২০৩০ সালে কি আমরা এখনও স্মার্টফোন ব্যবহার করবো! নাকি স্মার্টফোনই ইতিহাস হয়ে যাবে?
এস এম নাজমুল হক ইমন: একটা সময় ছিল, যখন আমরা কিপ্যাড ফোন ছাড়া অন্য কিছু কল্পনাই করতে পারতাম না। এরপর এলো টাচস্ক্রিন স্মার্টফোন। ধীরে ধীরে ক্যামেরা, ব্যাংকিং, অফিস, কেনাকাটা, বিনোদন সবকিছুই চলে এলো হাতের মুঠোয়। এখন এমন অবস্থা, অনেকের কাছে স্মার্টফোন ছাড়া একটি দিনও কল্পনা করা কঠিন। কিন্তু একটি প্রশ্ন কি কখনও ভেবেছেন? ২০৩০ সালে কি এখনও আমরা আজকের মতো স্মার্টফোন ব্যবহার করবো? আমার মনে হয়, উত্তরটি খুব সহজ নয়।
বর্তমানে বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল, গুগল, মেটা, স্যামসাং, ওপেনএআই সহ অনেকেই এমন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) হবে আমাদের প্রধান সহকারী। ইতোমধ্যেই আমরা টাইপ করার বদলে কথা বলে কাজ করছি, ছবি এডিট করছি, ইমেইল লিখছি, এমনকি পুরো প্রেজেন্টেশনও তৈরি করছি। অর্থাৎ, আমরা ধীরে ধীরে স্ক্রিন স্পর্শ করার চেয়ে এআই-এর সঙ্গে কথা বলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
এখানেই প্রশ্ন আসে, যদি এআই সব বুঝে যায়, তাহলে সারাক্ষণ হাতে ফোন ধরে রাখার দরকার কী? ভাবুন তো, আপনার চোখে একটি স্মার্ট চশমা, কানে ছোট একটি ইয়ারবাড, আর পকেটে হয়তো একটি ছোট এআই ডিভাইস। আপনি শুধু বললেন, আজ বিকেলের মিটিংটা রিশিডিউল করও আর কাজ হয়ে গেল। কাউকে মেসেজ পাঠাতে ফোন বের করতে হলো না, রাইড বুক করতে অ্যাপ খুলতে হলো না, এমনকি ছবি তুলতেও ফোন হাতে নিতে হলো না।
শুনতে বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মতো লাগলেও, এই ধরনের প্রযুক্তির প্রাথমিক সংস্করণ আমরা ইতোমধ্যেই দেখতে শুরু করেছি। স্মার্ট গ্লাস, এআই সহকারী, ভয়েস-ফার্স্ট ডিভাইস সবই ধীরে ধীরে বাস্তব হচ্ছে। তবে আমি মনে করি, ২০৩০ সালের মধ্যে স্মার্টফোন পুরোপুরি হারিয়ে যাবে না। বরং এর রূপ বদলাবে। যেমন কিপ্যাড ফোন একদিন পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি, এখনও কিছু মানুষ ব্যবহার করেন। ঠিক তেমনি স্মার্টফোনও থাকবে কিন্তু হয়তো সেটি আর আমাদের জীবনের একমাত্র ডিজিটাল কেন্দ্র হবে না।
সম্ভবত আমরা তখন ফোনের স্ক্রিনে কম সময় কাটাবো আর এআই-এর সঙ্গে বেশি কথা বলবো। অনেক কাজ ঘড়ি, চশমা কিংবা অন্য কোনও ওয়্যারেবল ডিভাইস থেকেই হয়ে যাবে। ফোন তখন ব্যাকআপ ডিভাইসের মতো কাজ করবে যেখানে প্রয়োজন হলে আমরা ফিরে যাবো। প্রযুক্তির ইতিহাস বলে, কোনও বড় পরিবর্তন একদিনে হয় না। ধীরে ধীরে মানুষ নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে অভ্যস্ত হয়, তারপর পুরোনো প্রযুক্তি নিজেই গুরুত্ব হারাতে শুরু করে। হয়তো ২০৩০ সেই পরিবর্তনের মাঝামাঝি সময় হবে।
আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস, ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে স্ক্রিন থেকে এআই-এ। আজ আমরা অ্যাপ খুঁজি, তখন হয়তো শুধু বলবো, এটা করে দাও। এখন আপনাদের কাছে একটি প্রশ্ন রেখে শেষ করছি। আপনার কী মনে হয়? ২০৩০ সালেও কি আমরা আজকের মতো স্মার্টফোন ব্যবহার করবো, নাকি এআই স্মার্ট গ্লাস, স্মার্ট রিং বা অন্য কোনও নতুন ডিভাইস স্মার্টফোনের জায়গা দখল করে নেবে? আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না। ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা সবসময়ই সবচেয়ে মজার।
লেখক: এস এম নাজমুল হক ইমন- হেড অব অনলাইন, দৈনিক ঢাকা রিপোর্ট





