ডিএসই মোবাইল অ্যাপে শেয়ার লেনদেন, বিনিয়োগে নতুন গতি
ক.বি.ডেস্ক: দেশের পুঁজিবাজারে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ডিএসই মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচার প্রবণতা ধীরে ধীরে বাড়ছে। বিশেষ করে স্মার্টফোনের ব্যবহার বৃদ্ধি, ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তার এবং অনলাইন ট্রেডিং সুবিধার কারণে এখন বিনিয়োগকারীরা ঘরে বসেই সহজে পুঁজিবাজারে লেনদেন করতে পারছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ডিএসই (ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ) মোবাইল অ্যাপভিত্তিক ট্রেডিং ব্যবস্থা পুঁজিবাজারকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ এবং বিনিয়োগবান্ধব করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর পূর্ণ সুফল পেতে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
ডিএসই-এর অনুমোদিত ব্রোকারেজ হাউসগুলোর মোবাইল ট্রেডিং অ্যাপ ব্যবহার করে একজন বিনিয়োগকারী তার বিও অ্যাকাউন্ট ও ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত করে শেয়ার কেনা-বেচার আদেশ দিতে পারেন। এ ছাড়া অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণত যে সুবিধাগুলো পাওয়া যায়- রিয়েল-টাইম শেয়ার মূল্য দেখা; পোর্টফোলিও পর্যবেক্ষণ; অর্ডার প্রদান, সংশোধন ও বাতিল; লেনদেনের ইতিহাস দেখা; ওয়াচলিস্ট তৈরি এবং বাজারের বিভিন্ন সূচক ও তথ্য পর্যবেক্ষণ। ফলে বিনিয়োগকারীদের আর প্রতিবার ব্রোকারেজ হাউসে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন হয় না।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, কয়েকটি কারণে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ট্রেডিং জনপ্রিয় হচ্ছে- দ্রুত ও সহজ লেনদেন; যেকোনও স্থান থেকে বাজারে অংশগ্রহণ; সময় ও খরচ সাশ্রয়; তাৎক্ষণিক বাজার তথ্য পাওয়ার সুযোগ এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং ও মোবাইল আর্থিক সেবার সঙ্গে সহজ সমন্বয়। বিশেষ করে তরুণ বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ এখন মোবাইলনির্ভর ট্রেডিংকেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ মনে করছেন।
সুবিধার পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম- সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি; ফিশিং ও ভুয়া অ্যাপের মাধ্যমে প্রতারণা; দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগে অর্ডার কার্যকর হতে বিলম্ব এবং প্রযুক্তি সম্পর্কে সীমিত জ্ঞানসম্পন্ন বিনিয়োগকারীদের সমস্যায় পড়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং শুধুমাত্র অনুমোদিত অ্যাপ ব্যবহারের বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের সচেতন হতে হবে।
বিশ্বের উন্নত পুঁজিবাজারে অধিকাংশ খুচরা বিনিয়োগকারী মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেই লেনদেন করেন। বাংলাদেশেও একই ধারা তৈরি হচ্ছে। আগামী দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণ, ব্যক্তিগত বিনিয়োগ পরামর্শ, তাৎক্ষণিক নোটিফিকেশন, ডিজিটাল কেওয়াইসি এবং আরও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত হলে মোবাইল ট্রেডিং আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠতে পারে।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেনের বিস্তার বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারের তারল্য বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক দক্ষতা উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে এর জন্য প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
ডিজিটাল রুপান্তর ধারাবাহিকতায় পুঁজিবাজারেও মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। নিরাপদ, দ্রুত ও সহজ লেনদেন নিশ্চিত করা গেলে ডিএসই মোবাইল অ্যাপভিত্তিক ট্রেডিং ভবিষ্যতে দেশের পুঁজিবাজারকে আরও গতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।





