মোবাইল পে-অ্যাজ-ইউ-গো ও সাইলেন্ট চার্জ: গ্রাহকের অজান্তে নিঃশব্দে কত কাটছে?
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক মৃধা (সোহেল মৃধা): সকালে ঘুম থেকে ওঠে ফোনে ৫০ বা ১০০ টাকা রিচার্জ করে আমরা কজনই বা সারা দিন হিসাব রাখি কয়টি কল করলাম আর কতটুকু ডেটা ব্যবহার হলো? দিনের শেষে যখন দেখা যায় কোনও বড় কথা না বলেই ব্যালেন্সের অংকটা শূন্যের কাছাকাছি চলে এসেছে, তখন আমরা অনেকেই একটু দীর্ঘশ্বাস ফেলে ধরে নিই হয়তো নেটওয়ার্কের ট্যাক্স বা কল রেটেই টাকাটা গেছে।
কিন্তু কখনও কি খতিয়ে দেখেছেন, এই চোখের আড়ালে কেটে নেয়া কয়েক পয়সা বা এক-দুই টাকার হিসাবটা আসলে কোথায় গিয়ে ঠেকছে? চারপাশের কোটি কোটি মানুষের ক্ষেত্রে প্রতিদিন এই একটু একটু করে টাকা গায়েব হয়ে যাওয়ার বিষয়টি কিন্তু আর সামান্য কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়; এটি হয়ে ওঠেছে গ্রাহকের পকেট থেকে নিঃশব্দে কোটি কোটি টাকা বের করে নেয়ার এক অলিখিত কৌশল।
দৈনিক শতকোটি টাকার বাজার ও ক্ষুদ্র লেনদেনের গোপন হিসাব
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)-এর হিসাবই বলছে, বাংলাদেশে সক্রিয় মোবাইল সিমের সংখ্যা এখন ১৯ কোটি ১০ লাখের ঘর ছাড়িয়ে গেছে। গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক আর টেলিটকের জাল বিছানো এই দেশে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১২ থেকে ১৩ কোটি মানুষ কথা বলছেন, এসএমএস পাঠাচ্ছেন কিংবা ইন্টারনেটে চোখ রাখছেন।
অর্থনীতির অঙ্কে এই খাতের আকার রূপকথার মতো। অপারেটরগুলোর নিজেদের বার্ষিক আয়ের হিসাব দেখলে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হয়, শীর্ষ কোম্পানি গ্রামীণফোন একাই বছরে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি পকেটে পুড়ছে, আর রবির ঝুড়িতে জমছে বছরভিত্তিক ৯ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা। দেশের চার অপারেটর মিলিয়ে বছরে মোবাইল সেবার পেছনে যে বাণিজ্য হয়, তার পরিমাণ প্রায় ২৮ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর সহজ বাংলা মানে হলো, আমরা প্রতিদিন মোবাইল ব্যবহারের নামে গড়ে প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ কোটি টাকা ওদের হাতে তুলে দিচ্ছি। আর দিনশেষে যে ডেটা খরচ হচ্ছে, তার পরিমাণ প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ১৮ হাজার পেটাবাইট।
‘মাইক্রো-ট্রানজেকশন’ বা খুচরা লেনদেন আর এই খুচরা হিসাবের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে বড় কারচুপি
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, কোম্পানিগুলো কিন্তু একবারে বড় অঙ্কের টাকায় এই রাজত্ব তৈরি করছে না। তাদের আয়ের প্রধান হাতিয়ার হলো প্রতিদিনের কোটি কোটি ‘মাইক্রো-ট্রানজেকশন’ বা খুচরা লেনদেন। আর এই খুচরা হিসাবের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে বড় কারচুপি। আপনার মোবাইল ব্যাকগ্রাউন্ডের অ্যালগরিদম যদি প্রতি সেকেন্ডে কথা বলার খরচ কাটতে গিয়ে মাত্র ০.৫ পয়সাও বাড়তি রাউন্ড-আপ করে নেয়, তবে চোখ বন্ধ করে ভাবুন, দৈনিক ১৩ কোটি সক্রিয় গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতিদিন অলক্ষ্যে কত কোটি টাকার অন্যায্য আয় ওঠে আসছে!
সরকারি করের দাপট এবং সেই বোঝা গ্রাহকের ঘাড়ে চাপানোর ফাঁদ
টেলিকম খাতে পৃথিবীর যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি ট্যাক্স দিতে হয়, আমাদের দেশ তাদের শীর্ষ তালিকায় রয়েছে। রিচার্জ করার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় সরকারি ট্যাক্সের কোপ। খাতায়-কলমে আমাদের ওপর ঝুলছে ১৫% ভ্যাট, ১৫% সম্পূরক শুল্ক আর ১% সারচার্জ। আপনি হয়তো ভাবছেন মোট ট্যাক্স ৩১%, কিন্তু চক্রবৃদ্ধি ট্যাক্সের নিয়মে কার্যকরভাবে গ্রাহকের পকেট থেকে বেরিয়ে যায় ৩৩.২৫% টাকা। অর্থাৎ, ১০০ টাকা পকেট থেকে বের করে রিচার্জ করার পর কথা বলার আগেই সরকারি কোষাগারে জমা হয়ে যায় প্রায় ২৫ টাকা। আপনার মূল ব্যবহারে পড়ে থাকে মাত্র ৭৫ টাকা।
কিন্তু কোম্পানির খরচের হিসাব কিন্তু এখানেই শেষ নয়। স্পেকট্রাম বা তরঙ্গ কেনার পেছনে বিটিআরসিকে শত শত কোটি টাকা দিতে হয়, সঙ্গে আছে লাইসেন্স নবায়নের মোটা ফি, মোট রাজস্বের অংশ সরকারকে দেয়ার চুক্তি এবং ফোরজি নেটওয়ার্কের সরঞ্জাম আমদানির চড়া শুল্ক। কথা হলো, কোম্পানিগুলো কি তাদের এই পরিচালনা খরচ নিজেদের পকেট থেকে দেয়? একদম না। সরকারের এই নীতিগত ফি ও করের চড়া চাপ কমানোর ক্ষমতা ওদের না থাকায়, অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে সেই খরচের বোঝা জটিল কম্বো প্যাক, অনাকাঙ্ক্ষিত চার্জ আর প্রমোশনাল ব্যবস্থার আড়ালে দিনশেষে আমাদের মতো সাধারণ গ্রাহকদের ঘাড়েই চাপিয়ে দেয়া হয়।
কলের রেট, অ্যালগরিদমের কারচুপি ও ৩টি বাস্তব গল্প
নিয়ম অনুযায়ী দেশে অন-নেট বা অফ-নেট যেকোনও নম্বরে কথা বলার সর্বনিম্ন মূল কল রেট ৪৫ পয়সা প্রতি মিনিট, আর সর্বোচ্চ সীমা ২ টাকা। সঙ্গে বিটিআরসির কঠোর আদেশ রয়েছে ১ সেকেন্ড কথা বললে ১ সেকেন্ডেরই পাল্স বা টাকা কাটতে হবে। কিন্তু আইনের এই স্পষ্ট ভাষার আড়ালে বিলিং সফটওয়্যারগুলোতে চলে জটিল কারসাজি, যার ভভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
বিটিআরসিকে আর ম্যানুয়াল অডিটে না থেকে নিজেদের এআই-ভিত্তিক রিয়েল-টাইম বিলিং অডিট ইঞ্জিন চালু করতে হবে
ঘটনা ১: সাইলেন্ট সার্ভিস ও ফ্ল্যাশ মেসেজের প্রতারণা
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ফারহানা আক্তার রিমির ফোনে হঠাৎ একটি প্রমোশনাল ফ্ল্যাশ মেসেজ ভেসে ওঠে। কাজের ব্যস্ততায় স্ক্রিনে অসাবধানতাবশত হাত লাগার সঙ্গে সঙ্গেই তার অজান্তে চালু হয়ে যায় একটি ‘স্পোর্টস নিউজ অ্যালার্ট’ সার্ভিস। কিছুদিন ধরে রিচার্জের পর নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ব্যাকগ্রাউন্ডে কেটে নেয়া হচ্ছিল। টানা তিন সপ্তাহ পর মোবাইল অ্যাপের বিস্তারিত বিল চেক করে তিনি দেখতে পান, খেলাই দেখেন না অথচ স্পোর্টস অ্যালার্টের নামে তার ব্যালেন্স থেকে কেটে নেয়া হয়েছে প্রায় ৯০ টাকা!
ঘটনা ২: ‘পে-অ্যাজ-ইউ-গো’ ফাঁদে ব্যালেন্স শূন্য
ঢাকার কারওয়ান বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম প্রতিদিন কাজের প্রয়োজনে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। গত সপ্তাহে তিনি ৩ জিবি ডেটার একটি প্যাক কেনেন। ৩ জিবি শেষ হওয়ার পর কোনও আগাম নোটিফিকেশন ছাড়াই ব্যাকগ্রাউন্ডে তার মূল ব্যালেন্স থেকে টাকা কাটা শুরু হয়। মাত্র ১০ মিনিটে তার মূল অ্যাকাউন্টে থাকা জমা ১৫০ টাকা শূন্য হয়ে যায়। কোনও স্পষ্ট সতর্কবার্তা ছাড়া এভাবে মুহূর্তেই টাকা উধাও হয়ে যাওয়া হাজারও গ্রাহকের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা।
ঘটনা ৩: কল ড্রপ ও ‘রাউন্ডিং-আপ’ এর অদৃশ্য খেলা
বেসরকারি চাকরিজীবী তানভীর আহমেদ দিনে প্রায় ১০ থেকে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রফেশনাল কল করেন। প্রতি সেকেন্ডের হিসাব করার সময় দশমিক অংশটি (যেমন ৪৫ পয়সা/মিনিট = ০.৭৫ পয়সা/সেকেন্ড) কেটে নেয়ার বদলে বিলিং সফটওয়্যার বাড়িয়ে রাউন্ড-আপ করে টাকা কেটে নেয়। উপরন্তু, বিটিআরসির নিয়ম অনুযায়ী কল ড্রপ হলে বাড়তি সেকেন্ড ফেরত পাওয়ার কথা থাকলেও তানভীরের অভিজ্ঞতা ভিন্ন, কল কেটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রথম সেকেন্ডের পালস সিস্টেম কেটে নেয়, অথচ মাস শেষে তার অ্যাকাউন্টে ক্ষতিপূরণের ১ সেকেন্ডও জমা হয় না।
নিজের কষ্টের টাকা কাটার কারণ জানতে যখন গ্রাহক ১২১-এ কল দেন, সেখানেও লুকিয়ে আছে আয়ের ফাঁদ
বদলে যাওয়া কৌশল: ডেটা থ্রোটলিং, ব্রেকএজ ও আইভিআরের ফাঁদ
সময় বদলেছে, মানুষ এখন সাধারণ কলের চেয়ে হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার বা ইমোতে বেশি কথা বলে। ফলে ভয়েস কল থেকে আয় কমতে থাকায় টেলিকম কোম্পানিগুলো নতুন ডিজিটাল আয়ের পথ বেছে নিয়েছে। এখন প্রায়ই বড় ডেটা প্যাক কেনার পর দেখা যায়, ব্যবহারের কিছুদিন পরেই ইন্টারনেটের গতি বা স্পিড ব্যাকগ্রাউন্ডে কমিয়ে দেয়া হয়, যেটিকে প্রযুক্তির ভাষায় বলা হয় ডেটা থ্রোটলিং। গ্রাহক ভাবেন তার এলাকাতেই হয়তো নেটওয়ার্ক খারাপ, আর সরল বিশ্বাসে আবার নতুন একটি ডেটা প্যাক কিনে ফেলেন।
আরেকটি বড় অন্যায্য ব্যবস্থার নাম ‘ব্রেকএজ রেভিনিউ’ বা অব্যবহৃত ডেটা বাজেয়াপ্ত করা। নিজের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে আপনি যে ডেটা বা মিনিট কিনলেন, নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে ব্যবহার শেষ করতে না পারলে মেয়াদ ফুরোলেই তা কোম্পানি সরাসরি বাজেয়াপ্ত করে ফেলে! আপনি যে সেবার মূল্য আগেই মিটিয়ে দিয়েছেন, তা ফেরত নেয়ার এই প্রথা টেলিকম খাতের একটি বড় অন্যায্য দিক। আবার একই প্যাক কিনলে ডেটা যোগ বা পরবর্তী সময়ে স্থানান্তর হওয়ার কথা থাকলেও, জটিল শর্তের জাঁতাকলে পড়ে ৮০% সাধারণ মানুষ সেই সুবিধা পান না।
এমনকি নিজের কষ্টের টাকা কাটার কারণ জানতে যখন গ্রাহক ১২১-এ কল দেন, সেখানেও লুকিয়ে আছে আয়ের ফাঁদ। কাস্টমার কেয়ার এজেন্টের সঙ্গে কথা বলার আগে দীর্ঘ ও অপ্রয়োজনীয় যেসব স্বয়ংক্রিয় রোবোটিক আইভিআর মেসেজ শোনানো হয়, সেই অপেক্ষমাণ সময়েও মিনিট প্রতি চড়া রেটে গ্রাহকের ব্যালেন্স থেকে টাকা কাটতে থাকে কোম্পানিগুলো।
উন্নত দেশ যা পারে, আমরা কেন পিছিয়ে?
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতেও টেলিকম কোম্পানি রয়েছে, কিন্তু সেখানে গ্রাহকদের অধিকার রক্ষায় এমন আধুনিক প্রযুক্তি ও আইন রয়েছে যে কোম্পানিগুলো কারচুপি করার সাহস পায় না। যেমন, ইউরোপীয় ইউনিয়নে তাদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বডি অব ইউরোপিয়ান রেগুলেটরস ফর ইলেক্ট্রনিক কমিউনিকেশন্স (বিইআরইসি) প্রতিটি অপারেটরকে তাদের বিলিং সার্ভারের কোড ও লগ সরকারের কাছে উন্মুক্ত রাখতে বাধ্য করেছে। সেখানে গ্রাহক কত সেকেন্ড কথা বললেন বা ডেটা খরচ করলেন, তার প্রতিটি নিখুঁত হিসাবের একটি এনক্রিপ্টেড ডিজিটাল রসিদ ও টাইমস্ট্যাম্প অ্যাপে দেখা যায়।
সিঙ্গাপুর এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় আরও এক ধাপ এগিয়ে সরকারের নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত সেন্ট্রাল ড্যাশবোর্ডের সঙ্গে টেলিকম কোম্পানিগুলোর বিলিং ইঞ্জিন যুক্ত থাকে। কোনও অপারেটর যদি অনুমোদিত ট্যারিফের বাইরে অতিরিক্ত ১ পয়সাও দশমিক রাউন্ডিং-আপের মাধ্যমে বাড়তি কাটে, তবে তা সঙ্গে সঙ্গে সরকারের সিস্টেমে সংকেত দেয় এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা হয়ে যায়।
আর যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন (এফসিসি) মূলত পে-অ্যাজ-ইউ-গো ব্যবস্থার বদলে ‘ফ্ল্যাট-রেট’ বা আনলিমিটেড প্যাককে প্রধান প্রাধান্য দেয়। নির্দিষ্ট একটি মাসিক ফি দিয়ে সারা মাস আনলিমিটেড সেবা পাওয়ার কারণে সেখানে সেকেন্ড হিসেব করে হিডেন চার্জ কাটার সুযোগই তৈরি হয় না।
বড় অন্যায্য ব্যবস্থার নাম ‘ব্রেকএজ রেভিনিউ’ বা অব্যবহৃত ডেটা বাজেয়াপ্ত করা
নিজের পকেট বাঁচাবেন কীভাবে, কোথায় চাইবেন প্রতিকার?
নিজের চোখ-কান খোলা রাখা, প্রতি সপ্তাহে নিজের অপারেটরের অফিশিয়াল অ্যাপে (মাইজিপি, মাইরবি, মাইবিএল) প্রবেশ করে বিস্তারিত বিল (কল ও ডেটা) ডায়াল করে বা পিডিএফ ডাউনলোড করে ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। ব্যাকগ্রাউন্ডে সাইলেন্ট সার্ভিস চালু আছে কিনা ইউএসএসডি কোড দিয়ে চেক করুন এবং অপ্রয়োজনীয় অফার বন্ধ করতে ডু নট ডিস্ট্রাব সেবা চালুর জন্য *৯# ডায়াল করে রাখুন। হঠাৎ ব্যালেন্স কাটলে প্রমাণ হিসেবে স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন।
প্রতিকার পাওয়ার ৩টি আইনি ধাপ
১. প্রথম ধাপ (অপারেটর কাস্টমার কেয়ার): অন্যায্য টাকা কাটার প্রমাণের স্ক্রিনশট সহ প্রথমে নিজ মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে লিখিত অভিযোগ দিন এবং তাদের দেয়া অভিযোগের টিকিট নম্বর নিজের কাছে যত্ন করে রাখুন।
২. দ্বিতীয় ধাপ (বিটিআরসি কমপ্লেন পোর্টাল): অপারেটর যদি সঠিক সমাধান না দেয়, তবে বিটিআরসির অফিসিয়াল কমপ্লেন পোর্টালে (complain.btrc.gov.bd) অথবা ২৮৭২ হেল্পলাইনে সরাসরি সেই টিকিট নম্বর ও প্রমাণ সহ অভিযোগ দায়ের করুন।
৩. তৃতীয় ধাপ (জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর): চূড়ান্ত ধাপে প্রমাণের নথি সহ জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ইমেইলে (nccc@dncrp.gov.bd) বা অ্যাপে লিখিত অভিযোগ দিন। আপনার অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত অপারেটরকে জরিমানা করা হবে এবং জরিমানার ২৫ শতাংশ অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে সরাসরি আপনার পকেটে আসবে।
যে পরিবর্তনগুলো এখন জরুরি
আমাদের দেশের কোটি কোটি গ্রাহকের সুরক্ষায় এখন প্রয়োজন নীতিগত সংস্কার। বিটিআরসিকে আর ম্যানুয়াল অডিটে না থেকে নিজেদের এআই-ভিত্তিক রিয়েল-টাইম বিলিং অডিট ইঞ্জিন চালু করতে হবে, যা অপারেটরদের মূল বিলিং সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত থেকে প্রতিদিনের লেনদেন পরীক্ষা করবে। মেয়াদের অজুহাতে টাকা দিয়ে কেনা ডেটা বাজেয়াপ্ত করার অন্যায্য ‘ব্রেকএজ প্রথা’ সম্পূর্ণ বন্ধ করে আনলিমিটেড মেয়াদের ক্যারি-ফরওয়ার্ড নিয়ম আনতে হবে।
কাস্টমার কেয়ার এজেন্টের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত আইভিআর-এর অপেক্ষমাণ সময়টুকু সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ঘোষণা করা উচিত। প্রমোশনাল প্যাকের চূড়ান্ত অফারে ট্যাক্স সহ আসল কত টাকা কাটবে, তা স্পষ্টাক্ষরে প্রচার করা বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রতি বছর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে স্বাধীন থার্ড-পার্টি অডিটর দিয়ে মোবাইল কোম্পানিগুলোর বিলিং সফটওয়্যার পরীক্ষা করা এবং সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা সময়ের দাবি।
লেখক: মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক মৃধা (সোহেল মৃধা)- ই-কমার্স বিশ্লেষক এবং ই-ক্যাব এর ফাউন্ডিং মেম্বার





