বাজেট ২০২৬-২৭: আইসিটি খাতে স্বস্তির বার্তা, ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কর অব্যাহতি
ক.বি.ডেস্ক: অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাত, ফ্রিল্যান্সার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য একাধিক কর ও ভ্যাট সুবিধার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট বক্তৃতায় তিনি প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রণোদনা ও কর অব্যাহতির প্রস্তাব তুলে ধরেন।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘‘আইসিটি খাত বাংলাদেশকে একটি উদ্ভাবননির্ভর, প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্রে রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা প্রকাশ করছি।’’
প্রস্তাবিত বাজেটে আইসিটি খাত সহ সব ধরনের ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ওপর কর অব্যাহতি দেয়ার কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে তরুণদের উদ্ভাবনী কাজকে উৎসাহিত করতে সব ধরনের কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে অর্জিত আয়ও করমুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
কমপিউটার ও ডিজিটাল ডিভাইস খাতের বিকাশে প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কিছু কর ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কমপিউটার প্রিন্টার, পোর্টেবল অটোমেটিক ডেটা প্রসেসিং মেশিন, ফ্ল্যাশ মেমোরি এবং কমপিউটার মনিটর আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম কর কমিয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি কমপিউটার, কমপিউটার যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ও কর অব্যাহতি সুবিধা ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
দেশীয় মোবাইল ফোন শিল্পের বিকাশে মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঁচামাল আমদানিতেও কর সুবিধার প্রস্তাব রয়েছে। এতে স্থানীয় উৎপাদন আরও উৎসাহিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। টেলিযোগাযোগ খাতেও বেশ কিছু কর ছাড়ের ঘোষণা এসেছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা খাতে উৎসে কর কর্তনের হার ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিটি সিম কার্ডের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকা কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য মোবাইল সেবা আরও সহজলভ্য হবে বলে মনে করছে সরকার। এ পদক্ষেপের কারণে আগামী অর্থবছরে সরকারের প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব কমতে পারে বলে বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়েছে।
স্টার্টআপ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এ ছাড়া স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় পর্যায়ের সেবার ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ অব্যাহতির পাশাপাশি সেবা আমদানি এবং অফিস বা স্থাপনা ভাড়ার ক্ষেত্রেও ১৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব সুবিধার মেয়াদ ৩০ জুন ২০৩৫ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য আরও একটি বড় সুখবর হলো, তাদের প্রদত্ত সেবার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এ খাতে কাজ করা হাজারও তরুণ ও স্বাধীন পেশাজীবী সরাসরি উপকৃত হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রযুক্তি খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে। এই অর্থ ‘স্টার্ট-আপ তহবিল’ হিসেবে নারী উদ্যোক্তা, তরুণ উদ্যোক্তা এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের বিকাশে ব্যয় করা হবে।





