ডিআইইউ’তে ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ‘ইন্টারন্যাশনাল এআই বিল্ডার্স কংগ্রেস ২০২৬’
ক.বি.ডেস্ক: দেশের তরুণ শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তি-উদ্ভাবকদের বৈশ্বিক মানের একটি শিক্ষামূলক ও উদ্ভাবনী প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার লক্ষ্যে ক্লাউডক্যাম্প বাংলাদেশের আয়োজনে এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)-এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ইন্টারন্যাশনাল এআই বিল্ডার্স কংগ্রেস ২০২৬’। এবারের কংগ্রেসের প্রতিপাদ্য ‘যেখানে বিশ্বের এআই বিল্ডাররা তৈরি করে আগামীর প্রযুক্তি।’
আগামী ২৬ ডিসেম্বর সকাল ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ঢাকার সাভারের বিরুলিয়ায় ডিআইইউ ড্যাফোডিল ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। কংগ্রেসে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। কংগ্রেসের প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রম দুটি প্রধান ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। অংশগ্রহণকারীরা চাইলে উভয় প্রতিযোগিতাতেই অংশ নিতে পারবেন। বর্তমানে অংশগ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। রেজিস্ট্রেশন cloudcampbd.com/ai-builders-congress এই লিংকে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ডিআইইউর গ্রিন গার্ডেন হলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘ইন্টারন্যাশনাল এআই বিল্ডার্স কংগ্রেস ২০২৬’-এর আয়োজন, কর্মসূচি ও লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ক্লাউডক্যাম্প বাংলাদেশের ফাউন্ডার অ্যান্ড চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহদী-উজ-জামান, সেক্রেটারি মো. শহিদ হোসেন এবং ডিরেক্টর আরিফুল হাসান অপু; ডিআইইউর উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আর কবির, রেজিস্টার ড. মোহাম্মদ নাদির বিন আলী, কনভেনর এবং ডিন, ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি প্রফেসর ড. মো. ফখরে হোসেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিআইইউর কমপিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনলোজি বিভাগের অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. শেখ রাশেদ হায়দার নুরি, পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ বি এম কামাল পাশা, কম্পিউটিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান মো. সারোয়ার হোসেন মোল্লা, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী ডিন ও অধ্যাপক ড. ফারনাজ নারীন নূর।
আয়োজকরা জানান, এটি কোনও প্রচলিত হ্যাকাথন বা একদিনের সম্মেলন নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক এআই বিল্ডার যাত্রার সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম। চলতি বছরের জুলাই মাসে শুরু হওয়া এই যাত্রা শেষ হবে আগামী ২৬ ডিসেম্বর একদিনের গ্লোবাল শোকেস-এর মধ্য দিয়ে। এর লক্ষ্য হলো ৫,০০০-এরও বেশি এআই বিল্ডারকে একই প্ল্যাটফর্মে সমবেত করা। অংশগ্রহণকারীরা ১১টি গ্লোবাল ডোমেইন ও ৫৫টি চ্যালেঞ্জ ট্র্যাকের আওতায় বাস্তব বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে এআইভিত্তিক উদ্ভাবনী সমাধান তৈরিতে কাজ করবেন।
টিম-বিল্ট প্রোডাক্ট কম্পিটিশন: এ প্রতিযোগিতায় ৩ থেকে ৫ সদস্যের দলগুলো দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি প্রোডাকশন-রেডি এআই প্রোডাক্ট তৈরি করবে। প্রায় ছয় মাসের এই যাত্রায় দলগুলো বাস্তব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে নিজেদের পণ্য তৈরি, পরীক্ষা ও পরিমার্জনের সুযোগ পাবে।
এআই-নেটিভ সিঙ্গেল প্রম্পট অ্যাপ্লিকেশন বিল্ডিং চ্যালেঞ্জ: প্রাথমিক পর্যায়ে নির্বাচিত ৫০০ জন প্রতিযোগী ইভেন্ট ডে-তে মাত্র একটি মাস্টার প্রম্পট ব্যবহার করে সরাসরি ও লাইভভাবে এক ঘণ্টার মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ এন্টারপ্রাইজ-গ্রেড অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করবেন। এই চ্যালেঞ্জের লক্ষ্য হলো মাত্র একটি মাস্টার প্রম্পট থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক এন্টারপ্রাইজ-গ্রেড অ্যাপ্লিকেশন ইকোসিস্টেম তৈরি করা। নির্বাচিত প্রতিযোগীরা লাইভ এক ঘণ্টার বিল্ডিং সেশনে অংশ নেবেন, যা এআই-অ্যাসিস্টেড সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার একটি বাস্তব প্রদর্শনী হিসেবে তুলে ধরা হবে।
কংগ্রেসের অন্যতম বিশেষ উদ্যোগ ‘অপরচুনিটি কানেক্ট’ সারা বছরব্যাপী চলমান একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা রিক্রুটার, বিনিয়োগকারী এবং উচ্চশিক্ষা পরামর্শদাতাদের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত ১:১ (ওয়ান-টু-ওয়ান) মিটিংয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের জন্য চাকরি, ইন্টার্নশিপ, বিনিয়োগ ও উচ্চশিক্ষার বৃত্তির সম্ভাব্য সুযোগ উন্মুক্ত হবে।
প্রতিটি দলকে সহায়তা করবেন অভিজ্ঞ মেন্টররা। প্রকল্পের দিকনির্দেশনা, সফটওয়্যার আর্কিটেকচার রিভিউ, পণ্য উন্নয়ন এবং চূড়ান্ত উপস্থাপনার প্রস্তুতিতে মেন্টররা অংশগ্রহণকারীদের সহযোগিতা করবেন। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশি বা নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি (এনআরবি) বিশেষজ্ঞদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দলগুলো বৈশ্বিক পর্যায়ের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।
ইভেন্ট ডে-তে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত জাজিং প্যানেল প্রতিটি দলের প্রকল্প মূল্যায়ন করবে। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পাঁচটি প্রধান মানদণ্ড বিবেচনা করা হবে উদ্ভাবন, কারিগরি দক্ষতা, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, গ্লোবাল স্কেলেবিলিটি এবং রেসপন্সিবল এআই। বিজয়ীদের জন্য থাকছে প্রায় ১০ লাখ টাকা নগদ পুরস্কার, ট্রফি ও সম্মাননা, সার্টিফিকেট অব অ্যাচিভমেন্ট, এক্সক্লুসিভ পার্টনার বেনিফিট, মিডিয়া রিকগনিশন এবং গ্লোবাল শোকেসে অংশগ্রহণের সুযোগ।
আয়োজকদের মতে, এর কৌশলগত লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এআই-নেটিভ বিল্ডার, দক্ষ টিম ও উদ্ভাবনী সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন, বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজের সুযোগ, আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কিং এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে দেশের এআই উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
ইন্টারন্যাশনাল এআই বিল্ডার্স কংগ্রেস ২০২৬-এর প্লাটিনাম পার্টনার আনোয়ার গ্রুপ; সিলভার পার্টনার রোবাস্ট; ক্রিয়েটিভ পার্টনার সিনবর্ন; টেকনোলজি পার্টনার এডব্লিউএস, লাভেবল, ক্যারিয়ার ক্যানভাস এবং অ্যাস্ট্রোনাস টেক।





