সাম্প্রতিক সংবাদ

সাইবার নির্যাতনের শিকার অনেকেই সহায়তা চান না: ক্যাসপারস্কি

ক.বি.ডেস্ক: প্রযুক্তির মাধ্যমে হয়রানি, নজরদারি বা নির্যাতনের শিকার হলেও অনেক ভুক্তভোগী কোনও ধরনের সহায়তা বা সমর্থন চান না বলে জানিয়েছে ক্যাসপারস্কি। ১৯টি দেশের ৭ হাজার ৬০০ মানুষের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রযুক্তিনির্ভর নির্যাতনের মানসিক ও সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে মানুষ তুলনামূলক সচেতন হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে অনেকেই যথেষ্ট ধারণা রাখেননা।

গবেষণায় অংশ নেয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৭৯ শতাংশ প্রযুক্তি নির্ভর নির্যাতনের মানসিক প্রভাব এবং ৭৩ শতাংশ সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। তবে মাত্র ৫৫ শতাংশ এর অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং ৫১ শতাংশ শারীরিক নিরাপত্তার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা দেখিয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৪২ শতাংশ এ ধরনের ঘটনার পর অনলাইনে আরও সতর্ক হয়ে যান। ১৭ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন কার্যক্রম কমিয়ে দেন, ১১ শতাংশ অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত করেন এবং ১০ শতাংশ ব্যক্তিগত সম্পর্ক শেষ করে দেন। এ ছাড়া ৪ শতাংশ চাকরি হারানো এবং ৩ শতাংশ পড়াশোনা ছেড়ে দেয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।

তবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ২২ শতাংশ ভুক্তভোগী কোনো পদক্ষেপই নেননি। বয়স্ক অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এই হার আরও বেশি, প্রায় ৩৭ শতাংশ। একইভাবে অনেক প্রত্যক্ষদর্শীও সহায়তায় এগিয়ে আসেননি। ৩২ শতাংশ জানিয়েছেন, কীভাবে সাহায্য করতে হবে তা তারা জানতেন না এবং ২৩ শতাংশ নিশ্চিত ছিলেন না যে তাদের হস্তক্ষেপ করা উচিত কি না।

ক্যাসপারস্কির গ্লোবাল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম-এর লিড সিকিউরিটি রিসার্চার তাতিয়ানা শিশকোভা বলেন, “মানুষ ডিজিটাল নির্যাতনের মানসিক কষ্ট বুঝতে পারলেও এর প্রভাব যে কর্মজীবন, শিক্ষা ও ব্যক্তিগত সম্পর্কেও পড়তে পারে, তা অনেক সময় উপলব্ধি করে না। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অনেক ভুক্তভোগী জানেন না কোথায় বা কীভাবে সহায়তা চাইতে হবে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্য সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।”

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) কমপিউটার সায়েন্স বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. লিওনি মারিয়া ট্যানজার বলেন, “প্রযুক্তিনির্ভর নির্যাতনের ক্ষেত্রে সমস্যাটি চিহ্নিত করা এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়ার মধ্যে এখনও বড় ব্যবধান রয়েছে। অনেক সময় অনলাইন হয়রানিকে ততটা গুরুতর মনে করা হয় না, যদিও এর প্রভাব বাস্তবজীবনে গভীর হতে পারে। তাই ক্ষতিকর আচরণকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা এবং তা স্বাভাবিক হয়ে ওঠার আগেই ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।”

প্রযুক্তিনির্ভর নির্যাতন থেকে সুরক্ষার জন্য ক্যাসপারস্কি ব্যবহারকারীদের সতর্ক সংকেতগুলো দ্রুত শনাক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার প্রমাণ সংরক্ষণ, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে অন্যের সঙ্গে ডিভাইস বা অ্যাকাউন্টের প্রবেশাধিকার শেয়ার না করার সুপারিশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ ছাড়া নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা সফটওয়্যার ব্যবহার, বিশ্বস্ত ব্যক্তি বা পেশাদার সহায়তা নেয়া এবং ডিজিটাল ঝুঁকি সম্পর্কে নিয়মিত সচেতন থাকার পরামর্শও দিয়েছে ক্যাসপারস্কি। একইসঙ্গে সাইবারস্টকিং ও অনলাইন নির্যাতন মোকাবিলায় গঠিত আন্তর্জাতিক জোট ‘কোয়ালিশন অ্যাগেইনস্ট স্টকারওয়্যার’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্যাসপারস্কি। জোটটি ভুক্তভোগীদের সহায়তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানি প্রতিরোধে কাজ করছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *