ঢাকায় বৃহস্পতিবার বসছে এআই বিজনেস সামিট ২০২৬
ব্যবসা-বাণিজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে গুরুত্ব দেবে দিনব্যাপী সম্মেলন
ক.বি.ডেস্ক: দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদারের লক্ষ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’। আগামী বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকিন আহমেদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন সহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করছে।
মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, ‘‘বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে উদ্বোধনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘এআই ফর টুমরোজ ইকোনমি’। মানুষ, ব্যবসা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে দক্ষতা ও উদ্ভাবন ত্বরান্বিত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।’’

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, ‘‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় সক্ষমতা অর্জনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে ওঠেছে। বিশ্বজুড়ে এ প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তবে এর সম্ভাবনার পাশাপাশি অপব্যবহার ও নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও আলোচনা জরুরি। এ বাস্তবতায় বাংলাদেশকে প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির পথে এগিয়ে নিতে এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’’
দিনব্যাপী সম্মেলনে তিনটি বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম অধিবেশনে দুপুর ১২টা থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপ্লব, প্রয়োগ, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হবে। অর্থনৈতিক রূপান্তরে এআইয়ের ভূমিকা, নীতিগত চ্যালেঞ্জ, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা ওঠে আসবে এ অধিবেশনে।
দ্বিতীয় অধিবেশনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের মধ্যে অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহার এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়ে আলোচনা করবেন সংশ্লিষ্টরা।
বিকেল ৩টায় তৃতীয় অধিবেশনে ডিজিটাল সহকর্মী হিসেবে এআই এজেন্টের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হবে। ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অর্ডার প্রক্রিয়াকরণ, লেনদেন সমন্বয় এবং বিভিন্ন শিল্প খাতের বাস্তব সমস্যার সমাধানে স্থানীয় প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশের ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতে এআই প্রযুক্তির বাস্তবভিত্তিক প্রয়োগ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে নতুন দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে।





