আনুষাঙ্গিক মোবাইল

চার্জার-পাওয়ার ব্যাংক ছাড়াই বান্দরবান ট্র্যাকিং, রিয়েলমি সি১০০-তে অবশিষ্ট ৪০% চার্জ

ক.বি.ডেস্ক: দুই দিন ও দুই রাতের দুর্গম পাহাড়ি ট্র্যাকিং, নেভিগেশন, ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ ও বিনোদনের কাজে ব্যবহারের পরও স্মার্টফোনে অবশিষ্ট ছিল ৪০ শতাংশ ব্যাটারি। চার্জার কিংবা পাওয়ার ব্যাংকের সাহায্য ছাড়াই বান্দরবানের পাহাড়ি পথে এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে রিয়েলমি সি১০০-এর ব্যাটারি সক্ষমতা ও স্থায়িত্ব তুলে ধরেছে স্মার্টফোন ব্র্যান্ড রিয়েলমি।

ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর অ্যাডভেঞ্চার ক্লাবের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘রিয়েলমি সি১০০–ইউল্যাব অ্যাডভেঞ্চার বান্দরবান চ্যালেঞ্জ’ অনুষ্ঠিত হয় গত ২৭ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর। এ অভিযানে অংশ নেন ইউল্যাবের পাঁচ শিক্ষার্থী। দুর্গম পাহাড়ি পথে দীর্ঘ সময় স্মার্টফোন ব্যবহারের মাধ্যমে এর ব্যাটারি পারফরম্যান্স ও ডিউরেবিলিটি যাচাই করাই ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

অভিযানে অংশ নেয়া পাঁচ শিক্ষার্থী হলেন ইউল্যাব-এর বিবিএ বিভাগের তোহানুর রাহমান তোহা ও রুশদি হাসান রাফি; সিএসই বিভাগের আনিকা তাহমিন; এমএসজে বিভাগের মেহদি হাসান সিয়াম এবং ডিইএইচ বিভাগের জান্নাতুল ফেরদৌস। রুমা বাজার থেকে যাত্রা করে বগা লেক ও দার্জিলিং পাড়া হয়ে কেওক্রাডংয়ে পৌঁছান তাঁরা। পুরো অভিযানে দুর্গম পথে চলাচল, আউটডোর ক্যাম্পিং এবং বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন শিক্ষার্থীরা।

দলের অন্য চার সদস্য ভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন ব্যবহার করলেও রুশদি হাসান রাফি সঙ্গে নেন রিয়েলমি সি১০০। অভিযানের আগে অন্যরা ব্যাকআপ হিসেবে চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে রাখেন। তবে ৮,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার-আওয়ার (এমএএইচ) টাইটান ব্যাটারির ওপর আস্থা রেখে রাফি কোনও চার্জার বা পাওয়ার ব্যাংক নেননি।

পরে দলের সদস্যরা একটি চ্যালেঞ্জে অংশ নেন কার স্মার্টফোনের চার্জ আগে শেষ হয়, তা দেখা। পুরো যাত্রায় নেভিগেশন, ফটোগ্রাফি, ভিডিও রেকর্ডিং ও গান শোনার মতো কাজে রিয়েলমি সি১০০ ব্যবহার করেন রাফি। অভিযানের শেষ পর্যায়ে অন্যদের ফোনের চার্জ কমে এলেও তাঁর ফোনটি সচল ছিল। ট্র্যাকিং শেষে ডিভাইসটিতে ৪০ শতাংশ চার্জ অবশিষ্ট ছিল বলে জানায় রিয়েলমি।

শুধু ব্যাটারি নয়, দুর্গম পরিবেশে ফোনটির স্থায়িত্বও এই অভিযানে পরীক্ষা করা হয়। ট্র্যাকিংয়ের সময় একপর্যায়ে রিয়েলমি সি১০০ হাত থেকে কাদামাটিতে পড়ে যায়। এতে দলের সদস্যরা প্রথমে উদ্বিগ্ন হলেও ফোনটি তুলে পরিষ্কার করার পর স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে দেখা যায় বলে জানানো হয়েছে। অভিযানের বাকি সময়েও ফোনটি ব্যবহার করতে কোনো সমস্যা হয়নি বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

রিয়েলমির তথ্য অনুযায়ী, সি১০০ মডেলে রয়েছে আইপি৬৯ প্রো রেটিং, দুই মিটার উচ্চতা থেকে পড়ে যাওয়ার প্রতিরোধক্ষমতা এবং ছয় মিটার পর্যন্ত পানির বিরুদ্ধে সুরক্ষার সুবিধা। পাশাপাশি আর্মরশেল প্রোটেকশন ও মিলিটারি-গ্রেড শক রেজিস্ট্যান্স প্রযুক্তিও রয়েছে। এসব বৈশিষ্ট্য প্রতিকূল পরিবেশে ডিভাইসটির স্থায়িত্ব বাড়াতে সহায়তা করে বলে জানিয়েছে ব্র্যান্ডটি।

অভিযানের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে ইউল্যাব অ্যাডভেঞ্চার ক্লাবের সদস্য রুশদি হাসান রাফি বলেন, “আমরা আগেও অ্যাডভেঞ্চার ট্রিপে গিয়েছি। প্রতিবারই ফোনের চার্জ ধরে রাখাটা চ্যালেঞ্জ ছিল। এবার আমরা দেখতে চেয়েছিলাম বান্দরবানের এই দুই দিনের ট্র্যাকিং, ক্যাম্পিং ও ঘোরাঘুরিতে রিয়েলমি সি১০০ কেমন পারফর্ম করে। নেভিগেশন থেকে শুরু করে স্মৃতিময় মুহূর্তগুলো ধরে রাখা, সবকিছুতে আমরা কোনো পাওয়ার ব্যাংক ছাড়াই ফোনটি ব্যবহার করেছি। এটি আমাদের জন্য একেবারেই অন্যরকম একটি চ্যালেঞ্জ ছিল।”

রিয়েলমির ভাষ্য অনুযায়ী, ইউল্যাব অ্যাডভেঞ্চার ক্লাবের সঙ্গে এই উদ্যোগের মাধ্যমে পরীক্ষাগারের বাইরেও বাস্তব পরিস্থিতিতে স্মার্টফোনটির সক্ষমতা তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে চার্জিংয়ের সুবিধা সীমিত এমন ভ্রমণ, ট্র্যাকিং ও আউটডোর কার্যক্রমে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি এবং স্থায়িত্ব কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা এই আয়োজনের মাধ্যমে সামনে এসেছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *