সাম্প্রতিক সংবাদ

টেলিটক বিক্রি হচ্ছে না, নগদের ভবিষ্যৎ আদালতের সিদ্ধান্তে: মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম

ক.বি.ডেস্ক: রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবা নগদ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, টেলিটক বিক্রির কোনও পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে নগদের মালিকানা বা বিনিয়োগসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে চলমান মামলার নিষ্পত্তির ওপর।

সরকারের এই অবস্থান এমন এক সময়ে এসেছে, যখন আন্তর্জাতিক টেলিকম ও ডিজিটাল বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ভিওন বাংলাদেশে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের প্রস্তাবে টেলিটকের সঙ্গে অংশীদারত্ব বা একীভূতকরণ এবং নগদে বিনিয়োগ কিংবা মালিকানা নেয়ার বিষয়ও ওঠে এসেছে।

সম্প্রতি দেশের আইসিটি খাতের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “সরকার টেলিটক বিক্রি করতে চায় না; বরং প্রতিষ্ঠানটিকে আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক অপারেটরে রূপান্তর করতে চায়। রাষ্ট্রায়ত্ত একটি অপারেটর বাজারে থাকায় বেসরকারি কোম্পানিগুলো একচেটিয়া অবস্থান তৈরি করতে পারে না এবং গ্রাহকদের স্বার্থও কিছুটা সুরক্ষিত থাকে।”

বিশ্লেষকদের মতে, টেলিটকের বাণিজ্যিক সাফল্য সীমিত হলেও এটি বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে বিক্রির পরিবর্তে প্রযুক্তি, নেটওয়ার্ক ও সেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে পুনর্গঠনের পথেই হাঁটতে চায়।

নগদ প্রসঙ্গে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, “নগদকে ঘিরে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকারের পক্ষে বিক্রি, অংশীদারত্ব বা নতুন বিনিয়োগ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে অতীতে নগদ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দেখছে।”

এতে স্পষ্ট হয়েছে যে, নগদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সরকার আইনি প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন বাংলাদেশে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর অংশ হিসেবে টেলিটক, বিটিসিএল এবং নগদকে ঘিরে অংশীদারত্ব বা বিনিয়োগের বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই বিনিয়োগের লক্ষ্য হিসেবে পরবর্তী প্রজন্মের ডিজিটাল অবকাঠামো, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উন্নত সংযোগ প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সরকারের সর্বশেষ বক্তব্যে পরিষ্কার হয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানালেও রাষ্ট্রায়ত্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের মালিকানা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সরকার অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টেলিটককে আধুনিকায়নের উদ্যোগ সফল হলে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে প্রতিযোগিতা বাড়বে, গ্রাহকসেবা উন্নত হবে এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি জোরদার হবে। অন্যদিকে নগদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্রুত আইনি অনিশ্চয়তা কাটলে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস খাতেও নতুন বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। যেকোনও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা আইন, গ্রাহকস্বার্থ এবং রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল কৌশলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

সরকারের সর্বশেষ অবস্থান থেকে তিনটি বিষয় স্পষ্ট- টেলিটক বিক্রির পরিকল্পনা নেই; আধুনিকায়নই প্রধান লক্ষ্য। নগদ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে আদালতের মামলার নিষ্পত্তির পর। বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হলেও জাতীয় কৌশলগত সম্পদের ক্ষেত্রে সরকার সতর্ক ও নীতিনির্ভর অবস্থান বজায় রাখতে চায়।

ডিজিটাল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে টেলিকম, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং প্রযুক্তি অবকাঠামো এই তিন খাতের ভবিষ্যৎ এখন সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং আইনি প্রক্রিয়ার ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *