সাম্প্রতিক সংবাদ

আউটসোর্সিং খাতের বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি নীতি সহায়তা দরকার: বাক্কো সভাপতি

ক.বি.ডেস্ক: তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা খাত (বিপিও, আইটি/আইটিইএস) বর্তমানে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বৈশ্বিক আউটসোর্সিং বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে এবং এই খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। এই খাতটির টেকসই বিকাশে বাজেট নীতি সহায়তা ও প্রণোদনা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে কথা বলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্ট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো)-এর সভাপতি তানভীর ইব্রাহীম।

বাক্কো সভাপতি তানভীর ইব্রাহীম বলেন, ‘‘বিপিও, আইটি এবং আইটিইএস খাতে কর অব্যাহতির বর্তমান মেয়াদ ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত থাকলেও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এটি ৩০ জুন ২০৩১ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ট্যাক্স এক্সেম্পশন সার্টিফিকেট প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ ও ডিজিটালাইজড করা হলে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে। বর্তমানে বিপিও, আইটি/আইটিইএস রপ্তানিতে ৬ শতাংশ প্রণোদনা থাকলেও পুনরায় ১০ শতাংশ প্রণোদনা পুনর্বহাল এবং ৫ শতাংশ উৎসে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে স্কিল, ডেভেলপমেন্ট ফান্ড গঠন, সাইবার নিরাপত্তা, এআই, ক্লাউড কম্পিউটিং প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ এবং টিয়ার-৩/৪ ডাটা সেন্টার স্থাপনে প্রণোদনা প্রদানের প্রস্তাব করছি। ’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে স্কিল, ডেভেলপমেন্ট ফান্ড গঠন, সাইবার নিরাপত্তা, এআই, ক্লাউড কম্পিউটিং প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ এবং টিয়ার-৩/৪ ডাটা সেন্টার স্থাপনে প্রণোদনা প্রদানের প্রস্তাব করছি। ফ্রিল্যান্সার ও স্টার্টআপদের উৎসাহিত করতে প্রণোদনা, কর সুবিধা, সহজ ঋণ এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল তহবিল গঠনের পাশাপাশি ডেটা প্রোটেকশন আইন প্রণয়ন ও সরকারি প্রকল্পে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেয়ার আহবান জানাই। নারী ও প্রতিবন্ধী কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বিপিও পার্ক স্থাপনেও গুরুত্ব দিতে হবে। সর্বপোরি, সমন্বিত নীতি সহায়তা নিশ্চিত হলে বাংলাদেশের বিপিও খাত বৈশ্বিক আউটসোর্সিং বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে বলে প্রত্যাশা করছি।’’

বিপিও শিল্পের কেন্দ্রীয় এই বাণিজ্য সংগঠনটি বর্তমান সভাপতি তানভীর ইব্রাহীমের নেতৃত্বে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিপিও শিল্পের প্রচার এবং প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। ৫০০ এর অধিক সদস্য নিয়ে বাক্কো এ পর্যন্ত ১,০০,০০০-এর বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রতি বছর ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আয় অর্জন করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাক্কো ৩ লক্ষ টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বার্ষিক আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে যা দেশের অর্থনীতিতে বাক্কোর বিশেষ অবদানের ইতিবাচক অভিপ্রায়ের প্রতিফলন।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *