সিয়েলারা কোড: ক্লড কোড ও কোডেক্সকে ছাড়িয়ে নতুন এআই প্রযুক্তির দাবি
ক.বি.ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) কোডিং এজেন্ট সফটওয়্যার উন্নয়নের গতি বাড়াচ্ছে। তবে এসব এআই দিয়ে তৈরি করা কোড বাস্তব উৎপাদন পরিবেশে কীভাবে কাজ করবে, তা আগেভাগে নিশ্চিত করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় কোড পর্যালোচনা ও স্বয়ংক্রিয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও বিভিন্ন নির্ভরশীলতা, নীতিমালা, চলমান অবস্থা এবং অবকাঠামোগত জটিলতার কারণে অপ্রত্যাশিত ত্রুটি দেখা দেয়।
এই সমস্যা সমাধানে নতুন গবেষণা প্রকাশ করেছে কজাল ডায়নামিকস ল্যাব। প্রতিষ্ঠানটি ছয়-স্তরবিশিষ্ট কার্যকারণভিত্তিক কাঠামো (কজাল অন্টোলজি) এবং কোড কার্যকারণ গ্রাফ তৈরি করেছে, যা এআই কোডিং এজেন্টকে সফটওয়্যার ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। এ প্রযুক্তির ভিত্তিতে তৈরি তাদের প্রধান পণ্য ‘সিয়েলারা কোড’। এটি কোনও কোড প্রোডাকশনে পাঠানোর আগেই সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ ও সিমুলেশনের মাধ্যমে যাচাই করতে পারে।
হাজারও কোডিং সেশনের ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, এআই এজেন্টগুলোর মোট কার্যক্রমের ৫৬ দশমিক ৮ শতাংশই ছিল ফাইল পড়া এবং ২৪ দশমিক ২ শতাংশ ছিল অনুসন্ধান। অথচ প্রকৃত কোড সম্পাদনার হার ছিল ১ শতাংশেরও কম। অর্থাৎ, এআইয়ের প্রধান সমস্যা কোড লেখা নয়; বরং সঠিক ফাইল ও পরিবর্তনের স্থান শনাক্ত করা।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কোনও সমস্যার সমাধানে ছয়টির বেশি ফাইল যুক্ত থাকলে এআই এজেন্টের সঠিকভাবে পরিবর্তনের স্থান খুঁজে বের করার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একই সঙ্গে ব্যর্থ প্রচেষ্টায় সফল প্রচেষ্টার তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি কম্পিউটিং সক্ষমতা ব্যয় হয়।
কজাল ডায়নামিকস ল্যাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, ‘‘বর্তমানে অধিকাংশ কোডিং এজেন্ট সাধারণ টেক্সট অনুসন্ধানের ওপর নির্ভর করে। ফলে তারা সফটওয়্যার ব্যবস্থার কার্যকারণ সম্পর্ক বুঝতে পারে না। সিয়েলারা কোড সেই সীমাবদ্ধতা দূর করে এআইকে একটি কার্যকারণভিত্তিক মডেল দেয়, যাতে প্রতিটি পরিবর্তনের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ ও যাচাই করা সম্ভব হয়।’’
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রচলিত এআই এজেন্টগুলো কোডকে শুধু টেক্সট হিসেবে দেখে। ফলে বিভিন্ন ফাইল, ফাংশন ও নির্ভরশীলতার সম্পর্ক কিংবা একটি পরিবর্তনের প্রভাব পুরো সফটওয়্যার ব্যবস্থায় কীভাবে ছড়িয়ে পড়বে, সে বিষয়ে তাদের স্পষ্ট ধারণা থাকে না।
এ সমস্যা সমাধানে সিয়েলারা কোড-এ যুক্ত করা হয়েছে প্রোডাকশন ওয়ার্ল্ড মডেল। এটি একটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন পরিবেশকে ছয়-স্তরবিশিষ্ট কার্যকারণ গ্রাফে রূপ দেয়। এর মাধ্যমে কোড কী কাজ করে, কেন তৈরি হয়েছে, কার দায়িত্বে রয়েছে, কী ধরনের নীতিগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে, কোথায় চলছে এবং বাস্তবে কী ঘটেছে—এসব তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা যায়। ফলে কোনো ত্রুটি ঘটলে সেটি কোন পরিবর্তনের মাধ্যমে এসেছে, কে অনুমোদন দিয়েছেন এবং পরিবর্তনের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব।
প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তিনটি স্বতন্ত্র বেঞ্চমার্কে সিয়েলারা কোড কোড পরিবর্তনের সঠিক স্থান শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ক্লড কোড (অপাস–৪.৬) এবং ওপেনএআই কোডেক্স (জিপিটি–৫.৪)-এর তুলনায় ভালো ফল করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এর নির্ভুলতা ছিল ০.৭৭৪, যেখানে ক্লড কোডের ০.৭৩৮ এবং কোডেক্সের ০.৭০৭।
এ ছাড়া রিজনারা নামে একটি গ্রাফভিত্তিক কার্যকারণ স্মৃতি প্রযুক্তিও উন্মোচন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে পুরো কোডভান্ডার প্রতিবার ব্যবহার না করে প্রয়োজনীয় তথ্যই নির্বাচন করা হয়। কোম্পানির দাবি, এতে সর্বোচ্চ ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত টোকেন সাশ্রয় সম্ভব। বর্তমানে ফরচুন ১০০ তালিকাভুক্ত ১১টি এবং ফরচুন ৫০০ তালিকাভুক্ত ৪০টির বেশি প্রতিষ্ঠান তাদের কোডভান্ডারে সিয়েলারা কোড ব্যবহার করছে বলে জানিয়েছে কজাল ডায়নামিকস ল্যাব।
প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে রয়েছেন বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিবুল হক উবারের প্ল্যাটফর্ম ইঞ্জিনিয়ারিং টিমে নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা রায়ান টার্নার ছিলেন উবারের স্টাফ ইঞ্জিনিয়ার এবং সিএনসিএফ স্পায়ার প্রকল্পের মেইনটেইনার। গবেষণায় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন সাবেক মাইক্রোসফট রিসার্চ গবেষক ড. জুচাও ঝ্যাং এবং ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. লিয়াং ঝাও। এ গবেষণায় ইমোরি এআই ল্যাবের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক গবেষণা অংশীদারত্বও রয়েছে।
আগামী দিনে প্রোডাকশন ওয়ার্ল্ড মডেল-এর ভিত্তিতে কোড, অবকাঠামো, নীতিমালা ও চলমান ব্যবস্থার পরিবর্তনের পূর্ণাঙ্গ কার্যকারণভিত্তিক সিমুলেশন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে কজাল ডায়নামিকস ল্যাবের। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, ভবিষ্যতে এআই এজেন্টগুলো সফটওয়্যারে কোনো পরিবর্তন আনার আগে সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করে আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।





