সাম্প্রতিক সংবাদ

বৈদ্যুতিক যানবাহন নীতি নিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়-জিআইজেডের কর্মশালা

ক.বি.ডেস্ক: দেশের দ্রুত সম্প্রসারিত বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) শিল্পের জন্য একটি সমন্বিত নীতিমালা ও রোডম্যাপ প্রণয়নের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় এবং জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘ইলেকট্রিক ভেহিকল ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট পলিসি-২০২৬’ শীর্ষক অংশীজন পরামর্শ কর্মশালার আয়োজন করেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আয়োজিত এ কর্মশালায় ২০২৩ সালের ‘ইলেকট্রিক মোটর রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড অপারেশন গাইডলাইন’-এ নির্ধারিত ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব ধরনের পরিবহনে ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারের সরকারি লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় শিল্প ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের পরিবহন খাতের মোট কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৮১ শতাংশই সড়ক পরিবহন থেকে আসে। ফলে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জ্বালানি দক্ষতা নিশ্চিত করতে পরিকল্পিতভাবে ই-মোবিলিটিতে রূপান্তর এখন সময়ের দাবি।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুন নাসের খান। তিনি বলেন, যথাযথ প্রস্তুতি না নিলে বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় শিল্প খাত গড়ে তোলার সুযোগ হারাতে পারে এবং বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে। আমাদের লক্ষ্য শুধু বৈদ্যুতিক যানবাহন আমদানিকারক হওয়া নয়, বরং বাংলাদেশকে একটি ইভি উৎপাদনকারী দেশে পরিণত করা।

জার্মান ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশনের পক্ষে জার্মান দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব কো-অপারেশন ইয়ানিস হোসেন এবং জিআইজেড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্ক গমবার্ট টেকসই পরিবহন ব্যবস্থায় বাংলাদেশের রূপান্তরে জার্মানির অব্যাহত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

জার্মান ফেডারেল অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের (বিএমজেড) অর্থায়নে পরিচালিত এবং জিআইজেড বাস্তবায়িত ‘ট্রানজিশন টু সাসটেইনেবল ই-মোবিলিটি (ট্রান্স২এসএমও)’ প্রকল্পের আওতায় শিল্প মন্ত্রণালয়কে ইভি শিল্প উন্নয়ন নীতি প্রণয়নে কারিগরি ও পরামর্শমূলক সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

এই সহায়তার অংশ হিসেবে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নীতিমালার খসড়া পর্যালোচনা করে আইনগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করার জন্য কৌশলগত সুপারিশ দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশে একটি মানসম্মত ও টেকসই ইভি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্যে জানানো হয়, ২০২৫ সালে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ২ শতাংশ নিম্ন-কার্বন উৎস থেকে এলেও বর্তমান বিদ্যুৎ গ্রিড বৈদ্যুতিক যানবাহনের চাহিদা সামাল দেয়ার সক্ষমতা রাখে। তবে এর জন্য পরিকল্পিত গ্রিড ব্যবস্থাপনা, স্মার্ট চার্জিং অবকাঠামো এবং স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তির অগ্রাধিকারভিত্তিক বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। ইভির বাজার সম্প্রসারণে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বিভিন্ন প্রণোদনা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রস্তাবিত ইভি শিল্প উন্নয়ন নীতি-২০২৬-এ ২০৩০ সাল পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রস্তুত (সিবিইউ) অবস্থায় আমদানি করা বৈদ্যুতিক মোটরগাড়ির ওপর মোট করের হার ৩৭ শতাংশ এবং ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অংশ (সিকেডি) আকারে আমদানি করা ইভির ওপর মোট করের হার ১৫ দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশে স্থানীয় সংযোজন ও উৎপাদনকে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, ইভি চার্জিং স্টেশন স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য ১০ বছরের আয়কর অব্যাহতির মতো আর্থিক প্রণোদনার প্রস্তাবও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কর্মশালার সমাপনীতে গণপরিবহন আধুনিকায়ন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় জানানো হয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিআরটিএ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিডি)সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে নীতিমালা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি, শিল্প ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *