ভায়োর নতুন ল্যাপটপে ৬৪ জিবি র্যাম, ২ টেরাবাইট এসএসডি, ব্যাটারি চলবে ১৮ ঘণ্টা
ক.বি.ডেস্ক: জাপানের বাজারে নতুন ‘টি সিরিজ’ ল্যাপটপ উন্মোচন করেছে প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা ভায়ো। বহুমুখী ভাঁজযোগ্য কবজার নকশার এই ল্যাপটপটি প্রচলিত কমপিউটা, ট্যাবলেট ও প্রদর্শন তিন ধরনের ব্যবহারের সুবিধা দেবে। এতে রয়েছে ১৩ দশমিক ৩ ইঞ্চির হাই রেজ্যুলেশনের স্পর্শনির্ভর পর্দা, ইন্টেল কোর আল্ট্রা প্রসেসর এবং সর্বোচ্চ ৬৪ গিগাবাইট মেমোরি। স্টোরেজ হিসেবে পাওয়া যাবে সর্বোচ্চ ২ টেরাবাইটের দ্রুতগতির এসএসডি।
টি সিরিজের অন্যতম আকর্ষণ এর বিশেষ ‘মাল্টি-ফ্লিপ’ কবজা। এর মাধ্যমে ল্যাপটপের পর্দা বিভিন্ন দিকে ভাঁজ করে প্রচলিত ল্যাপটপ, ট্যাবলেট এবং পর্দা প্রদর্শনের মোডে ব্যবহার করা যায়। ফলে কাজ, বিনোদন কিংবা উপস্থাপনার সময় প্রয়োজন অনুযায়ী পর্দার অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব। রয়েছে ১৩ দশমিক ৩ ইঞ্চির ১৬:১০ অনুপাতের ডব্লিউকিউএক্সজিএ স্পর্শনির্ভর পর্দা। এর রেজ্যুলেশন ২৫৬০×১৬০০ পিক্সেল। পর্দায় ভায়োর নিজস্ব স্পর্শপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এবং এতে চকচকে আবরণ রয়েছে।
ভায়ো টি সিরিজে প্রসেসর হিসেবে বেছে নেয়ার সুযোগ রয়েছে ইন্টেলের কোর আল্ট্রা ৫ ৩২৫ এবং কোর আল্ট্রা ৭ ৩৫৬এইচ। এর মধ্যে কোর আল্ট্রা ৭ ৩৫৬এইচ মডেলে ১৬টি কোর ও ১৬টি থ্রেড রয়েছে। কোর আল্ট্রা ৫ ৩২৫-এ রয়েছে ৮টি কোর ও ৮টি থ্রেড। মেমোরির দিক থেকেও রয়েছে একাধিক বিকল্প।
প্রাথমিক সংস্করণে ১৬ জিবি এলপিডিডিআর৫এক্স র্যাম ও ৫১২ জিবি এসএসডি রয়েছে। কোর আল্ট্রা ৫ ৩২৫ সংস্করণে সর্বোচ্চ ৩২ জিবি র্যাম এবং কোর আল্ট্রা ৭ ৩৫৬এইচ সংস্করণে সর্বোচ্চ ৬৪ জিবি র্যাম নেয়া যাবে। স্টোরেজের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ টেরাবাইট পিসিআইই ৫.০ এসএসডি বেছে নেয়ার সুবিধা রয়েছে। ফলে বড় আকারের সফটওয়্যার, ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণে পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যাবে।
দীর্ঘ সময় ব্যবহারের জন্য ভায়ো টি সিরিজে অতিরিক্ত ক্ষমতার ব্যাটারি নেয়ার সুযোগ রেখেছে। এই ব্যাটারি যুক্ত করলে প্রায় ১৮ ঘণ্টা ভিডিও চালানো যাবে বলে জানিয়েছে ভায়ো। নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ব্যাটারি ২৯ ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে বলে জাপানের জেইআইটিএ ৩.০ পদ্ধতির পরিমাপে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
অতিরিক্ত ক্ষমতার ব্যাটারির জন্য গুনতে হবে আরও ১১ হাজার ইয়েন। ল্যাপটপটির ওজন শুরু হচ্ছে ১ দশমিক ২৫৩ কেজি থেকে। এর পুরুত্ব সর্বনিম্ন ১৪ দশমিক ৬ মিলিমিটার এবং সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৬ মিলিমিটার। রঙের ক্ষেত্রে রয়েছে ফাইন ব্ল্যাক ও ফাইন রেড।
ভিডিও কল এবং নিরাপত্তার জন্য ল্যাপটপটিতে রয়েছে ৯ দশমিক ২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। এর সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক দৃষ্টিসংবেদক এবং উইন্ডোজ হ্যালোর মাধ্যমে মুখ শনাক্ত করে প্রবেশের সুবিধা রয়েছে। ভিডিও সভার সময় শব্দ কমানো এবং অনলাইন সভা নিয়ন্ত্রণের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সুবিধাও যুক্ত করেছে ভায়ো। ‘ভায়ো ওয়েলনেসকেয়ার’ নামে একটি সুবিধা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে চালুর কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে ক্যামেরা ব্যবহার করে রক্তনালি ও হৃদস্পন্দনসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার সুবিধা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
ভায়োর নতুন টি সিরিজের ল্যাপটপের বিক্রি ইতোমধ্যে জাপানে শুরু হয়েছে। এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর ল্যাপটপটির ঘোষণা দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।ভায়ো টি সিরিজের ভিসিটিএনএন১ মডেলের অর্ডার জাপানের ভায়ো স্টোরে নেয়া হচ্ছে। এর মূল্য শুরু হয়েছে ৩ লাখ ৪১ হাজার ইয়েন থেকে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার কাছাকাছি। তবে প্রাথমিক বিক্রয়মূল্যে ৩৩ হাজার ইয়েন ছাড় দেয়া হচ্ছে। এই ছাড় চলবে ১ ডিসেম্বর জাপান সময় সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।
প্রাথমিক সংস্করণে থাকছে কোর আল্ট্রা ৫ ৩২৫ প্রসেসর, ১৬ গিগাবাইট মেমোরি এবং ৫১২ গিগাবাইট এসএসডি। ২ টেরাবাইট পর্যন্ত পঞ্চম প্রজন্মের দ্রুতগতির এসএসডি নিতে অতিরিক্ত সর্বোচ্চ ১ লাখ ৯৮ হাজার ইয়েন খরচ হবে। উচ্চক্ষমতার ব্যাটারির জন্য অতিরিক্ত ১১ হাজার ইয়েন এবং ইংরেজি কিবোর্ডের জন্য ৫ হাজার ৫০০ ইয়েন দিতে হবে।





