উদ্যোগ

দেশীয় ফলের স্বাদে ইসিএস ফল উৎসব, প্রযুক্তি খাতে মিলনমেলা

ক.বি.ডেস্ক: বাংলার ছয় ঋতুর বৈচিত্র্য যেমন প্রকৃতিকে রঙিন করে তোলে, তেমনি গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে দেশীয় ফলের অপরূপ সমাহার। সেই ঐতিহ্য, স্বাদ ও সংস্কৃতিকে ধারণ করেই রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের প্রযুক্তিপণ্য ব্যবসায়ীদের সংগঠন এলিফ্যান্ট রোড কমপিউটার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি (ইসিএস) আয়োজন করেছে বর্ণাঢ্য ‘ফল উৎসব ২০২৬’। প্রযুক্তি ব্যবসার ব্যস্ততার বাইরে এক ছাদের নিচে মিলিত হয়ে দেশীয় ফলের স্বাদ ভাগাভাগি করে নেন সংগঠনের সদস্যরা, যা পরিণত হয় প্রযুক্তি খাতের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।

শনিবার (১ আগস্ট) ইসিএসের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘ফল উৎসব ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ কমপিউটার সমিতি (বিসিএস)-এর সহসভাপতি ও ইসিএস সভাপতি মো. ওয়াহিদুল হাসান দিপু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিসিএসের সাবেক মহাসচিব কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, সাবেক মহাসচিব নজরুল ইসলাম মিলন; বিসিএস কমপিউটার সিটি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আকতার হোসেন খান, মহাসচিব মো. জাহেদ আলী ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব মো. জাহেদুল আলম; ইসিএসের সাবেক সভাপতি সাবেক সভাপতি মো. আমির হোসেইন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিসিএস পরিচালক ও ইসিএসের সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেইন।

প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় আয়োজিত এই ফল উৎসবে দেশীয় ফলের বিশাল সমাহার ছিল। আম, কাঁঠাল, কলা, আনারস, লটকন, পেয়ারা, ড্রাগন, গাব, কামরাঙ্গা, কাঁচা খেজুর, আমড়া, জাম্বুরা সহ নানা মৌসুমি ফলের পাশাপাশি ছিল সরিষা ও বোম্বাই মরিচ দিয়ে তৈরি কাঁচা আমের ভর্তা, জাম্বুরা ভর্তা, আমড়া ভর্তা এবং কামরাঙ্গা ভর্তার বিশেষ আয়োজন। নিমকি, চানাচুর ও কফির আপ্যায়নে উৎসবটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে দেশীয় সংস্কৃতির এক অনন্য সংযোগ তৈরি করেছে এই আয়োজন। ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার বাইরে একে অপরের সঙ্গে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ হিসেবে ফল উৎসবকে দেখছেন অংশগ্রহণকারীরা। অনেকের মতে, প্রযুক্তি ব্যবসায়ীদের জন্য এমন সামাজিক আয়োজন পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধন আরও দৃঢ় করে।

ইসিএস সভাপতি মো. ওয়াহিদুল হাসান দিপু বলেন, “এই ফল উৎসব কেবল ফল খাওয়ার আয়োজন নয়, এটি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, দেশীয় ফল এবং প্রাকৃতিক শিকড়ের প্রতি ভালোবাসার প্রতীক। এক সময় আমাদের গ্রামবাংলায় অসংখ্য দেশীয় ফল পাওয়া যেত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক ফল হারিয়ে যাচ্ছে, আর বাজার দখল করছে বিদেশি ফল। নতুন প্রজন্ম আমাদের ঐতিহ্যবাহী ফলের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি পুষ্টিকর দেশীয় ফল খেতে আরও আগ্রহী হবে।”

ইসিএস সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেইন বলেন, “আমাদের এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য শুধু ফল উৎসব উদযাপন নয়, বরং প্রযুক্তি ব্যবসায়ীদের জন্য একটি আন্তরিক ও আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি করা। আমরা চেয়েছি আইসিটি খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের একত্রিত করে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে। আজকের প্রাণবন্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে, প্রযুক্তি খাতেও এমন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।”

ইসিএস ফল উৎসবের সার্বিক আয়োজনে আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম ইমন এবং সদস্য সচিব আইটি সম্পাদক তানজিল হোসেইন। এ ছাড়া প্রচার, প্রকাশনা ও জনসংযোগ সম্পাদক মো. আব্দুল কাদির, সাংস্কৃতিক ও সমাজসেবা সম্পাদক মো. সোহেল ব্যাপারী, পরিচালক কবির হোসেইন, মো. আরশাদ খান, মো. এনামুল কবির সহ সংগঠনের সদস্যরা ‘ফল উৎসব ২০২৬’ সফল করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

ছয় ঋতুর এই দেশে মৌসুমভেদে বিভিন্ন ফলের যে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে, তা সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রযুক্তির সঙ্গে সংস্কৃতির এই মেলবন্ধন শুধু একটি উৎসব নয়, বরং দেশীয় ফল, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়ার একটি অনন্য উদ্যোগ হিসেবেই ইসিএস ফল উৎসব প্রতি বছর নতুন মাত্রা যোগ করছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *