হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা উদ্ধোধন
ক.বি.ডেস্ক: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবার উদ্বোধন করা হয়েছে। এখন থেকে সকল যাত্রীরা বিনামূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুবিধা পাবেন। বিমানবন্দরের পুরো এলাকাজুড়ে এই ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক বিস্তৃত থাকবে। এই বিস্তৃত কভারেজের ফলে বিমানবন্দরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অংশেই যাত্রীরা বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
সেবাটির জন্য আধুনিক নেটওয়ার্ক অবকাঠামো স্থাপন করা হয়েছে। ২৫০টি অ্যাক্সেস পয়েন্ট, ৪৮ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার ও ইথারনেট কেবল স্থাপন এবং ৩৭টি অ্যাক্সেস সুইচ। এই শক্তিশালী প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর মাধ্যমে বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে দ্রুত ও স্থিতিশীল ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। একই সময়ে প্রায় ৩৭ হাজার ৫০০ জন ব্যবহারকারী ইন্টারনেট সংযোগ গ্রহণ করতে পারবেন। সম্পূর্ণ সিস্টেমটি সর্বোচ্চ ৪০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ ক্ষমতা নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
আজ রবিবার (১৭ মে) ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি) রেহান আসিফ আসাদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সহ বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক, বিটিসিএল এবং বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘‘দেশের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে উন্নত মানের ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু করেছি। যা দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে। এই অর্জন কেবল একটি প্রকল্প নয়, এটি জনগণের সেবায় আমাদের অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন।’’
মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, ‘‘সরকারের ইশতেহার অনুযায়ী দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা বিমানবন্দর, রেলস্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে উন্নত ইন্টারনেট সেবা চালু করেছি। প্রবাসী ও যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। শিগগিরই তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে দেশের বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এই অর্জন সম্ভব হয়েছে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায়।’’
উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ‘‘ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সহ মোট আটটি বিমানবন্দর এবং ছয়টি রেলস্টেশনে এই সেবা একযোগে চালু করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো সাধারণ যাত্রী বিশেষ করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা মানুষ যাতে সহজে, দ্রুত এবং বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা পেতে পারেন। চেক-ইন, ইমিগ্রেশন বা বোর্ডিং সব পর্যায়ে যেন নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত হয়, সেটাই আমাদের অঙ্গীকার।’’
উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে দেশের ৭টি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ও ৬টি রেলওয়ে স্টেশনে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু করা হয়েছে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শাহ মখদুম বিমানবন্দর, সৈয়দপুর বিমানবন্দর, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বরিশাল বিমানবন্দর এবং যশোর বিমানবন্দর। পাশাপাশি কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশন, রাজশাহী রেল স্টেশন, সিলেট রেলওয়ে স্টেশন, চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন এবং ঢাকা এয়ারপোর্ট রেলওয়ে স্টেশন-এ যাত্রীরা এখন বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করতে পারছেন।





