ঢাকায় শুরু হলো তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সিকিউরিটি অ্যান্ড সেফটি এক্সপো-২০২৬
ক.বি.ডেস্ক: রাজধানীর আইসিসিবি-তে শুরু হলো দ্বিতীয়বারের মতো তিন দিনব্যাপী (১৭-১৯ সেপ্টেম্বর) ‘আন্তর্জাতিক সিকিউরিটি অ্যান্ড সেফটি এক্সপো-২০২৬’। দেশীয় নিরাপত্তা ও সুরক্ষা পণ্য প্রস্তুতকারক, সরবরাহকারী, আমদানিকারক, সফটওয়্যার ও সাইবার নিরাপত্তা খাতের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ার লক্ষ্যে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আইসিসিবি-তে বাংলাদেশ কমপিউটার সমিতি (বিসিএস) এবং আই-স্টেশন লিমিটেডের উদ্যোগে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক সিকিউরিটি অ্যান্ড সেফটি এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিসিএস মহাসচিব মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন বিসিএস-এর সহসভাপতি মো. ওয়াহিদুল হাসান দিপু।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক (ঢাকা) মো. ছালেহ উদ্দিন; ওশি ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন সাকি রেজওয়ানা; বিসিএস-এর যুগ্ম মহাসচিব মো. আহসানুল ইসলাম নওশাদ, কোষাধ্যক্ষ আবুল হাসান, পরিচালক মো. ইকবাল হোসাইন এবং আই-স্টেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মধু সুদন সাহা।
মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘‘এই আয়োজন আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। এটি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি, নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং সরকারি-বেসরকারি খাতে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। সরকার দেশের ইলেকট্রনিক ও সাইবার নিরাপত্তায় বিদেশি সুরক্ষা শিল্পখাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। বিদেশি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রযুক্তি কোম্পানিকে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানাই।’’
মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘দেশের দ্রুত ডিজিটালাইজেশন ও শিল্পায়নের সঙ্গে নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতিও আরও জোরদার করতে হবে। নিরাপত্তা এখন শুধু ভবন বা সম্পদ রক্ষার বিষয় নয়। মানুষের নিরাপত্তা, তথ্য, ডিজিটাল ব্যবস্থা, ব্যবসা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষাও এর অংশ। এই প্রদর্শনীতে প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা পণ্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নতুন ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরি হবে।’’

মো. ওয়াহিদুল হাসান দিপু বলেন, ‘‘বাংলাদেশের দ্রুত ডিজিটালাইজেশন, শিল্পায়ন ও নগরায়ণের সঙ্গে নিরাপত্তা ও কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষার গুরুত্বও বাড়ছে। অগ্নিনিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি এবং আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তিতে বিনিয়োগকে ব্যয় নয়, বরং মানুষ, ব্যবসার ধারাবাহিকতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে। স্মার্ট নজরদারি, সাইবার নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা, অ্যাকসেস কন্ট্রোল ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দেশে বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দক্ষ জনবলের ঘাটতি, সচেতনতার অভাব, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অসম প্রয়োগ ও প্রযুক্তির ব্যয় বড় চ্যালেঞ্জ। বিসিএস সরকার, ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয় করে জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তি গ্রহণ এবং নতুন অংশীদারত্ব তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।’’
আয়োজকরা জানান, দেশি-বিদেশি শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি সরবরাহকারী, ডিস্ট্রিবিউটর, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সেফটি প্রফেশনাল, ব্যবসায়ী, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। শুধু পণ্য প্রদর্শন নয়, আয়োজনে নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এবারের প্রদর্শনীতে বিশ্বের ১০টি দেশের প্রায় ১৫০টি শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডের নিরাপত্তা কোম্পানি, ৫ শ’র বেশি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিশেষজ্ঞবৃন্দ অংশ নিচ্ছেন।
প্রদর্শনীতে আগত দর্শনার্থীরা সর্বশেষ প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সরাসরি দেখার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সেফটি খাতের পরিবর্তনশীল প্রবণতা সম্পর্কে জানতে পারবেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও নিরাপদ, সুরক্ষিত ও ঝুঁকিমুক্ত কর্মপরিবেশ এবং জীবনযাপন নিশ্চিত করতে পারে, সে সম্পর্কেও বাস্তবভিত্তিক ধারণা পাবেন। বিনা মূল্যে দুটি প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করা যাবে। প্রদর্শনীতে অংশ নিতে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। shorturl.at/oIL45 এই লিংক এবং shorturl.at/7Zcx5 এই লিংকে।





