স্বপ্নের চাকরির সুযোগ নিয়ে বান্দরবানে অনুষ্ঠিত হলো জব ফেয়ার
ক.বি.ডেস্ক: দক্ষ নারী ও কিশোরীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বান্দরবানে অনুষ্ঠিত হলো ‘জব ফেয়ার ২০২৬’। পর্যটন, ব্যাংকিং, আইসিটি, রিটেইল ও আতিথেয়তা খাতের ২০টিরও বেশি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান এই মেলায় অংশগ্রহণ করে। বিডিজবস, ডাচ-বাংলা ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং, সম্ভব জবস এবং সাইরু হিল রিসোর্টের মতো প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের স্টলে ছিল সরাসরি সাক্ষাৎকার, সিভি যাচাই এবং ক্যারিয়ার পরামর্শের সুযোগ।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বান্দরবানে হিল ভিউ কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘জব ফেয়ার ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি ফাহমিদা শবনাম, স্বপ্নের সারথী-গার্লস এডুকেশন অ্যান্ড স্কিলস পার্টনারশিপ প্রকল্পের সমন্বয়কারী জাহিদ হোসেন।
স্বপ্নের সারথী-গার্লস এডুকেশন অ্যান্ড স্কিলস পার্টনারশিপ প্রকল্পের আওতায় এই জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের অর্থায়নে যৌথভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও ইউনিসেফ বাংলাদেশ। কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো প্রান্তিক অঞ্চলে দারিদ্র্য, বাল্যবিবাহ, চলাফেরার সীমাবদ্ধতা এবং কাজের সুযোগের অভাব মেয়েদের শ্রমবাজারে প্রবেশের পথে এখনও বড় বাধা। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই তৈরি হয়েছে স্বপ্নের সারথী প্রকল্প।
জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, ‘‘বান্দরবান জেলায় পর্যটন ও সেবা খাত দ্রুত বাড়ছে। দক্ষ জনবলের চাহিদা আছে, কিন্তু স্থানীয়ভাবে সেই যোগান এখনও কম। এই মেলা সেই ঘাটতি পূরণের একটি বাস্তব পদক্ষেপ।’’
ফাহমিদা শবনাম বলেন, ‘‘প্রশিক্ষণ পাওয়া মেয়েরা কাজের সুযোগ পেলে দ্রুত নিজেদের প্রমাণ করতে পারে। এই মেলা সেই সুযোগটাই তৈরি করছে।’’
জাহিদ হোসেন বলেন, ‘‘আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রশিক্ষণ দেয়া নয়, প্রশিক্ষিত মেয়েদের জন্য বাস্তব কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করা। এই জব ফেয়ার দক্ষ তরুণীদের সঙ্গে স্থানীয় নিয়োগদাতাদের সরাসরি যুক্ত করছে। আমরা চাই প্রতিটি মেয়ে যেন প্রশিক্ষণ শেষে সত্যিকারের একটা গন্তব্য খুঁজে পায়, সেটা হোক চাকরি বা নিজের কোনও উদ্যোগ। এই মেলা সেই সেতুটাই তৈরি করছে।’’
আগামী ১৮ জুন কক্সবাজারের হোটেল সি প্যালেসে আরও একটি জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেও স্থানীয় ও জাতীয় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নেবে।
প্রকল্পের আওতায় এখন পর্যন্ত ৪,১০০ জন নারী ও কিশোরীকে খাবার পরিবেশন, রিটেইল, হাউসকিপিং ও কমপিউটার দক্ষতা সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। মোবাইল প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে দুর্গম এলাকার ১,৩২০ জনের কাছে পৌঁছানো গেছে। পাশাপাশি পাসপোর্ট টু আর্নিং প্ল্যাটফর্মে ডিজিটাল দক্ষতা ও নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ৫,৪০০ শিক্ষার্থী।





