সাম্প্রতিক সংবাদ

ভুয়া ক্লড অ্যাপ দিয়ে এপিএসি অঞ্চলে হামলা চালাচ্ছে সিলভারফক্স: ক্যাসপারস্কি

ক.বি.ডেস্ক: এশিয়া-প্যাসিফিক (এপিএসি) অঞ্চলে সক্রিয় সাইবার অপরাধী গ্রুপগুলোর মধ্যে সিলভারফক্স অন্যতম বলে জানিয়েছে ক্যাসপারস্কির গ্লোবাল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম (জিআরইএটি)। ভুয়া ওয়েবসাইট, ফিশিং ই-মেইল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ক্ষতিকর ফাইলের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি ও সংবেদনশীল তথ্য চুরি করছে গ্রুপটি। সম্প্রতি উইন্ডোজ, ম্যাকওএস ও লিনাক্সের জন্য ভুয়া ক্লড অ্যাপ ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনাও শনাক্ত করেছে ক্যাসপারস্কি।

ক্যাসপারস্কি জিআরইএটি-এর প্রধান নিরাপত্তা গবেষক ই জিন (সেথ) বলেন, “সিলভারফক্স এপিএসি অঞ্চলের অন্যতম সক্রিয় গ্রুপ। তারা মূলত ভুয়া ওয়েবসাইট, ফিশিং ই-মেইল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া ক্ষতিকর ফাইল এর মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুতে প্রবেশ করে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের জন্য ম্যালওয়্যার ছড়ানো হয়। আমাদের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তারা এখন উইন্ডোজ, ম্যাকওএস ও লিনাক্সের জন্য ভুয়া ক্লড অ্যাপও বিতরণ করছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে এআই টুলের ব্যবহার বাড়ার সুযোগ নিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেদ করার চেষ্টা করছে তারা।”

সিলভারফক্সের হামলার প্রধান লক্ষ্য গ্রেটার চায়না। গ্রুপটির মোট হামলার ৯০ শতাংশের বেশি এই অঞ্চলে পরিচালিত হয়েছে। শুধু চীনের মূল ভূখণ্ডেই হয়েছে ৭১ শতাংশ হামলা। মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও সিঙ্গাপুরেও উল্লেখযোগ্য হামলার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। শিল্পখাত সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তু হলেও তথ্যপ্রযুক্তি ও সেবা, স্বাস্থ্যসেবা এবং আর্থিক খাতও হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।

ই জিন বলেন, “আমাদের বর্তমান হুমকি-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেটার চায়নাই সিলভারফক্সের প্রধান লক্ষ্য। গোষ্ঠীটির ৯০ শতাংশের বেশি হামলা এই অঞ্চলে হয়েছে, যার ৭১ শতাংশই চীনের মূল ভূখণ্ডে। মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও সিঙ্গাপুরেও উল্লেখযোগ্য হামলা হচ্ছে। এসব অঞ্চলকে আমাদের বিশেষভাবে নজরে রাখতে হবে।”

এদিকে এজেন্টিক এআই ঘিরে নতুন ধরনের সাইবার হুমকির বিষয়েও সতর্ক করেছে ক্যাসপারস্কি। এর উদাহরণ হিসেবে ‘জাদেপুফার’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেটিকে বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ এলএলএম-নির্ভর র‍্যানসমওয়্যার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ক্যাসপারস্কির তথ্য অনুযায়ী, এই ক্ষতিকর এআই এজেন্ট একটি ব্যর্থ হামলা শনাক্ত করা, কৌশল পরিবর্তন এবং নতুন করে হামলা চালানোর পুরো প্রক্রিয়া মাত্র ৩১ সেকেন্ডে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে।

ই জিন বলেন, “সিসডিগের প্রকাশিত এই ঘটনায় ক্ষতিকর এআই এজেন্টটি ব্যর্থ হামলা শনাক্ত করে, কৌশল পরিবর্তন করে এবং মাত্র ৩১ সেকেন্ডের মধ্যে নতুন হামলা চালিয়েছে। এই গতি অধিকাংশ মানব নিরাপত্তাকর্মীর প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। একই সঙ্গে ‘জাদেপুফার’ এআই এজেন্টের অভূতপূর্ব স্বায়ত্তশাসনের সক্ষমতাও দেখিয়েছে। সরাসরি তদারকি ছাড়াই হামলার বিভিন্ন পর্যায়ে এটি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অর্থাৎ একজন অভিজ্ঞ মানব হামলাকারীর মতো পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও এআই এজেন্ট অর্জন করছে।”

এই ধরনের হুমকি মোকাবিলায় ক্যাসপারস্কি এআই-নির্ভর সক্রিয় থ্রেট হান্টিং, জিরো ট্রাস্ট আর্কিটেকচার, পুরো প্রযুক্তি অবকাঠামোজুড়ে সমন্বিত নিরাপত্তা এবং হুমকি শনাক্ত ও মোকাবিলায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে।

ই জিন আরও বলেন, “হামলাকারীরা যখন এআই ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করতে এবং হামলার প্রতিটি ধাপ দ্রুত সম্পন্ন করতে পারে, তখন প্রতিরক্ষাকারীদেরও একই মাত্রার বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। নিয়মিত হালনাগাদ থ্রেট ইন্টেলিজেন্সে সমৃদ্ধ সাইবার নিরাপত্তা সমাধান এখন আর বাড়তি সুবিধা নয়; দ্রুত পরিবর্তনশীল হুমকির বিরুদ্ধে এগিয়ে থাকার জন্য এটি অপরিহার্য।”

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *