এআই বিপ্লব: আসল সংকট প্রসেসর নয়, বিদ্যুৎ আর মানুষের হাত
সোহেল মৃধা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রধান উদ্বেগ ঘুরেফিরে আসছে এআই কি আমাদের সবার চাকরি কেড়ে নেবে? সফটওয়্যার ডেভলপার, কনটেন্ট রাইটার কিংবা ডেটা এনালিস্টদের কাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন চারিদিকে আলোচনা, ঠিক তখনই পর্দার আড়ালে বিশ্ব অর্থনীতির শীর্ষ টেক ও ফাইন্যান্সিয়াল জায়ান্টরা একদম বিপরীতধর্মী ও অভূতপূর্ব এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। মেটা, গুগল কিংবা ব্ল্যাকরকের মতো বিশ্ব কাঁপানো প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলো একদিকে যেমন সফটওয়্যার প্রকৌশলী ও হোয়াইট-কলার কর্মীদের ছাঁটাই করছে, অন্যদিকে তেমনি হাজার হাজার ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডার, প্লাম্বার ও নির্মাণশ্রমিক খোঁজার জন্য হন্যে হয়ে ওঠেছে।
প্রথম দেখায় বিষয়টি বৈপরীত্য মনে হলেও অর্থনৈতিক ডেটা ও টেক-ইন্ডাস্ট্রির বৈশ্বিক গতিপথ পর্যবেক্ষণ করলে এর পেছনের মূল কারণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এআই ব্যবস্থার জন্য যে সুবিশাল কম্পিউটিং ক্ষমতা প্রয়োজন, তা কেবল কয়েক লাখ প্রসেসর বা জিপিইউ কিনলেই অর্জন করা সম্ভব নয়। এআই বিপ্লবের আসল সংকট এখন আর সিলিকন চিপ কিংবা এআই অ্যালগরিদম নয়; আসল সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় মানুষের দক্ষ হাত।
টেক জায়ান্টদের কারিগরি প্রশিক্ষণ উদ্যোগ ও শত কোটি টাকার তহবিল
এআই প্রযুক্তিকে বাস্তবে কার্যকর করতে হাজার হাজার হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও সেগুলোকে আঞ্চলিক পাওয়ার গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু এই অবকাঠামো গড়ে তোলার মতো পর্যাপ্ত দক্ষ লোকবল বিশ্ববাজারে নেই। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিলিকন ভ্যালির বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলো এখন নিজেরাই সরাসরি কারিগরি শিক্ষা ও হস্তশিল্প প্রশিক্ষণে শত শত মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে।
মেটা: টেক জায়ান্ট মেটা তাদের নিজস্ব ও মূল নির্মাণকারী পার্টনারদের সঙ্গে যৌথভাবে প্রায় ১১২ থেকে ১১৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল তহবিল গঠন করেছে। তাদের আমেরিকার কর্মীবাহিনী একাডেমি সহ অন্যান্য পার্টনারশিপ প্রোগ্রামের আওতায় এই অর্থ ব্যবহৃত হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ট্রেনিং, যাতায়াতের জন্য প্লেন টিকিট, বিনামূল্যে থাকার সুবিধা এবং স্টাইপেন্ড প্রদান করা হচ্ছে। পাঁচ সপ্তাহের একটি নিবিড় বুটক্যাম্প শেষে অংশগ্রহণকারীদের সরাসরি ডেটা সেন্টার নির্মাণ সাইটে কাজের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। প্রথম ব্যাচেই প্রায় ৫,০০০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে এবং কনস্ট্রাকশন বা কারিগরি কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও এতে যোগ দেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে ছোটবেলা থেকেই একটি চেনা মানসিকতা গড়ে ওঠে “মন দিয়ে পড়ালেখা না করলে বড় হয়ে মিস্ত্রি বা কাঠমিস্ত্রির কাজ করে খেতে হবে।”
গুগল: টেক জায়ান্ট গুগল কারিগরি ট্রেড গ্রোথ তরান্বিত করতে ৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ আর্থিক অনুদান ঘোষণা করেছে। এই প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল ব্রাদারহুড অব ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কার্স (আইবিইডব্লিউ) এবং তাদের ন্যাশনাল ইলেকট্রিক্যাল কন্ট্রাক্টর অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। গুগলের মূল টার্গেট হলো আমেরিকায় বার্ষিক কারিগরি শিক্ষানবিশ বা অ্যাপ্রেন্টিস গ্রহণের সংখ্যা ১৯,৫০০ থেকে বাড়িয়ে ৩০,০০০-এ উন্নীত করা, যাতে দ্রুত বর্ধনশীল ডেটা সেন্টার হাবগুলোতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইলেকট্রিশিয়ানের যোগান নিশ্চিত করা যায়।
ব্ল্যাকরক: বিশ্বের সবচেয়ে বড় অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ব্ল্যাকরকের ফাউন্ডেশন শাখা কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন ও ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কফোর্স গড়ার লক্ষ্যে আগামী ৫ বছরের জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল বরাদ্দ করেছে। এই ফান্ডের মাধ্যমে আনুমানিক ৫০,০০০ জন তরুণকে আধুনিক ম্যানুফ্যাকচারিং, সাবস্টেশন ডেভেলপমেন্ট ও হাই-ভোল্টেজ গ্রিড সংযোগের কাজে দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
কেন এই তীব্র সংকট? ওপেনএআই ও হোয়াইট হাউসের অর্থনৈতিক পর্যালোচনা
এআই-এর অবকাঠামো তৈরি করতে কতটা নজিরবিহীন পরিমাণ লোকবল প্রয়োজন, তার একটি স্পষ্ট চিত্র ওঠে এসেছে ওপেনএআই-এর পক্ষ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারক ও হোয়াইট হাউসের কাছে জমা দেয়া এক অর্থনৈতিক পর্যালোচনায়। ওপেনএআই-এর রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কেবল তাদের প্রস্তাবিত মেগা ডেটা সেন্টার প্রজেক্টসমূহ এবং সেগুলোর চালিকাশক্তি হিসেবে নতুন পাওয়ার প্ল্যান্ট ও পাওয়ার গ্রিড কানেকশন তৈরি করতেই যুক্তরাষ্ট্রের মোট অভিজ্ঞ ও দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান ও টেকনিশিয়ানদের প্রায় ২০ শতাংশের প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ, আমেরিকার প্রতি ৫ জন অভিজ্ঞ ইলেকট্রিশিয়ানের মধ্যে ১ জনকে শুধু একটি এআই কোম্পানির পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণে নিয়োজিত থাকতে হবে।
এই তীব্র সংকটের পেছনে আরও কয়েকটি গভীর কারণ বিদ্যমান
প্রথমত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে কর্মরত অভিজ্ঞ ইলেকট্রিশিয়ান ও ট্রেড-ওয়ার্কারদের গড় বয়স ৪৫ থেকে ৪৬ বছরের বেশি। প্রতি বছর যে পরিমাণ প্রবীণ কারিগর অবসর গ্রহণ করছেন, তরুণ প্রজন্ম শারীরিক শ্রমে আগ্রহী না হওয়ায় ট্রেড স্কুলগুলোতে সেই অনুপাতে নতুন শিক্ষার্থী আসছে না।
দ্বিতীয়ত, একটি আধুনিক হাইপারস্কেল এআই ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা ১০০ মেগাওয়াট থেকে শুরু করে ১ গিগাওয়াট পর্যন্ত হতে পারে। ১ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ দিয়ে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ সাধারণ বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব। এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ডেটা সেন্টারে নিয়ে আসতে সুবিশাল হাই-ভোল্টেজ সাবস্টেশন, ট্রান্সফরমার ও হাজার হাজার মাইল ভারী কেবলিং করতে হয়। এই বিশেষ ধরনের কাজের জন্য উচ্চপর্যায়ের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও সার্টিফাইড ইলেকট্রিশিয়ানের তীব্র ঘাটতি রয়েছে।
বেতন, প্রিমিয়াম এবং ভেতরের বাস্তবতার সমীকরণ
চাহিদা ও যোগানের এই চরম বৈষম্যের কারণে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইলেকট্রিশিয়ান ও টেকনিশিয়ানদের বেতন রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। জনপ্রিয় আমেরিকান টিভি হোস্ট মাইক রো টেক্সাসের একটি হাই-টেক ডেটা সেন্টার নির্মাণ সাইট পরিদর্শনের পর সেখানকার কাজের ধরন ও বেতনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। তিনি সেখানে এমন কয়েকজন তরুণ লাইসেন্সড ইলেকট্রিশিয়ানের সাক্ষাৎকার নেন, যাদের প্রত্যেকের বয়স ৩০ বছরের নিচে এবং যাদের ওপর কোনও স্টুডেন্ট লোনের বোঝা নেই।
কিন্তু অতি-জরুরি প্রজেক্টে ডেডলাইন মেলানোর জন্য তারা ওভারটাইম, ডাবল-টাইম বোনাস এবং প্রজেক্ট কমপ্লিশন অ্যালাউন্সসহ বছরে প্রায় ২,৬০,০০০ ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩ কোটি টাকার বেশি) পর্যন্ত আয় করছেন। ট্রেড জব বাজারে এই দক্ষ কারিগরদের এতটাই টানাটানি যে, ১৮ মাসের মধ্যে একেকজন ইলেকট্রিশিয়ানকে অন্য কোম্পানিগুলো আরও বেশি বেতনের অফার দিয়ে ৩ বার পর্যন্ত হাইজ্যাক বা ড্রাফট করে নিয়ে গেছে।
এআই বিপ্লবের আসল সংকট এখন আর সিলিকন চিপ কিংবা এআই অ্যালগরিদম নয়; আসল সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ
এই বেতনের হিসাবের পেছনে বাজার ও প্রাতিষ্ঠানিক কিছু মূল পার্থক্য বুঝে নেয়া প্রয়োজন
গড় বা মিডিয়ান বেতন বনাম টপ-এন্ড কেস: ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে একজন সাধারণ লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইলেকট্রিশিয়ানের বার্ষিক গড় বা মিডিয়ান বেতন ৬১,০০০ থেকে ৬৬,০০০ ডলারের কাছাকাছি। বছরে ২,৬০,০০০ ডলার আয় করার ক্ষেত্রগুলো মূলত ডেটা সেন্টার ও ক্রিটিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারের বিশেষ প্রজেক্টভিত্তিক কাজ, যেখানে সপ্তাহে ৬০ থেকে ৭০ ঘণ্টা পর্যন্ত অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করতে হয়।
পে গ্রোথ প্রিমিয়াম: জব মার্কেট ডেটা প্ল্যাটফর্ম ইনডিড-এর সাম্প্রতিক সূচক অনুযায়ী, ডেটা সেন্টার ও এআই ইনফ্রাস্ট্রাকচার সম্পর্কিত ইলেকট্রিক্যাল ও ট্রেড জবগুলোর বেতন সাধারণ বাণিজ্যিক বা আবাসিক ট্রেড জবের চেয়ে প্রায় ৪২% বেশি গতিতে বাড়ছে।
শর্ট-টার্ম বুটক্যাম্প বনাম ৪ বছরের প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি: নর্থ আমেরিকাস বিল্ডিং ট্রেডস ইউনিয়নস (এনএবিটিইইউ)- এর প্রেসিডেন্ট শন ম্যাকগার্ভি মেটা ও অন্যান্য টেক কোম্পানির ৫ সপ্তাহের বুটক্যাম্প প্রোগ্রামের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, এটি মূলত একটি চতুর পিআর কৌশল। ৫ সপ্তাহের বুটক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়ে কেবল প্রাথমিক সহকারী বা ক্যাবল টানার কাজ শেখা সম্ভব। কিন্তু বিপজ্জনক হাই-ভোল্টেজ প্রজেক্টে কাজ করার মতো যোগ্য লাইসেন্সড জর্নিম্যান বা মাস্টার ইলেকট্রিশিয়ান হতে এখনও ৪ বছরের প্র্যাকটিক্যাল অ্যাপ্রেন্টিসশিপ ও প্রাতিষ্ঠানিক ঘণ্টার প্রয়োজন হয়।
ক্যাপেক্স বনাম ট্রেনিং বাজেট: মেটা ও গুগলের মতো কোম্পানিগুলো কেবল এই বছরই ডেটা সেন্টার ও এআই হার্ডওয়্যার কেনাকাটায় ৩৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূলধনী ব্যয় করছে। সেই বিশাল অঙ্কের তুলনায় ট্রেড ট্রেনিংয়ের পেছনে তাদের ২৬৫ বা ৩০০ মিলিয়ন ডলারের বাজেটটি তাদের মাত্র কয়েক ঘণ্টার আয় বা ব্যয়ের সমান।
এ ছাড়াও এটি স্মরণ রাখা জরুরি যে, এই কাজের অফারগুলো পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য প্রযোজ্য। উপযুক্ত মার্কিন ওয়ার্ক ভিসা এবং স্থানীয় রাজ্যের ইলেকট্রিশিয়ান লাইসেন্স ছাড়া বাইরে থেকে সরাসরি এই চাকরিগুলোতে যোগদান করার কোনও সুযোগ নেই।
আমাদের সামাজিক সাংস্কৃতিক ভুল ধারণা ও বাংলাদেশের জন্য বিশাল বার্তা
দক্ষিণ এশীয় বিশেষ করে বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে ছোটবেলা থেকেই একটি চেনা মানসিকতা গড়ে ওঠে “মন দিয়ে পড়ালেখা না করলে বড় হয়ে মিস্ত্রি বা কাঠমিস্ত্রির কাজ করে খেতে হবে।” প্রথাগত কায়িক শ্রম বা হাতেনাতে কাজকে আমরা সবসময় দ্বিতীয় সারির পেশা হিসেবে দেখে এসেছি এবং গ্রাজুয়েশন বা হোয়াইট-কলার চাকরিকে প্রাধান্য দিয়েছি। কিন্তু ২০২৬ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এই পুরনো হিসাবকে পুরোপুরি উল্টে দিয়েছে।
জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তি কোডিং, টেক্সট রাইটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন বা ক্লাসিক্যাল অফিসের কাজগুলো অতি দ্রুত স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেট করে ফেলছে। কিন্তু ভৌত জগতে গিয়ে তামার তার যুক্ত করা, সাবস্টেশন মেরামত করা বা বড় অবকাঠামো গড়ে তোলার মতো মানুষের দক্ষ হাতের কাজ প্রতিস্থাপন করার ক্ষমতা এআই বা রোবোটিক্সের এখনও তৈরি হয়নি। এই বৈশ্বিক পরিবর্তন থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ৩টি বড় শিক্ষা রয়েছে-
১. ডিগ্রি বনাম সার্টিফাইড হ্যান্ডস-অন স্কিল: প্রথাগত সাধারণ ডিগ্রির চেয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং হ্যান্ডস-অন প্র্যাকটিক্যাল স্কিলের কদর বৈশ্বিক বাজারে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৩. মূল দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন: আমরা হয়তো এআই নিয়ে একদম ভুল প্রশ্নটি করছি। প্রশ্নটা এটা নয় যে “এআই কি আমাদের চাকরি কেড়ে নেবে?” প্রকৃত ও সঠিক প্রশ্নটি হলো “এআই যে বিশাল ডিজিটাল পৃথিবী গড়ে তুলতে চায়, সেই পৃথিবীর অবকাঠামো তৈরি ও চালনা করার আসল কাজটা করবে কে?”
২. প্রবাসী শ্রমিকদের মানোন্নয়ন ও সার্টিফাইড করা: বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা দেশগুলোতে লাখ লাখ ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডার, প্লাম্বার ও নির্মাণশ্রমিক যান। কিন্তু আমাদের দেশে উপযুক্ত আন্তর্জাতিক লাইসেন্স বা মানসম্মত সার্টিফিকেশন (যেমন: এনভিকিউ বা আইএসও সার্টিফাইড প্রশিক্ষণ) না থাকায় তারা অদক্ষ বা আধা-দক্ষ লেবার হিসেবে সর্বনিম্ন মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হন। তাদের যদি উপযুক্ত আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিং দিয়ে সার্টিফাইড করে পাঠানো যায়, তবে একই শ্রমে তাদের বার্ষিক আয় ৫ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।
পরিশেষে বলা যায়, আমাদের ডিজিটাল পৃথিবী যতই ক্লাউড বা ভার্চুয়াল জগতের দিকে যাক না কেন, তার মূল অস্তিত্ব টিকে থাকে কনক্রিটের দেয়াল, তামার ক্যাবল, সাবস্টেশন আর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ওপর। আর সেই ভৌত অবকাঠামো তৈরির জন্য বিশ্ব অর্থনীতির কাছে মানুষের দক্ষ হাত ছাড়া দ্বিতীয় কোনও বিকল্প আজও নেই।





