স্মার্ট ক্লাসরুমে বদলে যাবে দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা
ভূঁইয়া মোহাম্মদ ইমরাদ: দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপনের একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে।
প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৫০টি সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্থাপন করা হবে ৩০০টি নতুন স্মার্ট ক্লাসরুম। পাশাপাশি বিদ্যমান আরও ৩০০টি শ্রেণিকক্ষের উন্নয়ন করা হবে। শুধু ক্লাসরুমেই সীমাবদ্ধ নয় প্রকল্পে থাকছে আধুনিক রেকর্ডিং রুম, মিটিং রুম এবং একটি কেন্দ্রীয় ডেটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনাও।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানিয়েছে, প্রকল্পটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ক্লাউড প্রযুক্তিনির্ভর হবে। এর মাধ্যমে ক্লাসরুমে থাকবে স্বয়ংক্রিয় রেকর্ডিং ব্যবস্থা, যেখানে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পাঠ ভিডিও আকারে সংরক্ষণ করা হবে। এই কনটেন্ট দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও ক্লাউড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহজেই দেখতে পারবে। শিক্ষার্থীরা কিউআর কোড স্ক্যান করে তাৎক্ষণিকভাবে নোট ও কোর্স সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারবে, যা শেখার প্রক্রিয়াকে করবে আরও সহজ ও ইন্টারেক্টিভ।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চীন সরকারের আর্থিক অনুদান ও কারিগরি সহায়তা পাওয়া যাবে। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্থাপন করা হবে ১০টি আধুনিক রেকর্ডিং স্টুডিও; ৩০টি উন্নত মিটিং রুম এবং একটি কেন্দ্রীয় ক্লাউড-ভিত্তিক ডেটা সেন্টার। এই ডেটা সেন্টার সারা দেশের স্মার্ট ক্লাসরুম কার্যক্রমকে একটি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করবে, ফলে শিক্ষা ব্যবস্থায় আসবে সমন্বিত ডিজিটাল রূপান্তর।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রকল্প শিক্ষা খাতে ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শহর ও গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রযুক্তিগত ব্যবধান হ্রাস পাবে এবং মানসম্মত শিক্ষা আরও সহজলভ্য হবে। এই উদ্যোগ প্রচলিত মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণধর্মী, সৃজনশীল এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় উৎসাহিত করবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গত ১৬ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের প্রস্তাবিত ‘এক শ্রেণিকক্ষ, এক স্মার্ট বোর্ড এবং এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ শীর্ষক কার্যক্রম বাস্তবায়নে অনাপত্তি দেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বগুড়ার বেতগাড়ী মীর শাহ আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং চাঁদপুরের ওবায়দুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ প্রকল্প শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, এটি বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের সঙ্গে সংযুক্ত করার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।





