বাংলাদেশে এআই মেধা বিকাশে জাইকার সহযোগিতা
ক.বি.ডেস্ক: বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সহযোগিতা করছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। এ লক্ষ্যে জাইকা, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎসুও-ইওয়াসাওয়া ল্যাবরেটরির (মাৎসুও ল্যাব) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত জিসিআই ওয়ার্ল্ড ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৪ সপ্তাহব্যাপী এই আন্তর্জাতিক শিক্ষা কর্মসূচিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স এবং মেশিন লার্নিং বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। আয়োজকদের তথ্যমতে, চলতি বছর বিশ্বের ১১৪টি দেশের ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করে প্রায় ৮০০ জন শিক্ষার্থী।
প্রোগ্রামের অন্যতম আকর্ষণ ছিল জিসিআই ওয়ার্ল্ড হ্যাকাথন, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন বাস্তব সমস্যার সমাধানে এআইভিত্তিক উদ্ভাবনী প্রকল্প তৈরি করেন। এ ছাড়া টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎসুও-ইওয়াসাওয়া ল্যাবরেটরির গবেষকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সর্বশেষ অগ্রগতি, ডেটা সায়েন্স এবং মেশিন লার্নিংয়ের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বক্তৃতা দেন।
বুধবার (৮ জুলাই) ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনলাইন ও সরাসরি ৮ শতাধিক শিক্ষার্থী, গবেষক, শিক্ষাবিদ, শিল্পখাতের প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট অতিথিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম এআই ট্যালেন্ট তৈরি করা।
এ প্রসঙ্গে জাইকা বাংলাদেশের সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ মোরিকাওয়া ইউকো বলেন, “এআই শিক্ষাকে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, গবেষণা ও শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে নিজেদের সমস্যার সমাধান বাংলাদেশ নিজেই করতে পারবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বকে নতুন নতুন উদ্ভাবনও উপহার দিতে সক্ষম হবে।”
সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘আউটস্ট্যান্ডিং স্টুডেন্ট সার্টিফিকেট’ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের নামও ঘোষণা করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নির্বাচিত ১৭ জন সেরা শিক্ষার্থীর মধ্যে বাংলাদেশের একজন শিক্ষার্থীও স্থান পেয়েছেন। তারা আগামী আগস্টে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎসুও ল্যাব পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন।
আয়োজকদের মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে জাইকার চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ আয়োজন বাস্তবায়ন করা হয়েছে। জিসিআই ওয়ার্ল্ডের মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শিক্ষা কর্মসূচিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ দেশের এআই, ডেটা সায়েন্স ও ডিজিটাল উদ্ভাবনের সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করতেও সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।





