, পাশাপাশি নাগরিকের আস্থা ও তথ্যের নিরাপত্তা বজায় থাকে, সে জন্য দেশ ও অঞ্চলগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন।

এআই ও ডিপিআইয়ের সম্পর্ক, পাশাপাশি ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও নাগরিকের আস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ও গুরুত্ব পায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নও অভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে ডিজিটাল আইডেন্টিটি ওয়ালেট চালুর দিকে এগোচ্ছে। এসব ওয়ালেটের মাধ্যমে নাগরিকরা পরিচয় যাচাইয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল নথি ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য নিরাপদে শেয়ার করতে পারবেন।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *