৫ বিলিয়ন ডলারের ই-কমার্সে ১০ লাখ উদ্যোক্তা, নতুন সরকারের কাছে ১৪ দফা দাবি
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক মৃধা (সোহেল মৃধা): চলতি বছর ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনের পর যে দলই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করুক না কেন, তাদের সামনে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও সামাজিক শক্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে অনলাইন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ লাখের অধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা ই-কমার্স, এফ-কমার্স এবং অনলাইনের মাধ্যমে ব্যবসা করছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বিশাল উদ্যোক্তা গোষ্ঠীর ওপর বর্তমানে দেশের প্রায় ৫০ লাখ মানুষের পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ নারী এবং শিক্ষিত যুবক, যারা কোনও সরকারি বা বেসরকারি চাকরির অপেক্ষায় না থেকে নিজেরা স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং অন্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। যদি সঠিক নীতিমালার অভাবে এই ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের এবং নারী উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখা না যায়, তবে দেশ এক ভয়াবহ বেকারত্বের সংকটে পড়বে।
লাখ লাখ মানুষ তাদের আয়ের পথ হারিয়ে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হবে এবং অনেক নতুন নতুন মানুষ পথ হারিয়ে বেকার হবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই ২০২৫ সালের বাস্তবতায় এই বিপুল জনশক্তিকে রক্ষা করতে এবং বেকারত্ব রোধে নতুন সরকারের কাছে ১৪ দফা দাবি জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হলো।
ই-কমার্স খাতের বর্তমান নেতৃত্বহীনতা ও ই-ক্যাবের গবেষণালব্ধ প্রস্তাবনা
বিগত ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের ই-কমার্স খাতের একমাত্র স্বীকৃত বাণিজ্যিক সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) বর্তমানে এক ধরণের নেতৃত্বহীনতা ও স্থগিত অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে সংগঠনটি প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় সাধারণ উদ্যোক্তাদের সমস্যা সমাধানে এক ধরণের স্থবিরতা বিরাজ করছে।
তবে ই-ক্যাবের দীর্ঘদিনের গবেষণালব্ধ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা যেমন- ‘ন্যাশনাল লজিস্টিক পলিসি’-তে ই-কমার্সকে অগ্রাধিকার দেয়া, ‘ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স’ নীতিমালা সহজীকরণ এবং ‘স্মার্ট পেমেন্ট ইকোসিস্টেম’ তৈরি করা এই খাতের প্রাণশক্তি। নির্বাচনের পর নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে এই দাবিগুলো বাস্তবায়নে ই-ক্যাবকে পুনরায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। অভিভাবকহীন এই সময়ে উদ্যোক্তারা যে প্রশাসনিক ও ব্যবসায়িক জটিলতায় পড়ছেন, তা নিরসনে নতুন সরকারকে শুরু থেকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি বিশেষ আহ্বান: নির্বাচনী ইশতেহার ও পরবর্তী বাস্তবায়ন
যেহেতু নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে, তাই দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ থাকবে, আপনাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ১০ লাখের অধিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার সুরক্ষা এবং বেকারত্ব দূরীকরণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করুন। নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব যেমন অপরিসীম, ঠিক তেমনি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর এই দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা আরও বেশি জরুরি। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, বরং এটি ৫ বিলিয়ন ডলারের ডিজিটাল বাজার গড়ার এক সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকারনামা হিসেবে গণ্য হবে।
১. উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও দেশব্যাপী বিশেষায়িত কারিগরি প্রশিক্ষণ
প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি উদ্যোগে ‘ডিজিটাল এন্টারপ্রেনারশিপ এক্সিলারেটর’ স্থাপন করতে হবে। যেখানে ডিজিটাল মার্কেটিং, ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং কাস্টমার রিলেশনশিপের ওপর সরকার স্বীকৃত দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। সঠিক নির্দেশনার অভাবে প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষুদ্র অনলাইন ব্যবসা শুরুর এক বছরের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করলে ঝরে পড়ার হার কমবে এবং শিক্ষিত বেকাররা পথ হারাবে না।
২. উদ্যোক্তা ও গ্রাহক নিরাপত্তা এবং পেমেন্ট গেটওয়ে সুরক্ষা
একটি শক্তিশালী ‘সেন্ট্রাল কমপ্লেইন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ কার্যকর করতে হবে। পেমেন্ট গেটওয়েগুলোতে ‘এস্ক্রো সার্ভিস’ আরও স্বচ্ছ করতে হবে যাতে গ্রাহকের টাকা এবং উদ্যোক্তার পণ্য উভয়ই সুরক্ষিত থাকে। সাইবার বুলিং ও হ্যাকিং রোধে উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা হেল্পডেস্ক’ স্থাপন করতে হবে। লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে ই-কমার্সের ওপর গণমানুষের আস্থা বাড়বে। এটি বাস্তবায়িত হলে ২০২৬ সাল নাগাদ ডিজিটাল লেনদেন বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে।
৩. ভ্যাট ও ট্যাক্স কাঠামোর আমূল সংস্কার ও ট্যাক্স হলিডে
ই-কমার্সকে আইটিইএস ঘোষণা করে বার্ষিক টার্নওভার ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ই-কমার্স এবং এফ-কমার্স উদ্যোক্তাদের জন্য আগামী ৫ বছর সম্পূর্ণ ‘ট্যাক্স হলিডে’ বা কর অবকাশ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। নতুন উদ্যোক্তারা শুরুতে মুনাফার চেয়ে টিকে থাকতে লড়াই করেন। শুরুতে করের চাপ কমিয়ে দিলে তারা এই অর্থ ব্যবসায় পুনরায় বিনিয়োগ করতে পারবে।
৪. জামানতবিহীন স্মার্ট লোন ও বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল
নারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য অন্তত ১ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। স্থাবর সম্পত্তির বদলে উদ্যোক্তার ডিজিটাল ট্রানজেকশন হিস্ট্রিকে ক্রেডিট স্কোর হিসেবে গণ্য করে ৫ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনা জামানতে ঋণ দিতে হবে।
৫. সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের জন্য অফিসিয়াল সাপোর্ট সেন্টার
মেটা, গুগল ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করে বাংলাদেশে তাদের অফিসিয়াল রিপ্রেজেন্টিটিভ বা সাপোর্ট সেন্টার নিশ্চিত করতে হবে। পেজ বা অ্যাড অ্যাকাউন্ট ডিজেবল হয়ে গেলে নারী উদ্যোক্তাদের পুঁজি ও ব্যবসা হুমকির মুখে পড়ে। সরাসরি সাপোর্ট থাকলে এই ঝুঁকি কমবে।
৬. স্মার্ট ডিবিআইডি ও লাইসেন্সিং সহজীকরণ
‘এক ব্যবসা, এক আইডি’ নীতি অনুসরণ করে স্মার্ট ডিবিআইডিকে একমাত্র ব্যবসায়িক বৈধতা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। এটি পেতে আলাদাভাবে কোনও ট্রেড লাইসেন্সের প্রয়োজন যেন না হয় এবং পুরো প্রক্রিয়াটি শতভাগ মোবাইল-বেজড ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের আওতায় আনতে হবে।
৭. লজিস্টিকস আধুনিকায়ন ও কুরিয়ার রেগুলেটরি বডি
জাতীয় লজিস্টিক নীতি ২০২৫-এর পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। ডাক বিভাগকে আধুনিকীকরণ করে একটি স্মার্ট ই-কুরিয়ার নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হবে এবং বেসরকারি কুরিয়ারগুলোর জন্য একটি শক্তিশালী রেগুলেটরি বডি গঠন করতে হবে যাতে পণ্য হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে সঠিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা যায়।
৮. ই-কমার্স বীমা পলিসি প্রবর্তন
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্প প্রিমিয়ামে ডিজিটাল কমার্স ইন্স্যুরেন্স পলিসি চালু করতে হবে। সরকার এই বীমার প্রিমিয়ামের একটি অংশ ভর্তুকি হিসেবে প্রদান করতে পারে।
৯. ই-কমার্স বিরোধ নিষ্পত্তি ট্রাইব্যুনাল বা ফাস্ট ট্র্যাক আদালত
ই-কমার্স সংক্রান্ত আইনি জটিলতা নিরসনের জন্য একটি পৃথক ডিজিটাল কমার্স ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করতে হবে অথবা বিদ্যমান ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে আরও বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
১০. পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংয়ে প্রণোদনা
যেসব উদ্যোক্তা পচনশীল বা পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং (যেমন: পাটের ব্যাগ বা রিসাইকেল কাগজ) ব্যবহার করবেন, তাদের জন্য ভ্যাট বা অন্যান্য ফি-তে বিশেষ ছাড় দিতে হবে।
১১. সরকারি কেনাকাটায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কোটা নির্ধারণ
সরকারি কেনাকাটা বা ই-জিপি-তে নির্দিষ্ট একটি শতাংশ (যেমন: ৫ থেকে ১০ শতাংশ) নিবন্ধিত দেশীয় ই-কমার্স বা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে সংগ্রহের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে।
১২. দেশীয় পণ্যের বিক্রিতে নগদ সহায়তা বা ইনসেন্টিভ
ই-কমার্সের মাধ্যমে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্য (যেমন: হস্তশিল্প, জামদানি, পাটজাত পণ্য) বিক্রির ওপর নির্দিষ্ট হারে নগদ প্রণোদনা দিতে হবে।
১৩. ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স ও পণ্য রপ্তানি সুবিধা
ই-ক্যাবের ভিশন অনুযায়ী ই-কমার্সের মাধ্যমে ক্ষুদ্র চালানে পণ্য রপ্তানি সহজ করতে হবে। বিদেশে পণ্য পাঠানোর শিপিং চার্জে কমপক্ষে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ভর্তুকি প্রদান করতে হবে।
১৪. সাশ্রয়ী ইন্টারনেট ও ডিজিটাল পেমেন্টে প্রণোদনা
উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ এন্টারপ্রেনার ডেটা প্যাকেজ চালু করতে হবে। ডিজিটাল পেমেন্টে (বিকাশ, নগদ বা কার্ড) গ্রাহকদের সরাসরি ২ থেকে ৩ শতাংশ ইনসেন্টিভ দিতে হবে।
নীতিমালার আধুনিকায়ন: বর্তমান প্রেক্ষাপটে কি নতুন নীতিমালা প্রয়োজন
বর্তমানে বিদ্যমান ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১ মূলত নিয়ন্ত্রণের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে, কিন্তু উদ্যোক্তাদের বিকাশে এটি এখনও অপর্যাপ্ত। নতুন সরকারের কাছে আমাদের দাবি, কেবল নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়, বরং ডিজিটাল কমার্স প্রমোশন অ্যাক্ট নামে একটি নতুন ও আধুনিক আইন প্রণয়ন করা হোক। বর্তমান নীতিমালার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে যেখানে উদ্যোক্তাদের সামাজিক মর্যাদা, ব্যবসায়িক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের বিষয়গুলো প্রধান্য পাবে। একটি সমন্বিত নীতিমালা থাকলে উদ্যোক্তাদের পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হবে না।
১৪ দফা দাবি ও নতুন নীতিমালার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের বিশাল সম্ভাবনা
যদি এই ১৪ দফা দাবি এবং আধুনিক নীতিমালা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে আগামী ৫ বছরে এই খাতে কর্মসংস্থানের এক বৈপ্লবিক চিত্র দেখা যাবে-
সরাসরি কর্মসংস্থানে বর্তমানে ১০ লক্ষ উদ্যোক্তার সংখ্যা বেড়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ লক্ষে পৌঁছানো সম্ভব। এই খাতের ওপর নির্ভরশীল ১.৫ কোটি থেকে ২ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে। বেকারত্ব দূরীকরণে শিক্ষিত বেকারত্বের হার নাটকীয়ভাবে কমবে। কারণ তরুণরা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। নারীর ক্ষমতায়নে অন্তত আরও ২০ লক্ষ নারী ঘরে বসে ব্যবসা করার সুযোগ পাবেন, যা জিডিপিতে নারীর অংশগ্রহণ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নতুন সরকারের কাছে এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দলগুলোর কাছে এটি ১০ লক্ষ উদ্যোক্তা এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল ৫০ লক্ষ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির সনদ। যদি এই ক্ষুদ্র ও মাঝারি অনলাইন উদ্যোক্তাদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়া হয়, তবে দেশে বেকারত্বের হার ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। আমরা বিশ্বাস করি, ই-ক্যাবের প্রাতিষ্ঠানিক স্থবিরতা কাটিয়ে এবং এই ১৪ দফা দাবি ও নতুন নীতিমালার বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০২৬ সাল হবে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির এক স্বর্ণযুগে প্রবেশের বছর।





