২০২৬ সালের সেরা হোম এন্টারটেইনমেন্ট প্রযুক্তি
ক.বি.ডেস্ক: আপনার টেলিভিশনের ছবিতে কি এখনও ঝাপসা ভাব? ভিডিওর মান প্রত্যাশামতো নয়, আর ঘরের চারপাশ থেকে আসার কথা যে শব্দ, সেটিও যেন ঠিকমতো চারপাশ থেকে আসছে না? তাহলে সময় এসেছে ঘরোয়া বিনোদন ব্যবস্থায় কিছুটা পরিবর্তন আনার। নতুন প্রজন্মের টেলিভিশন, প্রজেক্টর, শব্দব্যবস্থা, স্ট্রিমিং যন্ত্র থেকে শুরু করে গেম খেলার সরঞ্জাম সব মিলিয়ে ২০২৬ সালে ঘরোয়া বিনোদনের প্রযুক্তি আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। মূল্য, কার্যকারিতা, নকশা ও ব্যবহারিক সুবিধা বিবেচনায় বিভিন্ন শ্রেণিতে নজরকাড়া কয়েকটি পণ্য নিয়ে এই আয়োজন।
সামগ্রিকভাবে সেরা: স্যামসাং এস৯৫এইচ ওএলইডি টেলিভিশন
টেলিভিশন প্রযুক্তির সর্বোচ্চ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা দিতে তৈরি হয়েছে স্যামসাংয়ের এস৯৫এইচ। এতে রয়েছে কোয়ান্টাম ডট সমৃদ্ধ ওএলইডি প্রযুক্তি, যা ৪কে মানের ছবিতে অসাধারণ উজ্জ্বলতা ও গভীরতা এনে দেয়। এই টেলিভিশনের রঙের মান এইচডিআর১০+ সমর্থিত। ফলে উজ্জ্বল ও অন্ধকার দৃশ্যের সূক্ষ্ম পার্থক্য আরও স্পষ্টভাবে দেখা যায়। গভীর কালো রঙ এবং দ্রুত ১৬৫ হার্টজ পর্দা পরিবর্তনের হার গেম খেলা ও দ্রুতগতির ভিডিও দেখার সময় মসৃণ অভিজ্ঞতা দেয়।
শুধু ছবি নয়, শব্দের ক্ষেত্রেও এটি বেশ শক্তিশালী। এতে থাকা স্থানিক শব্দ প্রযুক্তি ঘরের বিভিন্ন দিক থেকে শব্দ আসার অনুভূতি তৈরি করে। ম্যাট পর্দা, রুপালি ধাতব কাঠামো এবং পাতলা নকশার কারণে এটি দেয়ালে ঝোলালে টেলিভিশনের পাশাপাশি ঘরের সৌন্দর্যও বাড়ায়। মূল্য তুলনামূলক বেশি হলেও সর্বাধুনিক ঘরোয়া বিনোদন ব্যবস্থা যারা চান, তাদের জন্য এটি আকর্ষণীয় একটি পছন্দ।
সেরা প্রজেক্টর: অ্যাঙ্কার নেবুলা কসমস ৪কে এসই
প্রজেক্টরের বাজারে আরও উজ্জ্বল ছবি বা বেশি সুবিধার কিছু মডেল থাকলেও মান, বহনযোগ্যতা ও মূল্যের সমন্বয়ে অ্যাঙ্কার নেবুলা কসমস ৪কে এসই বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। এটি দেয়ালের মতো সমতল যেকোনও পৃষ্ঠে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবির আকার ও ফোকাস ঠিক করে নিতে পারে। ফলে আলাদা করে দীর্ঘ সময় ধরে সেটআপ করার প্রয়োজন হয় না। ৪কে মানের উজ্জ্বল ও পরিষ্কার ছবি দেখানোর পাশাপাশি এতে রয়েছে সহজে বহন করার জন্য হাতল। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর বহুমুখিতা। ঘরের পাশাপাশি চাইলে এটি নিয়ে যাওয়া যায় বন্ধুর বাড়িতে, এমনকি খোলা জায়গায় সিনেমা দেখানোর আয়োজনেও। আর প্রায় এক হাজার ডলারের কম মূল্যে পাওয়া যাওয়ায় বড় পর্দার অভিজ্ঞতা নেয়ার ক্ষেত্রে এটি বেশ আকর্ষণীয়।
সেরা শব্দদণ্ড: সোনোস আর্ক আল্ট্রা
গত এক দশকে শব্দদণ্ড প্রযুক্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এখন একটি মাত্র শব্দদণ্ড দিয়েই অনেক ক্ষেত্রে একাধিক আলাদা স্পিকারের কাছাকাছি অভিজ্ঞতা পাওয়া সম্ভব। সোনোস আর্ক আল্ট্রা তারই উদাহরণ। এতে ব্যবহৃত শব্দচালনা প্রযুক্তি গভীর খাদধ্বনি এবং পরিষ্কার মধ্য ও উচ্চস্বর তৈরি করে। একই সঙ্গে এটি ডলবি অ্যাটমসের স্থানিক শব্দ সমর্থন করে। ফলে আলাদা করে ঘরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক স্পিকার বসানোর ঝামেলা ছাড়াই সিনেমা, গান ও গেমে চারপাশ থেকে শব্দ আসার মতো অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।
সেরা তারবিহীন চারপাশের শব্দব্যবস্থা: সনি ব্রাভিয়া থিয়েটার কোয়াড
শব্দদণ্ডের তুলনায় আরও ভালোভাবে শব্দকে আলাদা করে চারপাশে ছড়িয়ে দিতে চান, কিন্তু ঘরের দেয়ালজুড়ে তার টানতে চান না? সনি ব্রাভিয়া থিয়েটার কোয়াড হতে পারে সেই সমাধান। এতে রয়েছে চারটি পাতলা তারবিহীন স্পিকার। এগুলো ঘরের বিভিন্ন স্থানে রাখা কিংবা দেয়ালে লাগানো যায়। সঙ্গে থাকা নিয়ন্ত্রণযন্ত্রটির আকারও তুলনামূলক ছোট। স্পিকারগুলোর সামনের ও ওপরের দিকে থাকা শব্দচালক দেয়াল ও ছাদ থেকে শব্দ প্রতিফলিত করে। এর ফলে সিনেমা বা গান শোনার সময় আরও বিস্তৃত ও নিমগ্ন শব্দের পরিবেশ তৈরি হয়।
সেরা বিনোদন আনুষঙ্গিক: ফিলিপস হিউ প্লে এইচডিএমআই সিঙ্ক বক্স ৮কে
পুরোনো টেলিভিশন বদলাতে না চেয়েও যদি গেম খেলা বা ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে চান, তাহলে ফিলিপস হিউ প্লে এইচডিএমআই সিঙ্ক বক্স ৮কে কাজে আসতে পারে। এটি টেলিভিশন ও এইচডিএমআই-ভিত্তিক বিভিন্ন যন্ত্রের মাঝখানে কাজ করে। তবে এটি কেবল সংযোগকেন্দ্র নয়। পর্দায় চলমান দৃশ্য তাৎক্ষণিক বিশ্লেষণ করে এর সঙ্গে যুক্ত স্মার্ট বাতিগুলোর আলোও সেই দৃশ্যের সঙ্গে মিলিয়ে পরিবর্তন করতে পারে। ফলে টেলিভিশনের পেছনের দেয়ালে পর্দার দৃশ্যের সঙ্গে মিল রেখে আলো ছড়িয়ে পড়ে। এতে পর্দা বাস্তবের তুলনায় আরও বড় মনে হয় এবং সিনেমা কিংবা গেম খেলার সময় তৈরি হয় ভিন্ন ধরনের পরিবেশ।
সেরা স্ট্রিমিং যন্ত্র: গুগল টিভি স্ট্রিমার
বর্তমানে প্রায় প্রতিটি টেলিভিশনেই কোনও না কোনও অন্তর্নির্মিত স্ট্রিমিং সুবিধা রয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলোর গতি ও ব্যবহারব্যবস্থা প্রত্যাশামতো নয়। এ জায়গায় আলাদা স্ট্রিমিং যন্ত্র হিসেবে গুগল টিভি স্ট্রিমার নজর কাড়ে। ছোট আকারের এই যন্ত্রটির মূল্য ২০০ ডলারের কম। আগের সংস্করণের তুলনায় এতে ২২ শতাংশ দ্রুততর প্রসেসর এবং দ্বিগুণ স্মৃতি রয়েছে। তারযুক্ত দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগের জন্য রয়েছে ইথারনেট পোর্ট। আরেকটি সুবিধা হলো, এটি ‘ম্যাটার’ সমর্থিত স্মার্ট বাড়ির নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র হিসেবেও কাজ করতে পারে। বিজ্ঞাপন এবং ওয়াই-ফাই ৬ না থাকার মতো কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও স্ট্রিমিংয়ের জন্য এটি শক্তিশালী একটি সমাধান।
সেরা ডিস্কভিত্তিক মিডিয়া প্লেয়ার: ম্যাগনেটার ইউডিপি৮০০ এমকেআইআই
যারা সর্বোচ্চ মানের ছবি ও শব্দ চান এবং এখনো ডিস্কভিত্তিক বিনোদনকে গুরুত্ব দেন, তাদের জন্য ম্যাগনেটার ইউডিপি৮০০ এমকেআইআই তৈরি হয়েছে। এটি ৪কে ভিডিও সর্বোচ্চ ১০০ মেগাবিট প্রতি সেকেন্ড গতিতে পড়তে পারে। ফলে অনলাইন স্ট্রিমিংয়ের তুলনায় অনেক বেশি তথ্যসমৃদ্ধ ও কম সংকুচিত ভিডিও উপভোগের সুযোগ পাওয়া যায়। শুধু ৪কে আল্ট্রা এইচডি ব্লু-রে নয়, সাধারণ ডিভিডি থেকে শুরু করে কোডাক ছবির সিডিও চালাতে পারে এটি। শব্দের ক্ষেত্রে ডলবি ট্রু এইচডি ও ডিটিএস-এইচডি মাস্টার অডিওর মতো ক্ষতিবিহীন উচ্চমানের বিন্যাস সমর্থন করে। তবে এর মূল্য বেশ চড়া। ফলে এটি মূলত সেই সব ব্যবহারকারীর জন্য, যারা বিনোদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মানকে অগ্রাধিকার দেন।
সেরা ভিডিও গেম কনসোল: আরওজি এক্সবক্স অ্যালি এক্স২০
বর্তমানে ব্যক্তিগত কমপিউটার, বহনযোগ্য গেমিং যন্ত্র ও গেম কনসোলের পার্থক্য অনেকটাই কমে এসেছে। আর সেই পরিবর্তনের ভালো উদাহরণ আরওজি এক্সবক্স অ্যালি এক্স২০। উইন্ডোজ ১১-চালিত এই যন্ত্রটি দেখতে বহনযোগ্য গেমিং কনসোলের মতো হলেও মূলত এটি একটি পূর্ণাঙ্গ কমপিউটার। ফলে এতে একদিকে এক্সবক্স গেম পাসের গেম খেলা যায়, অন্যদিকে স্টিমের গেমও সরাসরি চালানো সম্ভব। টেলিভিশনের সঙ্গে যুক্ত করলে এটি বড় পর্দার গেমিং ব্যবস্থায়ও পরিণত হয়। অর্থাৎ একই যন্ত্রে বহনযোগ্য গেম খেলা এবং ঘরে বসে বড় পর্দায় কনসোলের মতো খেলার সুবিধা পাওয়া যায়।
২০২৬ সালের ঘরোয়া বিনোদন প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই—একটি যন্ত্র এখন আর শুধু একটি কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। উন্নত ছবি, নিমগ্ন শব্দ, তারবিহীন সংযোগ এবং বহুমুখী ব্যবহারের সমন্বয়ে বিনোদনের অভিজ্ঞতা ক্রমেই আরও ব্যক্তিনির্ভর ও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠছে।





